এটি ২০১৮ সালে নেদারল্যান্ডে এক সামরিক অনুশীলনের ভিডিও

কপিরাইট এএফপি ২০১৭-২০২২। সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত।

কয়েকটি সামরিক হেলিকপ্টার দিয়ে ট্যাঙ্ক তুলে নেয়ার একটি ভিডিও ফেসবুকে কয়েক লক্ষবার দেখা হয়েছে এবং দাবি করা হচ্ছে ভিডিওটিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। পূর্ব ইউরোপের দেশটিতে প্রতিবেশি দেশ রাশিয়ার আক্রমণ তীব্রতর হওয়ার প্রেক্ষিতে ক্লিপটি শেয়ার করা হচ্ছে। তবে মূলত এই ভিডিও ক্লিপটিতে ২০১৮ সালে নেদারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এক সামরিক অনুশীলনের।

গত ৬ মার্চের এক ফেসবুক পোস্টে ভিডিওটি শেয়ার করে ক্যাপশনে লেখা হয়, “ইউক্রেনের সেনাঘাটিতে রাশিয়ার ভয়ংকর বিমান হামলা!! উঠিয়ে নিয়ে যাচ্ছে শক্তিশালী যুদ্ধ ট্যাংকার গাড়ি।”

৭ মিনিটের ফুটেজটিতে দেখা যায় কিছু সামরিক হেলিকপ্টার এর মাধ্যমে ট্যাঙ্ক তুলে নেয়া হচ্ছে।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর রাজধানী কিয়েভসহ অন্যান্য শহরে সম্প্রতি হামলা জোরদার করেছে।

ভিডিওটি ফেসবুকে একইরকম পোস্টে এখানে এখানে শেয়ার করা হয়।

তবে দাবিটি অসত্য।

সামরিক অনুশীলন

রিভার্স ইমেজ সার্চে দেখা যায় ৭ মিনিট দৈর্ঘ্যের ফুটেজটি ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট ইউটিউবে আপলোড করা হয়। মিলিটারি আর্কাইভ নামক একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি ডাচ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সৌজন্যে পোস্ট করা হয়।

ভিডিওটির বর্ণনায় বলা হয় এটি “অনুশীলন ফলকন শরৎ ২০১৮” নামক নেদারল্যান্ডের একটি সামরিক অনুশীলন যা ২০১৮ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়।

নীচে বিভ্রান্তিকর ফেসবুক পোস্টের ভিডিও (বামে) ও ২০১৯ সালের ইউটিউব ভিডিওর (ডানে) একটি তুলনামূলক স্ক্রিনশট দেওয়া হলো:

সমারিক অনুশীলনটির নামের সূত্র ধরে কীওয়ার্ড সার্চ দিয়ে ২০১৮ সালের ১২ অক্টোবর রয়্যাল নেদারল্যান্ড এয়ার ফোর্সের ফেসবুক পেজে পোস্ট করা একটি ভিডিও পাওয়া যায় যার সাথে বিভ্রান্তিকর ভিডিওটির মিল পাওয়া যায়।

একই ভিডিও সামরিক অনুশীলনটি নিয়ে ডাচ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনেও প্রকাশিত হয়।

নীচে বিভ্রান্তিকর ফেসবুক পোস্টের ভিডিও (বামে) ও ডাচ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ভিডিওর (ডানে) একটি তুলনামূলক স্ক্রিনশট দেওয়া হলো:

ডাচ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র এএফপিকে জানান, সাত মিনিট দৈর্ঘ্যের ভিডিওটি ‘মন্ত্রণালয়ের তৈরী’।

ইউক্রেন সংঘাত ইস্যুতে এএফপি নিয়মিত ভুয়া তথ্য খণ্ডন করছে। দেখুন এখানে

ইউক্রেন সংঘাত