ভিডিওটিতে ২০১১ সালে লিবিয়ান বিদ্রোহীদের দ্বারা একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হতে দেখা যাচ্ছে

কপিরাইট এএফপি ২০১৭-২০২২। সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত।

আগুন ধরে যাওয়া একটি বিমান আকাশ থেকে পাক খেয়ে নীচের দিকে পতিত হচ্ছে এরকম দৃশ্যের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে এটি এবছরের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী কর্তৃক রাশিয়ান যুদ্ধবিমান ধ্বংসের ভিডিও। দাবিটি অসত্য; ভিডিওটি ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার আগে থেকেই অনলাইনে ছিল এবং এতে ২০১১ সালে লিবিয়ায় বিদ্রোহীদের আক্রমণের শিকার একটি যুদ্ধবিমান দেখা যাচ্ছে।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ভিডিওটি ফেসবুকে এখানে শেয়ার করা হয়।

( Mohammad MAZED)

পোস্টটির বাংলা ক্যাপশনে লেখা রয়েছে, “রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে মুখোমুখি অবস্থানে ।।
ভিডিও রাশিয়ান বিমান ভূপাতিত হচ্ছে মাটিতে পড়ে।”

ভিডিও ক্লিপটিতে একটি বিমানে আগুন ধরে আকাশ থেকে নীচের দিকে পড়ে যেতে দেখা যায়।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া প্রতিবেশি দেশ ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে। এর প্রেক্ষিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পুরোদমে যুদ্ধের ঘোষণা দেন।

সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত যুদ্ধে কয়েকশ সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন এবং দশ লাখের বেশি মানুষ ইউক্রেন ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।

ভিডিওটি একইরকম দাবিসহকারে ফেসবুকে এখানে এখানে শেয়ার করা হয়।

তবে ভিডিও ক্লিপটি বিভ্রান্তিকরভাবে শেয়ার করে হচ্ছে।

রিভার্স ইমেজ সার্চ ও কীওয়ার্ড সার্চে দেখা যায় ফুটেজটি ২০১১ সালের ১৯ মার্চ সংবাদ সংস্থা এসোসিয়েটেড প্রেসে (এপি) প্রকাশিত হয়।

ইউটিউবে প্রকাশিত ভিডিওটির শিরোনাম ছিল, “লিবিয়ান বিদ্রোহী কর্তৃক বিমান ধ্বংস।”

ভিডিওটির বর্ণনাতে লেখা রয়েছে, “মুয়াম্মার গাদ্দাফির সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতির আহ্বানকে অস্বীকার করার অভিযোগের মধ্যে লিবিয়ার বিদ্রোহীরা শনিবার তাদের পূর্বাঞ্চলীয় দুর্গ বেনগাজিতে বোমা হামলাকারী একটি যুদ্ধবিমানকে গুলি করে ভূপাতিত করেছে।”

নীচে বিভ্রান্তিকর ফেসবুক পোস্টের ভিডিও (বামে) ও এপি'র ভিডিওর (ডানে) একটি তুলনামূলক স্ক্রিনশট দেওয়া হলো:

২০১১ সালের ১৯ মে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ফোরে জেট বিমানটির ধ্বংসের একটি প্রতিবেদনের সাথেও ভিডিওটি প্রকাশিত হয়।

ইউক্রেন সংঘাত