ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে ইসরায়েলি সেনার সাথে বিতণ্ডায় লিপ্ত এক ফিলিস্তিনি তরুণী

কপিরাইট এএফপি ২০১৭-২০২২। সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত।

ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়েছে যেখানে দাবি করা হচ্ছে যে, একজন ইউক্রেনীয় তরুণী রাশিয়ান এক সৈন্যকে রাস্তায় থামিয়ে শাসাচ্ছেন। কিন্তু দাবটি অসত্য। প্রকৃতপক্ষে ভিডিওতে দৃশ্যমান তরুণীর নাম আহেদ তামিমি। ফিলিস্তিনি এই অ্যাক্টিভিস্ট অধিকৃত পশ্চিমতীরে ২০১২ সালে ইসরায়েলি এক সৈন্যকে বাঁধা দেয়ার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে ভিডিওতে।

রাশিয়া কর্তৃক ইউক্রেনে হামলা শুরুর পর গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ভিডিওটি এখানে পোস্ট করা হয়।

ভিডিওর ক্যাপশনে বাংলায় লেখা হয়েছে: "দেশপ্রেম কি শেখার আছে এই শিশুকন্যার কাছ থেকে। দখলদার সৈন্য কে শিশুটির প্রশ্ন। what want to do. দখলদার রুশ সৈন্যকে তুমি কি করতে চাও আমাদের বলেই মারতে উদ্যত শিশুটির সৎ সাহসের প্রশংসা করলে কমই হবে।"

একইরকম দাবি সহকারে ভিডিওটি এখানে এখানে পোস্ট করা হয়েছে। অন্যান্য ভাষাও ভিডিওটি কিম্বা ভিডিও থেকে নেয়া স্ক্রিনশট একইরকম দাবি সহকারে ভাইরাল হয়েছে। দেখুন এখানে এখানে

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণ সামরিক আক্রমণ শুরুর পর ভিডিওটি সংঘাতের সাথে সংশ্লিষ্ট করে ছড়ানো হয়েছে।

কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ভিডিওটির সাথে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কোনো সংযোগ নেই। এটি ফিলিস্তিনের পশ্চিমতীরের একটি ঘটনার ভিডিও।

পশ্চিম তীরের ভিডিও

রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ভিডিওটি এই ইউটিউব চ্যানেল পাওয়া গেছে যা ২০১২ সালের ২৪ ডিসেম্বর আপলোড করা হয়েছে। ভিডিওতে দখলকৃত পশ্চিমতীরে ইসরায়েলি সৈন্যের সাথে বাদানুবাদে লিপ্ত তরুণী হলেন আহেদ তামিমি তখন যার বয়স ছিল ১১ বছর।

তখন আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় তামিমির ছবি ও এই ভিডিও ব্যাপকভাবে প্রচারিত হলে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান তাকে ২০১২ সালে আমন্ত্রণ জানিয়ে সাক্ষাত করেন।

তখন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এ সংক্রান্ত খবর পড়ুন এখানে, এখানে এখানে

বিগত পাঁচ দশক ধরে গাজা উপত্যকা ও পশ্চিমতীর নিয়ন্ত্রণের জন্য লড়াই করে আসছে।

তামিমি ফিলিস্তিনি প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে ওঠেন।

তামিমি ফিলিস্তিনি প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে ওঠেন ( AFP / DANIEL LEAL)


পশ্চিমতীরে দুজন ইসরায়েলি সৈন্যকে আঘাত ও ঘুষি মারা দায়ে ২০১৮ সালে আট মাস জেল খাটেন আহেদ তামিমি।

ইউক্রেন সংঘাত