ভারতে হিজাব বিতর্কের প্রেক্ষিতে এক নারীর ছবি ফেসবুকে বিভ্রান্তিকরভাবে প্রচার

ভারতের দক্ষিণের কর্ণাটক রাজ্যের স্কুলে হিজাব পরিধানে নিষেধাজ্ঞার পর দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়া প্রতিবাদের প্রেক্ষিতে ফেসবুকে দুটি ছবি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে ছবি দু'টি কর্ণাটকে হিজাব পরার কারণে হেনস্তার শিকার হওয়া এক ছাত্রীর। দু'টি ছবি পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে এতে এই ছাত্রীকে হিজাব ছাড়া দেখা যাচ্ছে যা তার কপটতার প্রমাণ। দাবিটি অসত্য; হিজাব ছাড়া ছবি দু'টি মূলত ভিন্ন এক নারীর যিনি তার ছবিগুলো বিভ্রান্তিকরভাবে ছড়ানো হচ্ছে বলে এএফপিকে জানিয়েছেন।

ছবি দু'টি একটি ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশটসহ গত ৯ ফেব্রুয়ারি ফেসবুকে এখানে শেয়ার করা হয়।

Image
বিভ্রান্তিকর ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট

পোস্টটির ক্যাপশনে লেখা রয়েছে, “ভারতীয় মুসকানদের নেপথ্যে রয়েছে মৌলবাদী গোড়া ধর্মীয় শক্তি, যা একসময় ভারতবর্ষ কে তিন টুকরো করে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সৃষ্টি করেছিল।”

স্ক্রিনশটটির পোস্টের ক্যাপশনে লেখা রয়েছে, “ভারতের মুসকান। অন্য সময়ে স্কার্ট, জিন্স পরিধান করে। শুধু কলেজেই বোরখা পরে যায়। এইগুলান যে কোন লেভেলের ধর্মীয় বদমাশ সেটা চিন্তারও বাইরে। মাঝখানে ধর্মীয় জজবা চ্যাতায়ে দিয়ে আসন্ন নির্বাচনে বিজেপির লাভ করে দিলো।”

সম্প্রতি ভারতের কর্ণাটকে হিজাব পরে কলেজে আসার কারণে হিন্দু কয়েকজন যুবক কর্তৃক এক মুসলমান ছাত্রীকে হেনস্তা করার একটি ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে এই ছাত্রীর নাম মুসকান খান বলে জানা যায় এবং তিনি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি দ্য ওয়্যার-এ সাক্ষাতকার দেন।

কর্ণাটকের একটি স্কুলে হিজাব পরিধানে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়লে ভারতের বিভিন্ন শহরে ধর্মীয় উত্তেজনা দেখা দেয়।

ছবিটি একইরকম দাবি সহকারে ফেসবুকে এখানে এখানে শেয়ার করা হয়।

দাবিটি অসত্য।

হিজাব ব্যতীত নারীর ছবি দু'টি মুসকান খানের নয়।

প্রথম ছবি

রিভার্স ইমেজ সার্চে দেখা যায় ছবিটি ২০১৮ সালের ১৩ মে নাজমা নাজির নামের একটি ফেসবুক প্রোফাইল থেকে পোস্ট করা হয়।

নীচে বিভ্রান্তিকর ফেসবুক পোস্টের ছবি (বামে) ও নাজমার ফেসবুক প্রোফাইলের ছবির (ডানে) একটি তুলনামূলক স্ক্রিনশট দেওয়া হলো:

Image
বিভ্রান্তিকর ফেসবুক পোস্ট (বামে) ও নাজমা নাজিরের ফেসবুক প্রোফাইলের ছবির (ডানে) তুলনামূলক স্ক্রিনশট

দ্বিতীয় ছবি

অপর ছবিটি ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর নাজমা তার প্রোফাইল থেকে পোস্ট করেন।

নীচে বিভ্রান্তিকর ফেসবুক পোস্টের ছবি (বামে) ও নাজমার ফেসবুক প্রোফাইলের ছবির (ডানে) একটি তুলনামূলক স্ক্রিনশট দেওয়া হলো:

Image
বিভ্রান্তিকর ফেসবুক পোস্ট (বামে) ও নাজমা নাজিরের ফেসবুক প্রোফাইলের ছবির (ডানে) তুলনামূলক স্ক্রিনশট

নাজমা নাজির নিজেকে একজন সমাজকর্মী বলে পরিচয় দেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি ২০২০ সালে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল ‘জনতা দলে’ যোগদান করেন।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে তার ছবিটি হিজাব বিতর্কের প্রেক্ষিতে অপব্যবহার করা হচ্ছে বলে তিনি এএপফি’কে জানান।

তিনি বলেন, “তারা আমার ছবি শেয়ার করছে কারণ আমি সাংবিধানিক অধিকার আদায়ে কাজ করি এবং এজন্য তারা আমার বিরুদ্ধে।”

এমন কোনো কন্টেন্ট আছে যা আপনি এএফপি’কে দিয়ে ফ্যাক্ট চেক করাতে চান?

আমাদের সাথে যোগাযোগ