বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বন্যা প্লাবিত ছবিগুলো এআই দিয়ে তৈরি
- প্রকাশিত 22 জুলাই 2026, 15:26
- 2 এক্স মিনিটে পড়ুন
- লেখক: Rasheek MUJIB, AFP বাংলাদেশ
দেশ জুড়ে অবিরাম ভারী বর্ষণে বিভিন্ন এলাকায় একাধিক আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বন্যায় পার্বত্য অঞ্চল ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। তবে শহরের একটি প্রধান ফ্লাইওভার পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার দাবিতে অনলাইনে ছড়ানো ছবিগুলো সম্পাদিত। ছবিগুলো গুগল এআই টুল ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে বলে চিহ্নিত করা গেছে। এছাড়া ওই এলাকায় দায়িত্ব পালনকারী এএফপি-র একজন সংবাদদাতা জানিয়েছেন যে, ছবিতে যেমন দেখানো হয়েছে, বন্যার পানি ততটা উঁচুতে ওঠেনি। তীব্র জলাবদ্ধতার সময়ও পানি সর্বোচ্চ কোমর-সমান উচ্চতায় পৌঁছেছিল।
১০ জুলাই ২০২৬ তারিখে ছড়ানো একটি ফেসবুক পোস্টের ক্যাপশনে বলা হয়, “আজ পুরো চট্টগ্রাম পানিতে ডুবে যাচ্ছে, অথচ তেমন কোনো মানুষের দৃষ্টি নেই। বড় কোনো মিডিয়াতেও তেমন গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ প্রকাশ হচ্ছে না, সুশীল সমাজেও নেই উল্লেখযোগ্য আলোচনা।”
পোস্টের সাথে যুক্ত দুটি ছবিতে নদীর নিকটবর্তী একটি প্লাবিত শহুরে এলাকা এবং সেখানে একটি ফ্লাইওভারকে পানির নিচে তলিয়ে যেতে দেখা যায়।
ভারী বৃষ্টিপাত ও পাগাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় চট্টগ্রাম ও আশপাশের কয়েকটি জেলায় দুর্যোগ পরিস্থিতি তীব্র আকার ধারণ করলে একই ধরণের দাবিতে ছবিটি ফেসবুক এবং ইউটিউবে ছড়ানো হয়(আর্কাইভ লিংক)।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের কারণে সারাদেশে এ পর্যন্ত ৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন। তবে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছে (আর্কাইভ লিংক এখানে এবং এখানে)।
কিন্তু বন্যায় পানির নিচে ফ্লাইওভার তলিয়ে যাওয়ার দাবিতে ছড়ানো ছবিগুলো এআই দিয়ে তৈরি।
এআই দিয়ে তৈরি ছবি
ছবিতে দৃশ্যমান সড়কটিকে চট্টগ্রামের আখতারুজ্জামান চৌধুরী ফ্লাইওভার বলে শনাক্ত করেছে এএফপি-র একজন সংবাদদাতা। ফ্লাইওভারটি বন্দরনগরীর বৃহত্তম হাইওয়ে ওভারপাস, যা ‘মুরাদপুর-লালখান বাজার ফ্লাইওভার’ হিসেবেও পরিচিত।
ওই সংবাদদাতার তথ্য মতে, ফ্লাইওভারের নিচের সড়কগুলোতে বন্যার পানি সাধারণত হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত উঠে। তবে ফ্লাইওভারটি বন্যায় না ডুবে চলাচলের উপযোগী থাকে।
গুগল ম্যাপে ওপর থেকে তোলা ফ্লাইওভারের ছবির নিবিড় পর্যবেক্ষণে ফ্লাইওভারে বাঁকের কাছে একাধিক বহুতল ভবন দেখা যায়। যদিও অসত্য ছবিগুলোতে ওই এলাকার চারপাশে নিচু জমি দেখানো হয় (আর্কাইভ লিংক)। অসত্য ছবিগুলোতে গাছপালাসহ খোলা জায়গাও রয়েছে, যার সাথে গুগল ম্যাপের দৃশ্যের কোনো মিল নেই।
এএফপি-র এক বিশ্লেষণে ছবিগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি স্বভাবগত কিছু অসঙ্গতিও ধরা পড়ে। যেমন—একই স্থানের দ্বিতীয় ছবিটিতে উঁচু ভবনের মধ্য দিয়ে জলযান চলাচল করতে এবং রাস্তাগুলো পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে যেতে দেখা যায়।
ছবি যাচাইয়ের টুল সিন্থআইডিতে ছবিগুলোর বিশ্লেষণের ফলাফলে দেখা যায়, ছবিগুলো গুগল এআই-এর মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে।
এএফপি বাংলাদেশের বন্যা নিয়ে অন্যান্য ভুল তথ্য খণ্ডন করেছে এখানে।
কপিরাইট © এএফপি ২০১৭-২০২৬। এই কন্টেন্টের যেকোন বানিজ্যিক ব্যবহারের জন্য অনুমতি নেয়া বাধ্যতামূলক। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।
এমন কোনো কন্টেন্ট আছে যা আপনি এএফপি’কে দিয়ে ফ্যাক্ট চেক করাতে চান?
আমাদের সাথে যোগাযোগ