ফ্যামিলি ট্যুরের পুরনো ভিডিওকে অসত্যভাবে চট্টগ্রামের বন্যার সাথে সম্পৃক্ত করে প্রচার
- প্রকাশিত 16 জুলাই 2026, 13:32
- 2 এক্স মিনিটে পড়ুন
- লেখক: Eyamin SAJID, AFP বাংলাদেশ
ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৫০ জন নিহত এবং হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। তবে জলমগ্ন এলাকায় একটি গাছের ডালে একজন নারীর আশ্রয় নেয়ার ভিডিওটি সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতির নয়। যদিও সামাজিক মাধ্যমের পোস্টে ভিডিওটিকে অসত্যভাবে চট্টগ্রামের বন্যার দৃশ্য বলে দাবি করা হয়েছে। ক্লিপটি ২০২৪ সালের জুলাই মাসে টাঙ্গুয়ার হাওরে ঘুরতে যাওয়া একজন নারী ফেসবুকে পোস্ট করেন। ভিডিওটির সাথে সাম্প্রতিক দুর্যোগের কোনো সম্পর্ক নেই বলে এএফপিকে জানিয়েছেন ওই নারী পর্যটক।
১১ জুলাই ২০২৬ তারিখে ছড়ানো একটি ফেসবুক পোস্টের ক্যাপশনে বলা হয়, “গর্ভবতী মা তার পেটে নয় মাসের সন্তান নিয়ে গাছের উপর উঠেছেন জীবন বাঁচাতে। আহারে জীবন।”
পোস্টের সাথে যুক্ত একটি ভিডিওতে একটি জলমগ্ন এলাকায় একটি গাছের ওপর একজন নারীকে উঠে বসার চেষ্টা করতে দেখা যায়।
ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৫০ জন নিহত এবং হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়ে তখন একই ধরণের ফেসবুক পোস্টে ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো হয়(আর্কাইভ লিংক)।
বন্যায় দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় চট্টগ্রাম বিভাগের কয়েকটি জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব এলাকায় বৃষ্টি ও বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, রাস্তাঘাট ও বাজার তলিয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্যোগে পুরো অঞ্চল জুড়ে হাজার হাজার গবাদি পশু ও হাস-মুরগি মারা গেছে(আর্কাইভ লিংক)।
এসব পোস্টে “বন্যাদুর্গতদের ওপর সৃষ্টিকর্তার করুণ কামনা” করে লিখা মন্তব্য দেখে মনে হচ্ছে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীরা ভিডিওটিকে সাম্প্রতিক দুর্যোগের চিত্র হিসেবে বিশ্বাস করেছেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ভিডিওটি পারিবারিক ভ্রমনে বের হওয়া একজন পর্যটকের।
জলাভূমিতে নারী পর্যটকের ভিডিও
অসত্যভাবে ছড়ানো ভিডিওটির কিফ্রেম নিয়ে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ একই ভিডিও একটি ফেসবুক পোস্টে পাওয়া যায়, যা ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই তারিখে প্রকাশ করা হয়েছিল(আর্কাইভ লিংক)।
পোস্টের ক্যাপশনে বলা হয়, “টাঙ্গুয়ার হাওর।” সুনামগঞ্জ জেলায় অবস্থিত এই প্রাকৃতিক জলাধারকে রামসার আন্তর্জাতিক পরিবেশ চুক্তির আওতায় গুরুত্ব বিবেচনায় জলাভূমি হিসেবে ঘোষণা করা হয় (আর্কাইভ এখানে ও এখানে)।
বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক ও জলজ বৈশিষ্ট্য স্থানটিকে দেশের একটি জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণে পরিণত করেছে।
ভাইরাল ভিডিওতে দৃশ্যমান ওই নারীর সাথে যোগাযোগ করেছে এএফপি। ভিডিওটি ২০২৪ সালের জুলাই মাসে একটি “ফ্যামেলি ট্যুরের” সময় ধারণ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।
পেশায় শিক্ষক অঞ্জনা আবেদিন ১৩ জুলাই ২০২৬ এএফপিকে বলেন, “ভিডিওর ওই নারী আমি। পরিবারের সদস্যদেরকে নিয়ে টাঙ্গুয়ার হাওরে ঘুরতে গেলে ১৩ জুলাই ২০২৪ আমার ছেলে ভিডিওটি ধারণ করে। দুই দিন পর ভিডিওটি আমি আমার পেজে পোস্ট করি।”
তিনি বলেন, “কিছু কন্টেন্ট ক্রিয়টর ভিডিওটি আমার পেজ থেকে চুরি করে নিয়ে চট্টগ্রামের বন্যার দৃশ্য হিসেবে ছড়াচ্ছে।”
অসত্য দাবিটি খণ্ডন করে সম্প্রতি একটি ফেসবুক পোস্টে ভিডিওটিকে “টাঙ্গুয়ার হাওরের” দৃশ্য বলে জানান তিনি(আর্কাইভ লিংক)।
এএফপি এর আগেও দুর্যেোগ নিয়ে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর তথ্য খণ্ডনে করেছে এখানে।
কপিরাইট © এএফপি ২০১৭-২০২৬। এই কন্টেন্টের যেকোন বানিজ্যিক ব্যবহারের জন্য অনুমতি নেয়া বাধ্যতামূলক। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।
এমন কোনো কন্টেন্ট আছে যা আপনি এএফপি’কে দিয়ে ফ্যাক্ট চেক করাতে চান?
আমাদের সাথে যোগাযোগ