বিশ্বকাপ ম্যাচে ইরানি ফুটবলারদের প্রার্থনা করার ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই ইরান ফুটবল বিশ্বকাপের আসরে অংশ নিয়েছে। তবে ফুটবল মাঠে ইরানি খেলোয়াড়দের সেজদারত অনলাইনে ছড়ানো ছবিগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি। ছবিগুলোতে এমন কিছু দৃশ্যগত অসঙ্গতি রয়েছে, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরির ইঙ্গিত দেয়। এছাড়া ছবিগুলো ওপেনএআই টুল ব্যবহার করে তৈরি বলেও চিহ্নিত করা গেছে।  
ইরানের সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোর ছবি ধারণ করেছেন এএফপির এমন একজন ফটোগ্রাফারও নিশ্চিত করেছেন যে, মাঠের মধ্যে প্রার্থনার এমন কোনও ঘটনা ঘটেনি।  

১৫ জুন ২০২৬ তারিখে ছড়ানো একটি ফেসবুক পোস্টের ক্যাপশনে বলা হয়, “বিশ্বকাপের মঞ্চে শুধু ফুটবল নয়, কুরআনের প্রতিও গভীর ভালোবাসা ও সম্মান দেখাল ইরানের ফুটবল দল।” 

ছবিটিতে ইরানি খেলোয়াড়দেরকে কুরআনকে সামনে রেখে মাঠের মধ্যে মাথা ঠেকিয়ে সেজদা করতে দেখা যায়। 

১৬ জুন ফেসবুকে একই ধরনের ক্যাপশনসহ পোস্ট করা আরেকটি ছবিতে দেখা যায়, ইরানি খেলোয়াড়রা মাঠের মাঝখানে কুরআন রেখে সবাই গোল হয়ে সেজদা করছেন। 

Image
এএফপির যোগ করা ক্রস চিহ্ন ও এআই প্রতীকসহ ২১ জুন ২০২৬ তারিখে নেয়া অসত্য পোস্টের স্ক্রিনশট

১৫ জুন ২০২৬ তারিখে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ইরানের প্রথম ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হওয়ার পর ছবিগুলো ফেসবুকে অন্যত্র ছড়ানো হয় (আর্কাইভ লিংক)। 

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে টুর্নামেন্টে দলটির অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে ম্যাচটি লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত হয়। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়(আর্কাইভ লিংক এখানে এবং এখানে)। 

পরবর্তীতে ২০ জুন ইরান তাদের দ্বিতীয় ম্যাচটি বেলজিয়ামের সাথে খেলে এবং গোলশূন্য ড্র করে(আর্কাইভ লিংক)। 

তবে ছবিগুলো এআই দিয়ে তৈরি এবং ইরানের দুটি ম্যাচের ছবি তুলেছেন এএফপির এমন একজন ফটোগ্রাফার জানান, ম্যাচ চলাকালে কোনও ইসলামী প্রার্থনা বা সেজদা করা হয়নি।

এআই দিয়ে তৈরি

এএফপির ফটোগ্রাফার প্যাট্রিক ফ্যালন বলেন, “ভাইরাল হওয়া ছবিগুলোতে যে স্টেডিয়ামটি দেখানো হয়েছে, সেটি কোন ভাবেই লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়াম নয়, কারণ ওই স্টেডিয়ামটিতে স্থায়ী ছাদ বা গম্বুজ কাঠামোর পাশাপাশি 'ইনফিনিটি স্ক্রিন'ও রয়েছে,"

Image
অসত্যভাবে ছড়ানো ছবি(বামে) এবং এএফপির ছবির তুলনামূলক স্ক্রিনশট

এছাড়া, ছবিগুলোতে এআই দিয়ে তৈরি ভিজ্যুয়ালের কিছু সাধারণ অসঙ্গতিও রয়েছে। এসব অসঙ্গতির মধ্যে রয়েছে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের প্রতীকযুক্ত লোগো, কয়েকজন খেলোয়াড়ের একই জার্সি নম্বর এবং খেলোয়াড়ের নামের পরিবর্তে বেশ কয়েকটি জার্সিতে 'ইরানিয়ান' লেখা(আর্কাইভ লিংক)। 

Image
দৃশ্যগত অসঙ্গতি চিহ্নিত করে এএফপির যোগ করা এআই প্রতীকসহ ছবিগুলোর স্ক্রিনশট

ছবিগুলোর আরও বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, সেগুলো ওপেনএআই টুল ব্যবহার করে তৈরি করা হয়। 

Image
ওপেনএআই ভেরিফিকেশন টুলের ফলাফলের স্ক্রিনশট

এএফপি বিশ্বকাপ নিয়ে অন্যান্য অপতথ্য খণ্ডন করেছে এখানে, এখানে এবং এখানে। 

এমন কোনো কন্টেন্ট আছে যা আপনি এএফপি’কে দিয়ে ফ্যাক্ট চেক করাতে চান?

আমাদের সাথে যোগাযোগ