পুরনো ভিডিওকে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মিছিল হিসেবে অসত্যভাবে প্রচার

কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং নজরদারি সত্বেও দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে নিজেদের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। তবে লাঠি ও বর্শা হাতে রাস্তায় মিছিলরত মানুষের অনলাইনে ছড়ানো ভিডিওটি ২০২৬ সালের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর নয়। প্রকৃতপক্ষে ভিডিওগুলো ২০২৪ সালের। তখন শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন গণ-অভ্যুত্থানে হাসিনা ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে পালিয়ে আশ্রয় নেন। 

২৩ জুন ২০২৬ তারিখে ছড়ানো একটি ফেসবুক পোস্টের ক্যাপশনে বলা হয়, “বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিল।”

পোস্টে যুক্ত ৩২ সেকেন্ডের একটি ক্লিপে লাঠিসোঁটা হাতে বিপুল সংখ্যক জনতাকে একটি রাস্তায় মিছিল করতে দেখা যায়। এ সময় তাদেরকে “শেখ হাসিনার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই” এমন স্লোগান দিতে দেখা যায়। 

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ২১ জুন ফেসবুক পোস্টে আরও একটি ভিডিও ছড়ানো হয়। 

ফুটেজে এক বিশাল জনসমাবেশকে ঢাল, তলোয়ার, বর্শা ও লাঠির মতো অস্ত্র উঁচিয়ে মিছিল করতে দেখা যায়। 

Image
এএফপির যোগ করা লাল ক্রসচিহ্নসহ ২৫ জুন ২০২৬ তারিখে নেয়া অসত্য পোস্টের স্ক্রিনশট

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে অনুরূপ ফুটেজ বিভিন্ন ফেসবুকপোস্টে ছড়ানো হয়(আর্কাইভ লিংক)।

দিবসটি ঘিরে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়িয়ে আইন-শৃঙ্খলা নির্বিঘ্ন রাখতে দেশের ছয়টি জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে সরকার। এমন পরিস্থিতিতে মিছিল ও সমাবেশের প্রস্তুতির অভিযোগে সারাদেশ থেকে কয়েক ডজন আওয়ামী লীগ কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ(আর্কাইভ এখানে ও এখানে)।  

শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন গণ-অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে হাসিনার পতনের পর ২০২৫ সালের ১০ মে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করে সরকার(আর্কাইভ লিংক)। পতনের পর পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেয় শেখ হাসিনা। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ঢাকার আদালত থেকে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা অমান্য করে ভারতে স্বেচ্ছায় নির্বাসনে রয়েছেন তিনি(আর্কাইভ লিংক)। 

এদিকে হাসিনা সরকারের পতনের পর তার দলের কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী (আর্কাইভ লিংক)।

তবে দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল হলেও অনলাইনে ছড়ানো ভিডিওগুলো এ বছরের নয়।

পুরনো মিছিল

অসত্যভাবে ছড়ানো প্রথম ভিডিওটির কিফ্রেম নিয়ে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চে দেখা যায়, একই ভিডিওটি ৬ আগস্ট ২০২৪ সালে একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত হয়েছিল(আর্কাইভ লিংক)।   

পোস্টটির ক্যাপশনে বলা হয়, “আমাদের সংগ্রাম চলছে চলবে--শেখ হাসিনা এগিয়ে চলো, আমরা আছি তোমার সাথে।”

ভিডিওটির ফ্রেমের উপরের অংশে একই লেখা জুড়ে দেয়া হয় এবং নিচের অংশ বলা হয়, “উত্তাল গোপালগঞ্জ”।

Image
অসত্যভাবে ছড়ানো ভিডিও (বামে) এবং ২০২৪ সালের ৬ আগস্টে প্রকাশিত ফেসবুক ভিডিওর তুলনামূলক স্ক্রিনশট

হাসিনার নিজ জেলা গোপালগঞ্জ আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত(আর্কাইভ লিংক)।

স্থানীয় বেসরকারি সম্প্রচারমাধ্যম চ্যানেল ২৪ও বিক্ষোভটি নিয়ে ৬ আগস্ট ২০২৪ সালে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, এতে একই স্থানের ভিন্ন কোণ থেকে ধারণ করা একটি ফুটেজ ব্যবহার করা হয়(আর্কাইভ লিংক)।

দ্বিতীয় অসত্য ভিডিওটির জন্য কিওয়ার্ড সার্চে ২০২৪ সালের ১১ আগস্টে প্রকাশিত একটি ফেসবুক পোস্ট পাওয়া যায়(আর্কাইভ লিংক)। পোস্টটির ক্যাপশনে বলা হয়, “গোপালগঞ্জে ঢাল বর্শা নিয়ে আওয়ামী লীগের মিছিল।”  

বিক্ষোভটি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাকে ফিরেয়ে আনার দাবিতে গোপালগঞ্জে মিছিল সমাবেশ করেছে কয়েক হাজার দলীয় নেতাকর্মী (আর্কাইভ এখানেএখানে)। 

Image
অসত্যভাবে ছড়ানো ফুটেজ (বামে) এবং ২০২৪ সালের আগস্টে প্রকাশিত মূল ভিডিওর তুলনামূলক স্ক্রিনশট

এএফপি এর আগেও বাংলাদেশের রাজনীতিকে ঘিরে ছড়ানো অসত্য দাবি খণ্ডন করেছে।

এমন কোনো কন্টেন্ট আছে যা আপনি এএফপি’কে দিয়ে ফ্যাক্ট চেক করাতে চান?

আমাদের সাথে যোগাযোগ