বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিহত ব্যক্তিকে পোশাকশ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসের হত্যাকারী হিসেবে অসত্যভাবে প্রচার
- প্রকাশিত 15 জুলাই 2026, 14:17
- 2 এক্স মিনিটে পড়ুন
- লেখক: Devesh MISHRA, Eyamin SAJID, AFP ইন্ডিয়া, AFP বাংলাদেশ
ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত বছর ময়মনসিংহে এক হিন্দু পোশাকশ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তাঁর হত্যাকারী মারা গেছে দাবি করে অনলাইনে প্রকাশিত ছবিটি অসত্যভাবে ছড়ানো হয়েছে। ২০২৫ সালের হত্যাকাণ্ডের সাথে ছবিতে দৃশ্যমান ব্যক্তির কোনো সম্পর্ক ছিল না মন্তব্য করে স্থানীয় পুলিশ এবং নিহত ব্যক্তির পরিবার দাবিটি অস্বীকার করেছেন। ওই পোশাকশ্রমিকের হত্যাকাণ্ড ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আন্তঃসীমান্ত অপতথ্যের প্রবাহকে উসকে দিয়েছিল।
২৪ জুন ২০২৬ তারিখে ছড়ানো একটি ফেসবুক পোস্টের ক্যাপশনে বলা হয়, “দীপু দাসকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মেরেছিল যে আব্দুল শাহাদাতরা আজ পাবনায় তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারালেন, বয়স ছিল ৩০ বছর।”
পোস্টের সাথে যুক্ত একটি ছবিতে এক ব্যক্তির শরীরের অর্ধেক একটি ভবনের ছাদের উপর এবং বাকি অংশ কয়েকটি বৈদ্যুতিক তারের উপর পড়ে থাকতে এবং উদ্ধারকর্মী ও উৎসুক জনতাকে তাঁর দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়।
ছবির উপর জুড়ে দেয়া লেখায় বলা হয়, “দীপু দাসকে পুড়িয়ে মেরেছিল যারা সেই হাসান শাহাদাত আজ বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মারা গেলেন।”
কন্টেন্ট সতর্কতা
২০২৪ সালের আগস্টে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু হিন্দুরা বেশ কিছু হামলা শিকার হন(আর্কাইভ লিংক)। হিন্দুদেরকে শেখ হাসিনা সরকারের একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে মনে করা হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত অন্তত ১১ জন হিন্দুকে হত্যা করা হয়(আর্কাইভ লিংক)।
এদের মধ্যে ১৮ ডিসেম্বর ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাকশ্রমিক দীপু চন্দ্র দাস পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করা হয়(আর্কাইভ লিংক)।
জানুয়ারি ২০২৬-এ পুলিশের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সদস্যদের সম্পৃক্ততায় সংগঠিত ৬৪৫টি ঘটনার মধ্যে মাত্র ১২ শতাংশের সাথে সাম্প্রদায়িক লক্ষণ ছিল।
একই দাবিতে একটি ভিডিও অন্যত্র ফেসবুকে ছড়ানো হয়েছে।
কিন্তু স্থানীয় পুলিশ এবং ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দৃশ্যমান ব্যক্তির এক আত্মীয় এএফপি-কে জানিয়েছেন যে, দাসের হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সাথে বিদ্র্যৎস্পৃষ্ট হয়ে নিহত ব্যক্তির কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।
দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু
অসত্যভাবে ছড়ানো ছবি দিয়ে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চেসহ কিওয়ার্ড সার্চে একটি ভিডিও পাওয়া যায়, যা দৈনিক সকালের ফেসবুক পেজে ১৮ জুন পোস্ট করা হয়(আর্কাইভ লিংক)। পোস্টটির ক্যাপশনে বলা হয়, “পাবনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু।”
কন্টেন্ট সতর্কতা
আরও অনুসন্ধানে বিডিনিউজ২৪-এর একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এতে বলা হয়, পাবনার আটঘরিয়ায় বহুতল ভবনের ছাদে জমে থাকা বৃষ্টির পানি সরাতে গিয়ে পা পিছলে বৈদ্যুতিক তারের ওপর পড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শাহাদাত হোসাইন নামে এক দোকান কর্মচারীর মৃত্যু হয়েছে(আর্কাইভ লিংক)।
২৯ জুন আটঘরিয়া থানার ওসি নাজমুল হোসেন এএফপিকে বলেন, ছবির লোকটির সাথে দীপু চন্দ্র দাসের হত্যার কোনো সম্পর্ক নেই।
তিনি বলেন, “এটা একটা দুর্ঘটনা ছিল। মৃত ব্যক্তি বৃষ্টির পানি সরানোর জন্য একটি দোকানের ছাদে উঠেছিলেন। কিন্তু পা পিছলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।”
এএফপি দোকানের মালিক এবং শাহাদাতের মামা মুহাম্মদ আকুল হোসাইনের সাথে যোগাযোগ করে। তিনি অনলাইনে ছড়ানো দাবিটিকে “পুরোপুরি অসত্য” বলে মন্তব্য করেন।
৩০ জুন আকুল হোসাইন বলেন, “আমার ভাগিনা বিদেশে থাকতো। পোশাকশ্রমিক দীপু দাসের হত্যাকাণ্ডের সাথে তার কোনো সম্পর্ক নাই।”
স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশ দীপু দাস হত্যার প্রধান সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে (আর্কাইভ লিংক)।
৫ জুলা্ই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ তোয়াবুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করে এএফপি। তবে দীপু দাসের হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে শাহাদাত হোসাইন নামে কেউ নেই বলে জানান তিনি।
এএফপি এর আগেও বাংলাদেশের অস্থিতিশীলতাকে কেন্দ্র করে ছড়ানো অপতথ্য খণ্ডন করেছে।
কপিরাইট © এএফপি ২০১৭-২০২৬। এই কন্টেন্টের যেকোন বানিজ্যিক ব্যবহারের জন্য অনুমতি নেয়া বাধ্যতামূলক। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।
এমন কোনো কন্টেন্ট আছে যা আপনি এএফপি’কে দিয়ে ফ্যাক্ট চেক করাতে চান?
আমাদের সাথে যোগাযোগ