ভিডিওটি আফগানিস্তানের আইএস গোষ্ঠীর, বাংলাদেশে মাদ্রাসায় অস্ত্র প্রশিক্ষণের নয়

একটি শিশুকে পিস্তল চালানোর প্রশিক্ষণ দেয়ার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে সেটিকে বাংলাদেশে একটি মাদ্রাসার চিত্র হিসেবে দাবি করা হয়। তবে ভিডিওটি বাংলাদেশের কোনো মাদ্রাসায় ধারণ করা হয়নি। ভিডিওটি ২০১৫ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত আল জাজিরার একটি প্রামাণ্যচিত্র থেকে নেওয়া হয়েছে। আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেট বা আইএস-র উত্থান নিয়ে প্রামাণ্যচিত্রটি তৈরি করা হয়।  

১৫ জুন ২০২৬ তারিখে ছড়ানো একটি ফেসবুক পোস্টের ক্যাপশনে বলা হয়, “বাংলাদেশের মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থা, অস্ত্র প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। এটাই এখন বাংলাদেশের অবস্থান।”

ভিডিওতে কালো মুখোশ পরিহিত এক ব্যক্তিকে একটি ছোট ছেলেকে পিস্তল চালানোর প্রশিক্ষণ দিতে দেখা যায়। অনলাইনে আপলোডের পর থেকে ভিডিওটি ১ লাখ ৭০,০০০ বার দেখা হয়েছে এবং ২,৭০০ বার শেয়ার হয়েছে।  

Image
এএফপির যোগ করা লাল ক্রস চিহ্নসহ ২৮ জুন ২০২৬ তারিখে নেয়া অসত্য ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট

একই দাবিতে ভিডিওটি অন্যত্র ফেসবুকে এবং এক্স-এ ছড়ানো হয়। এসব অ্যাকাউন্ট আগেও বাংলাদেশের পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমর্থনে বিভিন্ন সময় সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেছেন। 

বাংলাদেশে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তথা মাদ্রাসাগুলো উগ্রপন্থী মুসলিমদের জন্ম দিচ্ছে বলে দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছেন সমালোচকরা। তবে এই ধরনের চরমপন্থার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের জন্য ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার অনেক আগে থেকেই হাসিনার সরকার প্রশংসিত হয়েছিল(আর্কাইভ লিংক এখানে এবং এখানে)। 

ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেশের তরুণরা উগ্রবাদী মতাদর্শে দীক্ষিত হচ্ছে বলে একটি আশঙ্কা অনেক দিন ধরে রয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে রাজধানীর ঢাকার উপকণ্ঠের একটি মাদ্রাসায় বিস্ফোরণের পর পুলিশ সেখান থেকে “দেশি বোমার মতো বস্তু এবং ৪০০ লিটার রাসায়নিক পদার্থ” উদ্ধার করে(আর্কাইভ লিংক)। 

তবে অনলাইনে ছড়ানো ভিডিওটি বাংলাদেশের কোনো মাদ্রসার নয়।  

প্রামাণ্যচিত্রের অংশ

অসত্যভাবে ছড়ানো ভিডিওটির কিফ্রেম নিয়ে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চে আল জাজিরার একটি প্রামাণ্যচিত্রে অনুরূপ ফুটেজ পাওয়া যায়; যা ২ নভেম্বর ২০১৫ তারিখে প্রকাশিত হয়(আর্কাইভ লিংক)। 

ইসলামিক স্টেট বা আইএস গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে অন্য একটি নাম ব্যবহার করে ভিডিওটির ক্যাপশনে বলা হয় “আইএসআইএল ও তালেবান — বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র।” 

অসত্যভাবে ছড়ানো ভিডিওটি প্রামাণ্যচিত্রের ৪৬ মিনিট ২৯ সেকেন্ডের অংশ থেকে নিয়ে আয়নার প্রতিবিম্বের মতো উল্টে ও জুম-ইন করে দেখানো হয়েছে।

Image
অসত্যভাবে ছড়ানো ক্লিপ(বামে) এবং ইউটিউবে প্রকাশিত ভিডিওর তুলনামূলক স্ক্রিনশট

ফুটেজটি আফগানিস্তানে ধারণ করা হয়েছে বলে আল জাজিরার তথ্যচিত্রের ধারাভাষ্যে উল্লেখ করা হয়। 

অসত্যভাবে প্রচারিত ভিডিওটির দৃশ্য সামনে আসার আগে, আরেকটি “সামরিক প্রশিক্ষণকেন্দ্রের” ক্লিপ দেখানো হয়েছে। সেটি ইরাকের মসুল-এ অবস্থিত বলে ধারণা করা হয়।

ধারাভাষ্যকার বলেন, “এটি যেন ভবিষ্যতের জঙ্গিদের জন্য একটি উৎপাদন-প্রক্রিয়া। আর এই বিষয়টি ইরাকের বিভিন্ন শহর থেকে আফগানিস্তানের গ্রামগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে।”

ইউরোপীয় প্রেসফটো এজেন্সির (ইপিএ) ১ আগস্ট ২০১৫ তারিখে প্রকাশিত একটি ছবিতে একই শিশু ও মুখোশধারী ব্যক্তিকে দেখা যায়। ছবিটির ক্যাপশনে বলা হয়, এটি আফগানিস্তানের কুনার প্রদেশের অজ্ঞাত কোনো স্থানে তোলা হয়েছে(আর্কাইভ লিংক)।

এএফপি এর আগেও বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে ছড়িয়ে পড়া অন্যান্য অসত্য দাবি খণ্ডন করেছে।

এমন কোনো কন্টেন্ট আছে যা আপনি এএফপি’কে দিয়ে ফ্যাক্ট চেক করাতে চান?

আমাদের সাথে যোগাযোগ