ইরানের তৈরি গোলাপী মিসাইলের দাবিতে ছড়ানো ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি

হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শুরু হয়। তবে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির একদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গোলাপী রঙের একটি মিসাইলের ছবি ছড়ানো হয়। ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপের জন্য এক ইরানি মেয়ের অনুরোধে মিসাইলটি তৈরি করা হয়েছে বলে পোস্টে দাবি করা হয়েছে। তবে দাবিটি অসত্য; আদতে ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। 

৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ছড়ানো একটি ফেসবুক পোস্টের ক্যাপশনে বলা হয়, “এক ছোট্ট ইরানি মেয়ে শত্রুদের ওপর গোলাপী রঙের মিসাইল মারার ইচ্ছা জানিয়েছিল।মেয়েটির ইচ্ছা পূরণ করে আজ তেল আবিবে এই গোলাপী ব্যালিস্টিক মিসাইল নিক্ষেপ করা হয় বলে ইরানি কয়েকটি মিলিটারি ব্লগার একাউন্ট হতে পোস্ট করা হয়।”

Image
এএফপির যোগ করা ক্রস চিহ্ন ও এআই প্রতীকসহ ১০ মে ২০২৬ তারিখে নেয়া অসত্য পোস্টের স্ক্রিনশট

পোস্টটিতে একটি গোলাপী রঙের মিসাইলের ছবি যুক্ত করা হয়, যেখানে ফারসি ভাষায় একটি লেখা দেখা যায়। লেখাটির বাংলা অনুবাদ করলে দাঁড়ায়, “একজন বিপ্লবী মেয়ের অনুরোধের জবাবে।” 

ফুটেজটি একই দাবিতে ফেসবুকে অন্যত্র ছড়ানো হয়। 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এক বৃহত্তর সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। যদিও ৭ এপ্রিল ২০২৬ দ্বিতীয় দফায় একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হয়েছে। এর আগে ঘোষিত প্রথম যুদ্ধবিরতি দ্রুত সময়ের মধ্যে ভেঙে পড়ে(আর্কাইভ লিংক)। 

১২ এপ্রিল পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা কোনও চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়। পরদিন বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নেয়ার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বাহিনী ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করতে শুরু করে(আর্কাইভ লিংক)।

কিন্তু গোলাপী রঙের মিসাইলের ছবিটি আসল নয়। 

বানোয়াট ছবি 

খুব কাছ থেকে তোলা ছবির পটভূমির মাপ নির্ধারণ করা কঠিন, তবে কথিত ক্ষেপণাস্ত্রটির কারিগরি দিক ভালোভাবে খতিয়ে দেখলে অসঙ্গতি চোখে পড়ে। 

দক্ষিণ আফ্রিকার সংঘাত বিশ্লেষক ড্যারেন অলিভিয়ার এএফপি ফ্যাক্ট চেককে জানান, ফারসি ভাষার লেখাটির নিচে তারের সংযোগের কোনও সুস্পষ্ট যান্ত্রিক উদ্দেশ্য নেই।

অলিভিয়ার বলেন, “মিসাইলটির সুনির্দিষ্ট কাঠামো, আবরণ ও সংযোজন আমার জানা মতে কোনও ইরানি মিসাইলের সাথে মেলে না। বিশেষ করে মিসাইলের ওয়্যারিং ইরানের বা অন্য কোনো দেশের পরিচিত কোনও ব্যালিস্টিক মিসাইলের কানেক্টরের মতো নয়। এটি কোনও যৌক্তিক পথ অনুসরণ করে সম্পন্ন হয়েছে বলেও মনে হয় না। আর এই ভুল এআই-নির্মিত দৃশ্যের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য।” 

এএফপি ফ্যাক্ট চেক ছবিটি একাধিক এআই শনাক্তকরণ টুলের মাধ্যমে যাচাই করেছে। 

হাইভ মডারেশন টুলের ফলাফলে দেখা যায়, ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার ৯৯ দশমিক ১ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে। 

Image
হাইভ টুলের ফলাফলের স্ক্রিনশট

ভেরাএআই-েএর বিশ্লেষণে ৮৫ শতাংশ সম্ভাবনা পেয়েছে।

Image
ভেরাএআই টুলের ফলাফলের স্ক্রিনশট

ছবিটি নিজেদের কোনও একটি এআই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে কৃত্রিমভাবে তৈরি বলে নিশ্চিত করেছে গুগলের সিন্থআইডি এআই ডিটেক্টর।

Image
সিন্থআইডি টুলের ফলাফলের স্ক্রিনশট

যদিও ইরানের কথিত গোলাপী মিসাইলটি বাস্তব নয়, তবে একটি আসল গোলাপী ক্ষেপণাস্ত্রের অস্তিত্ব রয়েছে। ২০২৫ সালের আগস্টে ইউক্রেনের ফায়ার পয়েন্ট প্রতিরক্ষা সংস্থা এফপি-৫ “ফ্ল্যামিঙ্গো” নামে একটি ক্ষেপণাস্ত্র  উন্মোচন করেছে। উৎপাদন পরিচালনাকারী নারীদের প্রতি সম্মান হিসেবে ক্ষেপণাস্ত্রের প্রাথমিক সংস্করণে একটি গোলাপী ওয়ারহেড রয়েছে(আর্কাইভ লিংক)।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ সম্পর্কিত অপতথ্য নিয়ে এএফপির আরও প্রতিবেদন পাওয়া যাবে এখানে। 

এমন কোনো কন্টেন্ট আছে যা আপনি এএফপি’কে দিয়ে ফ্যাক্ট চেক করাতে চান?

আমাদের সাথে যোগাযোগ