পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের বানোয়াট উক্তি অনলাইনে প্রচার
- প্রকাশিত 10 মে 2026, 13:18
- আপডেট করা হয়েছে 10 মে 2026, 13:40
- 2 এক্স মিনিটে পড়ুন
- লেখক: Eyamin SAJID, এএফপি বাংলাদেশ
এপ্রিল ২০২৬ -এর শেষের দিকে বাংলাদেশের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি সরবরাহ শুরু হয়েছে। আগামী আগস্ট মাসে বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আংশিকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সামাজিক মাধ্যমে রাজনৈতিক নেতাদের কিছু বানোয়াট বক্তব্য শেয়ার করা হয়েছে, যেখানে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য সদ্য নির্বাচিত সরকার প্রধানকে প্রশংসা করা হয়েছে। তবে কথিত উদ্ধৃতিগুলোর মধ্যে তিনটি একটি প্যারোডি ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া হয়েছে। আর অন্য উদ্ধৃতিটি একটি স্থানীয় গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের গ্রাফিক অপব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে নেতাদের নামে ছড়ানো বক্তব্যগুলো বানোয়াট বলে এএফপিকে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস দপ্তর।
রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় বাংলাদেশে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পর্কে ক্ষমতাসীন বিএনপির নেতাদের কথিত বক্তব্য হিসেবে একই ধরনের তিনটি ইনফোগ্রাফিকউদ্ধৃতি ২৮ ও ২৯ এপ্রিল ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামে ছড়ানো হয়।
একটি পোস্টে দাবি করা হয় যে, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন: “বেগম জিয়ার স্বপ্ন ছিলো এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। উনার সুযোগ্য সন্তান জনাব তারেক রহমান সেটা করে দেখিয়েছেন”(আর্কাইভ লিংক)।
শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী সরকারকে উৎখাত করার পর কয়েক মাসব্যাপী রাজনৈতিক অস্থিরতার শেষে ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতায় আসেন তারেক রহমান(আর্কাইভ লিংক)।
দ্বিতীয় ইনফোগ্রাফিকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভীকে উদ্ধৃতি করে বলা হয়, তারেক রহমান “মাত্র দুই মাসে পারমাণকি বিদ্যুৎ প্রকল্প করে দেখিয়েছেন”, যেটা আওয়ামী লীগ সরকার ১৭ বছরেও করতে পারে নাই(আর্কাইভ লিংক)।
এছাড়া তৃতীয় একটি ইনফোগ্রাফিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা জাকির খানকে উদ্ধৃতি করে বলা হয়: “তারেক রহমান পাঁচ বছর থাকলে আমরা পারমাণিবক বোমাও বানিয়ে ফেলবো” (আর্কাইভ লিংক)।
অন্যদিকে ফেসবুক, এক্স এবং ইনস্টাগ্রামে বেসরকারি সম্প্রচারমাধ্যম আরটিভির একটি কথিত গ্রাফিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে উদ্ধৃতি করে বলা হয়, “পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম সূত্রটি আবিষ্কার করেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান(আর্কাইভ লিংক এখানে ও এখানে)।
২৮ এপ্রিল বাংলাদেশ যখন দেশটির প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি হিসেবে ইউরেনিয়াম লোডিং শুরু করে, তখন অনলাইনে এসব দাবি ছড়ানো হয়(আর্কাইভ লিংক)।
রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি ইউনিট নির্মাণের জন্য ২০১৫ সালে রাশিয়ার সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ। চুক্তির দুই বছর পর ২০১৭ সালে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। সে সময় শেখ হাসিনা ক্ষমতায় ছিলেন(আর্কাইভ লিংক এখানে ও এখানে)।
প্রাথমিকভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটটি ২০২৩ সালের অক্টোবরে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। আর দ্বিতীয় ইউনিটটি ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে সম্পন্ন করার লক্ষ্য ছিল। কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারী এবং রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধের কারণে অগ্রগতি বিলম্বিত হয়(আর্কাইভ লিংক)।
বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট ২০২৬ সালের আগস্ট মাস থেকে গ্রিডের জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করবে এবং ২০২৭ সালের মধ্যে পূর্ণ ক্ষমতায় পৌঁছাবে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ(আর্কাইভ লিংক)।
কিন্তু বিএনপির নেতাদের নামে ছড়ানো উদ্ধৃতিগুলো বানোয়াট।
নেতাদের নামে ছড়ানো উদ্ধৃতিগুলো “পুরোপুরি বানোয়াট” বলে ৪ মে এএফপিকে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ।
এছাড়া রাজনীতিকদের এমন উদ্ধৃতির বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কোন প্রতিবেদনও পায়নি এএফপি।
প্যারোডি পোস্ট, বানোয়াট গ্রাফিক
গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চে “গুপ্ত টেলিভিশন” নামে একটি ফেসবুক পেজের ২৮ এপ্রিলের পোস্টে প্রথম তিনটি গ্রাফিক পাওয়া যায়।
যোগাযোগ করলে পোস্টগুলো সম্পর্কে পেজটির পরিচালক সরাসরি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে অ্যাকাউন্টির বায়ো দেখতে বলেন। পেজটির বায়োতে বলা হয়, “সব কন্টেন্ট বিনোদনের জন্য তৈরি। আমাদের কন্টেন্ট হাস্যরস, ব্যঙ্গ ও প্যারোডির মাধ্যমে উপস্থাপিত হয়।”
অন্য একটি কিওয়ার্ড সার্চ দেখা যায়, আরটিভিও তাদের ফেসবুকে পেজে অনলাইনে ছড়ানো চতুর্থ গ্রাফিকটি পোস্ট করেনি।
সম্প্রচারমাধ্যমটি ৪ মে একটি স্পষ্টিকরণ প্রকাশ করে গ্রাফিকটিকে অসত্য বলে দাবি করে(আর্কাইভ লিংক)।
৪ মে আরটিভির ডেজিটাল ও সোশ্যাল মিডিয়ার প্রধান কবির আহমেদ এএফপিকে বলেন, “এটা একটি অসত্য গ্রাফিক কার্ড।”
বক্তব্য নিতে অসত্য পোস্টে উদ্ধৃতি করা হয়েছে এমন প্রত্যেক রাজনীতিকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে, তবে কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।
কপিরাইট © এএফপি ২০১৭-২০২৬। এই কন্টেন্টের যেকোন বানিজ্যিক ব্যবহারের জন্য অনুমতি নেয়া বাধ্যতামূলক। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।
এমন কোনো কন্টেন্ট আছে যা আপনি এএফপি’কে দিয়ে ফ্যাক্ট চেক করাতে চান?
আমাদের সাথে যোগাযোগ