সাজানো জোরপূর্বক বিয়ের ভিডিও ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ
- প্রকাশিত 12 মে 2026, 09:29
- 2 এক্স মিনিটে পড়ুন
- লেখক: Rasheek MUJIB, এএফপি বাংলাদেশ
সামাজিক বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তৈরি সাজানো ভিডিওকে প্রায়শই অনলাইনে বাস্তব ঘটনা হিসেবে বিভ্রান্তিকরভাবে ছড়ানো হয়। যা সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করে। সম্প্রতি বাংলাদেশে এক বৃদ্ধের সাথে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার সময় কান্নারত এক যুবতীর একটি সাজানো ভিডিও ক্লিপকে বাস্তব ঘটনার দৃশ্য হিসেবে অসত্যভাবে ছড়ানো হয়েছে। তবে ভিডিওটির নির্মাতা এএফপিকে জানায়, ভিডিওতে দৃশ্যমান নারী ও পুরুষ ‘ভাড়াটে অভিনেতা’, যাদেরকে একই ধরনের অনলাইন ভিডিওতে অভিনয় করতে দেখা যায়।
১৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ছড়ানো একটি ফেসবুক পোস্টের ক্যাপশনে বলা হয়, “জোরপূর্বক বৃদ্ধ এর সাথে তরুণীকে বিয়ে। ভিডিও ভাইরাল।”
পোস্টে যুক্ত ৫৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে কনের পোশাকে এক যুবতীকে একজন বৃদ্ধ লোকের পাশে বসা অবস্থায় দেখা যায়। এ সময় একটি নথিতে আঙুলের ছাপ দিতে তাঁর ওপর চাপ প্রয়োগ করতে এবং অনিচ্ছা সত্ত্বেও অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে তাঁকে আঙুলের ছাপ দিতে দেখা যায়।
বল প্রয়োগ করে বিয়ে দেয়া ঘটনা নিষিদ্ধ করার বিষয়ে বাংলাদেশে কোনও নির্দিষ্ট আইন নেই। তবে কোনও এক পক্ষের সম্মতি ছাড়া বিবাহ সম্পন্ন করা হয়েছে বলে প্রমাণ হলে, সেই সম্পর্ককে অবৈধ ঘোষণা করা যেতে পারে(আর্কাইভ লিংক)।
ভিডিওটি ফেসবুকে অন্যত্র ছড়ানো হয় এবং অনেক সংক্ষুব্ধ মন্তব্যের জন্ম দেয়। কিছু সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী ইসলামী শরিয়া আইনের সূত্র টেনে বিয়েটিকে “অবৈধ” বলে অভিহিত করেন।
একজন লিখেন, “যারা এভাবে বল প্রয়োগ করছে, তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।” অন্য একজন বলেন, “আমাদের মেয়েরা কি এই অবিচার থেকে মুক্তি পাবে না? এই বোনের জন্য কী আমরা কিছুই করতে পারি না?”
সাজানো ভিডিও প্রায়শই বাংলাদেশ ও ভারতে অপতথ্যের জন্ম দেয় এবং ছড়ানো ভিডিওটিকেও একই কায়দায় বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে (আর্কাইভ লিংক)।
কিফ্রেম নিয়ে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চে দেখা যায় ভিডিওটি “এনকে মিডিয়া ওয়ান” নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলের ১৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত একটি ভিডিও থেকে নেয়া হয়েছে(আর্কাইভ লিংক)।
ভিডিওটির ক্যাপশনে বলা হয়, “বিয়ের কবুল বলতে গিয়ে একি করল মেয়েটি I বাংলাদেশী বিয়ে ভিডিও।”
চ্যানেলটি একই ধরনের শত শত সাজানো জোরপূর্বক বিয়ের ক্লিপ পোস্ট করেছে, যার অনেকগুলোতে একই ব্যক্তিদের দেখা যায়।
ইউটিউব চ্যানেলটির সাথে সম্পৃক্ত এবং একই নামের একটি ফেসবুক পেজও অনুরূপ ভিডিও প্রকাশ করেছে(আর্কাইভ লিংক)।
যোগাযোগ করলে ফেসবুক পেজটির মালিক এএফপিকে নিশ্চিত করেন যে, ভিডিওগুলো “বিনোদনের” উদ্দেশ্যে ধারণ করা এবং এতে “ভাড়াটে অভিনেতা” অভিনয় করেছে।
৩০ এপ্রিল কন্টেন্ট নির্মাতা এএফপিকে বলেন, “ক্যাপশনে উল্লেখ করা উচিত ছিল যে এটি সাজানো। এই ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ায় আমার জন্য অনেক সমস্যা তৈরি হয়েছে।”
তিনি বলেন, ভিডিও ক্লিপটিতে থাকা নারী ২২ বছর বয়সী একজন শিল্পী। এর বাহিরে তিনি আর কোন প্রশ্নের উত্তর দেননি।
বিয়ের বিভিন্ন ভিডিওতে একই অভিনেতাদের দেখানো ক্লিপ ফেসবুক ও ইউটিউবের একাধিক পেজে পোস্ট করা হয়েছে (আর্কাইভ লিংক এখানে, এখানে এবং এখানে)।
বাস্তব ঘটনার দৃশ্য হিসেবে বিভ্রান্তিকরভাবে ছড়ানো আরও কিছু সাজানো ভিডিও এএফপি খণ্ডন করেছে এখানে।
কপিরাইট © এএফপি ২০১৭-২০২৬। এই কন্টেন্টের যেকোন বানিজ্যিক ব্যবহারের জন্য অনুমতি নেয়া বাধ্যতামূলক। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।
এমন কোনো কন্টেন্ট আছে যা আপনি এএফপি’কে দিয়ে ফ্যাক্ট চেক করাতে চান?
আমাদের সাথে যোগাযোগ