পোপ ফ্রান্সিসের পূর্ব তিমুর সফরের পুরনো ভিডিও ইসরায়েলিদের দেশত্যাগের দৃশ্য দাবিতে অসত্যভাবে প্রচার

গত ১২ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার মুখোমুখি আলোচনা শেষ হলেও যুদ্ধ অবসানে কোনো চুক্তি হয়নি। এরপর বিভিন্ন পোস্টে রাস্তার ওপর বিশাল জনসমাগমের একটি পুরনো ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে অসত্য দাবি করা হয় যে, এটি ইসরায়েলিদের দেশত্যাগের ভিডিও। ভিডিওটি আসলে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পোপ ফ্রান্সিসের পূর্ব তিমুর সফরের সময় ধারণকৃত।

“মার্কিন-ইরানি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ইসরায়েলি ভূখণ্ড থেকে লাখ লাখ বসতি স্থাপনকারীর এই দেশত্যাগ এক প্রকৃত আতঙ্কের প্রতিফলন,” ১৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ছড়ানো একটি ফেসবুক পোস্টের ক্যাপশনে বলা হয়।

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে ধীরগতিতে এগোনো যানবাহনের পাশ দিয়ে বিশাল জনগোষ্ঠী হেঁটে যাচ্ছে।

Image
এএফপির যোগ করা ক্রস চিহ্নসহ ২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে নেয়া অসত্য পোস্টের স্ক্রিনশট

১২ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ অবসানের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর এই পোস্টগুলো ইন্সটাগ্রামে এবং এক্সেও ছড়িয়ে পড়ে (আর্কাইভ লিংক)। এই আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় দুই সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানায়, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বর্জন করার প্রতিশ্রুতি দিতে অস্বীকৃতির কারণেই আলোচনাটি ভেস্তে গেছে; অন্যদিকে, ইরানের কর্মকর্তারা এই ব্যর্থতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকেই দায়ী করে—তবে ঠিক কোন বিষয়গুলো নিয়ে মতবিরোধ ছিল, তা তারা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেনি।  

এক পর্যায়ে তেহরান হুমকি দেয় যে, ওয়াশিংটন তাদের বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার না করলে তারা লোহিত সাগরের বাণিজ্য বন্ধ করে দেবে। এই প্রেক্ষাপটে ১৫ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র জানায়, তারা পাকিস্তানে ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা নিয়ে আলোচনা করছে এবং কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো নিয়ে আশাবাদী (আর্কাইভ লিংক)।

তবে প্রচারিত ভিডিওটি চলমান যুদ্ধের সাথে সম্পর্কিত নয়।

এএফপি এর আগে ২০২৪২০২৫ সালে একই ভিডিওটি অন্য অসত্য দাবিতে খণ্ডন করেছিল।

ভিডিওটির কিফ্রেম নিয়ে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চে আসল ভিডিওটির উন্নততর একটি সংস্করণ পাওয়া যায়। ওই সংস্করণটি টিকটকে ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ তারিখে প্রকাশিত হয় (আর্কাইভ লিংক)।

পোস্টে ব্যবহৃত হ্যাশট্যাগগুলো থেকে বোঝা যায় যে, ফুটেজটি ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর পূর্ব তিমুরে প্রয়াত পোপ ফ্রান্সিসের সফরের সময় ধারণকৃত (আর্কাইভ লিংক)।

২০২৫ সালের এপ্রিলে স্ট্রোকের কারণে পোপ ফ্রান্সিস মারা যান (আর্কাইভ লিংক)।

পূর্ব তিমুরের একজন আলোকচিত্রী রে মার্কেস, ভিডিওটি টিকটকে শেয়ার করেন। তিনি এর আগে এএফপি-কে জানিয়েছিলেন, ভিডিওটি কে ধারণ করেছে তা তিনি জানেন না; তবে এটি রাইকোটু নামের একটি সাধারণ সমাধিক্ষেত্রের কাছে ধারণ করা হয়েছিলো বলে জানান তিনি।

Image
অসত্যভাবে ছড়ানো ক্লিপ(বামে) এবং টিকটকে প্রকাশিত ভিডিওর তুলনামূলক স্ক্রিনশট

টিকটক ভিডিওতে প্রয়াত পোপের একটি চিত্রকর্ম দেখা যায়, যা পূর্ব তিমুর সফরের সময় এএফপি-র তোলা একটি ছবিতে দেখা ম্যুরালের সাথে মিলে যায়।

"২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ডিলির তাসিতোলু পার্কের এসপ্ল্যানেডের পাশে, পোপ ফ্রান্সিসের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত পবিত্র মাস-এ অংশ নিতে ক্যাথলিক বিশ্বাসের অনুসারীরা পোপ ফ্রান্সিসের একটি ম্যুরালের পাশ দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করছেন," ছবির ক্যাপশনে বলা হয়।

Image
টিকটক ভিডিও এবং ম্যুরালটি প্রদর্শনকারী এএফপির ছবির তুলনামুলক স্ক্রিনশট

ভিডিওটির আরও স্পষ্ট একটি সংস্করণে রাস্তার বাতিগুলোতে পূর্ব তিমুরের পতাকা এবং পোপের একটি পোস্টারও দেখা যাচ্ছে।

ভ্যাটিকানের তথ্যমতে—স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী—২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর পূর্ব তিমুরে পোপের এই গণ-উপাসনায় ৬ লক্ষেরও বেশি মানুষ অংশ নিয়েছিল; যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক (আর্কাইভ লিংক)।

পূর্ব তিমুরের রাজধানী ডিলির গুগল ম্যাপস স্ট্রিট ভিউ চিত্রে পোপ ফ্রান্সিসের ম্যুরাল এবং রাস্তার কিছুটা দূরে অবস্থিত ভবনগুলো—সবই দেখা যাচ্ছে (আর্কাইভ লিংক)।

Image
টিকটক ভিডিও (বাম দিকে) এবং অসত্য ভিডিওর স্থানটির গুগল স্ট্রিট ভিউ চিত্রের তুলনামূলক স্ক্রিনশট

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ সম্পর্কিত অপতথ্য নিয়ে এএফপির আরও প্রতিবেদন পাওয়া যাবে এখানে। 

এমন কোনো কন্টেন্ট আছে যা আপনি এএফপি’কে দিয়ে ফ্যাক্ট চেক করাতে চান?

আমাদের সাথে যোগাযোগ