ভূখণ্ড সম্প্রসারণ নিয়ে ভারতীয় সেনা কর্মকর্তার বক্তব্যের ক্লিপটি এআই-দিয়ে বিকৃত করা হয়েছে
- প্রকাশিত 7 এপ্রিল 2026, 09:39
- 2 এক্স মিনিটে পড়ুন
- লেখক: Rasheek MUJIB, এএফপি বাংলাদেশ
প্রতিরক্ষা ও কৃষিসহ বেশ কিছু খাতে ইসরায়েলের সাথে ক্রমাগত সহযোগিতা প্রসারিত করছে ভারত। কিন্তু নয়াদিল্লিকে ইসরায়েলের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে ভূখণ্ড সম্প্রসারণের কথিত পরামর্শ দেয়া একজন ভারতী জেনারেলের অনলাইনে ছড়ানো ভিডিওটি বিকৃত। প্রকৃত ক্লিপটি ২০২৫ সালের জুলাই মাসের, যেখানে তিনি সামরিক সরঞ্জাম থেকে চীনা যন্ত্রাংশ বাদ দেওয়ার বিষয়ে ভারতীয় পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করেছেন।
ফেসবুকে ১৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে ছড়ানো একটি পোস্টের ক্যাপশনে বলা হয়, “খুবই উদ্বেগজনক খবর। ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও নেপাল নিয়ে অখণ্ড ভারত গঠনের পরিকল্পনা ফাঁস করল এই ভারতীয় জেনারেল।”
ভারত “সন্ত্রাসী ইরানী শাসনের” বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে পূর্ণ সহযোগিতা করছে বলে ক্লিপটিতে ভারতীয় জেনারেল সিএস মানকে বলতে দেখা যায়।
প্রতিবেশী দেশগুলোকে চ্যালেঞ্জ জানানোর পাশাপাশি ভিডিওতে তিনি দেশের সীমানা সম্প্রসারণ নিয়ে ভারতের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেন।
“বাংলাদেশ ও নেপালের বিষয়টি” পরে মোকাবেলা করা হবে উল্লেখ করে তিনি ইংরেজি ও হিন্দি ভাষায় বলেন, “ঠিক যেমন ইসরায়েলের চূড়ান্ত লক্ষ্য বৃহত্তর ইসরায়েল গড়া, তেমনি আমাদেরও চূড়ান্ত লক্ষ্য একটি অখণ্ড ভারত।”
বৃহত্তর ইসরায়েল বলতে রাজা সলোমনের সময়ে দেশটির ভূখণ্ডের একটি বাইবেলীয় ব্যাখ্যাকে বোঝায়। যা কেবল বর্তমান ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীর নয়, বরং জর্ডান, লেবানন ও সিরিয়াসহ অন্যান্য দেশের অংশবিশেষকেও অন্তর্ভুক্ত করে (আর্কাইভ লিংক)।
তেহরানের সঙ্গে মজবুত সম্পর্ক বজায় রাখলেও ভারত প্রতিরক্ষা, কৃষি, প্রযুক্তি এবং সাইবার নিরাপত্তা খাতে ইসরায়েলের সঙ্গে সহযোগিতা ক্রমাগত বাড়িয়ে চলছে(আর্কাইভ লিংক)।
বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা খাতে সম্পর্ক গভীর করার লক্ষ্যে দুই দিনের সফরে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২৫ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই সফরের কয়েকদিন পরেই ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর যৌথ হামলা চালায়, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে জুড়ে যুদ্ধ শুরু হয়(আর্কাইভ লিংক)।
সফরকালে মোদি ইসরায়েলের আইনপ্রণেতাদেরকে বলেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ভারত ইসরায়েলের পাশে ‘দৃঢ়ভাবে’ দাঁড়িয়েছে। কিন্তু ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে গাজায় নিহত হাজার হাজার ফিলিস্তিনিদের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু উল্লেখ করেননি।
একই ফুটেজ অনুরূপ দাবিতে ফেসবুকে এবং ইনস্টাগ্রামে ছড়ানো হয়।
কিন্তু ভিডিওটি সাম্প্রতিক সংঘাতের আগের এবং এআই দিয়ে বিকৃত করা হয়েছে।
বানোয়াট মন্তব্য
অসত্যভাবে ছড়ানো ভিডিওটির কিফ্রেম ব্যবহার করে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চে ৪ জুলাই ২০২৫ তারিখে প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার (পিটিআই) এক্স অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা একটি ভিডিও পাওয়া যায়। যেখানে একই ব্যাকগ্রাউন্ড এবং টেবিল দেখা যায়(আর্কাইভ লিংক)।
ক্যাপশনে বলা হয়েছে, সামরিক সরঞ্জাম থেকে চীনা যন্ত্রাংশ বাদ দেওয়ার বিষয়ে কথা বলছিলেন মান। এসময় তিনি বলেন, সামরিক বাহিনী “দুর্বলতা দূর করার জন্য কঠোর যাচাই ও প্রোটোকল বজায় রাখছে।”
বক্তব্যের কোথাও তিনি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, পাকিস্তান, নেপাল, বাংলাদেশ কিংবা ‘অখণ্ড ভারত’ নিয়ে কিছু বলেননি।
একই দিন একাধিক ভারতীয় স্থানীয় গণমাধ্যম তাঁর এই মন্তব্য নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে (আর্কাইভ লিংক এখানে এবং এখানে)।
এএফপি ক্লিপটিকে এআই সনাক্তকরণ হাইভ ডিটেকশ টুলের মাধ্যমে পরীক্ষা করেছে, এতে ভিডিওর অডিওটি ৯৮.৮ শতাংশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যায়(আর্কাইভ লিংক)।
ভিডিও ক্লিপটিতে মানের ঠোঁটের নড়াচড়াও অডিওর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, যা থেকে বোঝা যায় ফুটেজটি এআই ব্যবহার করে বিকৃত করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ সম্পর্কিত অপতথ্য নিয়ে এএফপির আরও প্রতিবেদন পাওয়া যাবে এখানে।
কপিরাইট © এএফপি ২০১৭-২০২৬। এই কন্টেন্টের যেকোন বানিজ্যিক ব্যবহারের জন্য অনুমতি নেয়া বাধ্যতামূলক। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।
এমন কোনো কন্টেন্ট আছে যা আপনি এএফপি’কে দিয়ে ফ্যাক্ট চেক করাতে চান?
আমাদের সাথে যোগাযোগ