সিনেমা হলে হাতাহাতির পুরনো ফুটেজকে তেল আবিব বিমানবন্দরে হট্টগোলের বিভ্রান্তিকর দাবিতে প্রচার

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে হামলা চালিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে জুড়ে যুদ্ধের শুরু হয়। যুদ্ধের শুরুতেই নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয় ইসরায়েল। এ সময় যাত্রীরা তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর হয়ে ইসরায়েল ত্যাগ করার জন্য দৌড়াচ্ছেন দাবি করে অনলাইনে একটি ভিডিও ছড়ানো হয়। তবে দাবিটি পুরোপুরি অসত্য। ভিডিওটি মূলত জেরুজালেমের একটি সিনেমা হলে ধারণ করা হয়েছিল, যেখানে বন্ধ হয়ে যাবার পর একটি খাবারের কিয়স্ক পুনরায় খুলতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে একদল লোক দোকান কর্মচারীদের ওপর হামলা করে।  

ফেসবুকে ১২ মার্চ ২০২৬ তারিখে ছড়ানো একটি পোস্টের ক্যাপশনে বলা হয়, “তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে তুমুল সংঘর্ষ।”

৩০০ বারের বেশি শেয়ার হওয়া ভিডিওতে লোকজনের দুটি গ্রুপকে একটি কাউন্টারের দুই দিক থেকে একে অপরের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারতে দেখা যায়। 

Image
এএফপির যোগ করা ক্রস চিহ্নসহ ২৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে নেয়া অসত্য পোস্টের স্ক্রিনশট

২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলের এক যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়। প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েল এবং মধ্যেপ্রাচ্যের যেসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি রয়েছে, সেসব দেশের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান(আর্কাইভ লিংক)। 

হামলা শুরু হওয়ার দিন থেকেই ইসরায়েল তার আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়; অন্যদিকে ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনগুলো ইসরায়েলসহ ওই অঞ্চলে তাদের ফ্লাইট চলাচল স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয়(আর্কাইভ লিংক এখানে এবং এখানে)। 

পরবর্তীতে ইসরায়েলের কয়েকটি এয়ারলাইন কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার তাদের কিছু ফ্লাইট পুনরায় চালু করেছে। নিরাপত্তা নির্দেশিকা অনুযায়ী বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর থেকে ভ্রমণের অনুমতি আছে এমন যাত্রীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করতে চায় বলে ১৬ মার্চ ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েলের পরিবহন মন্ত্রণালয়।  

তবে ইরানের নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্রের “ধ্বংসাবশেষ” বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আঘাত করছে বলে ১৮ মার্চ ইসরায়েলে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানোর পর বিমান চলাচলে ফের ব্যাহত হয়। চলতি মাসের শেষের দিকে এক সপ্তাহের জন্য ডজনখানেক গন্তব্যে তাদের ফ্লাইট চলাচল স্থগিত রাখবে বলে ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েলি বিমান সংস্থা ‘ইএল এএল’।

একই ফুটেজ অনুরূপ দাবিতে ফেসবুকে ছড়ানো হয়। কিন্তু ভিডিওটির সাথে মধ্যপ্রাচের চলমান যুদ্ধের কোন সম্পর্ক নেই। 

অসত্যভাবে ছড়ানো ভিডিওটির কিফ্রেম ব্যবহার করে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চে দেখা যায়, ভিন্ন একটি কোণ থেকে ধারণ করা একই দৃশ্যের একটি ভিডিও ২০২৫ সালের ২০ জুলাই একটি এক্স পোস্টে শেয়ার করা হয়, যেখানে ভিডিওটিকে জেরুজালেমের একটি সিনেমা হলে বিশৃঙ্খলার দৃশ্য বলে দাবি করা হয়(আর্কাইভ লিংক)। 

একই দিন একটি ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম ‘আল আরাবি টিভি’। এতে বলা হয়, ক্লিপটি জেরুজালেমের ‘সিনেমা সিটি’-তে ধারণ করা এবং ওই ঘটনায় তিনজন কর্মী আহত হন (আর্কাইভ লিংক)। 

Image
অসত্যভাবে ছড়ানো ক্লিপ(বামে) এবং এক্সে প্রকাশিত ভিডিওর তুলনামূলক স্ক্রিনশট

অসত্য ভিডিওর পটভূমিতে থাকা সিঁড়ি, হলুদ রঙের ছাদ এবং কাউন্টারসহ অনেকগুলো বৈশিষ্টের সাথে ২০২৩ সালে গুগল ম্যাপে প্রকাশিত সিনেমা হলের একটি ছবির মিল দেখা যায়(আর্কাইভ লিংক)। 

Image
অসত্য পোস্টের ভিডিও(বাম) এবং গুগল ম্যাপের মধ্যকার মিল এএফপি কর্তৃক হাইলাইট করে তুলনামূলক স্ক্রিনশট

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইসরায়েল ন্যাশনাল নিউজ এবং দ্য টাইমস অব ইসরায়েল ওই দিনের ঘটনা নিয়ে প্রতিবেদন করেছে। এসব প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর একটি খাবারের কাউন্টার পুনরায় খুলতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে ‘আরব-বিরোধী দাঙ্গার’ অংশ হিসেবে ডজনখানেক যুবক সেখানকার কর্মীদের ওপর হামলা চালায় (আর্কাইভ লিংক এখানে এবং এখানে)।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ সম্পর্কিত অপতথ্য নিয়ে আমাদের আরও প্রতিবেদন পাওয়া যাবে এখানে।   

এমন কোনো কন্টেন্ট আছে যা আপনি এএফপি’কে দিয়ে ফ্যাক্ট চেক করাতে চান?

আমাদের সাথে যোগাযোগ