সিরিয়ায় ইসরায়েলি হামলার পুরনো ভিডিওকে ইরানের সংঘাতের সাথে অসত্যভাবে যুক্ত করে প্রচার

২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর বিমান হামলা চালায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হন। এই ঘটনার জবাবে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় শহর হাইফায় ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার দাবিতে সামাজিক মাধ্যমের পোস্টে একটি ভিডিও ছড়িয়েছে। তবে ভিডিওটি চলমান যুদ্ধের নয়। ভিডিওটি ২০২৫ সালের জুলাই মাসে দামেস্কে সিরিয়ার সামরিক সদর দপ্তরে ইসরায়েলি হামলার। 

ফেসবুকে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ছড়ানো একটি পোস্টের ক্যাপশনে বলা হয়, “ইসরায়েলের হাইফা সমুদ্র বন্দরে ইরানের হামলা।” 

ভিডিওতে একটি এলাকায় বিকট শব্দের পর কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী ছড়াতে দেখা যায়।  

Image
এএফপির যোগ করা ক্রস চিহ্নসহ ১৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে নেয়া অসত্য পোস্টের স্ক্রিনশট

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন।  প্রতিশোধ হিসেবে ইরান উপসাগরীয় বেশ কয়েকটি দেশের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা শুরু করলে একই দাবিতে ভিডিওটি ফেসবুকে এবং ইউটিউবে ছড়ানো হয়(আর্কাইভ লিংক)। 

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইসরায়েলে আঘাত হানে। অন্যদিকে ৩ মার্চ হাইফায় নৌঘাঁটি লক্ষ্য করে “উচ্চমানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা” চালিয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র হিজবুল্লাহ(আর্কাইভ লিংক এখানে এবং এখানে)।

তবে সামাজিক মাধ্যমের পোস্টে ছড়ানো ভিডিওটি ইরান যুদ্ধের আগের। 

অসত্যভাবে ছড়ানো ভিডিওটির কিফ্রেম ব্যবহার করে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চে দেখা যায়, একই বিস্ফোরণের ফুটেজটি ১৬ জুলাই ২০২৫ তারিখে আল জাজিরায় প্রকাশিত হয়(আর্কাইভ লিংক)।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ফুটেজটি সিরিয়ার সামরিক সদর দপ্তরে ইসরায়েলি হামলা। ওই হামলায় তিনজন নিহত হন। বেদুইন উপজাতিদের আক্রমণ থেকে দ্রুজ সংখ্যালঘুদের রক্ষার নামে হস্তক্ষেপ হিসেবে ইসরায়েল ওই হামলা চালায়।

স্থানীয় বেদুইন উপজাতিদের সাথে সংঘর্ষে ১০০ জনেরও বেশি লোক নিহত হওয়ার পর দ্রুজ সম্প্রদায়ের নেতাদের সাথে এক যুদ্ধবিরতি হয়। ওই যুদ্ধবিরতি তদারকি করার লক্ষ্যে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী দ্রুজ সংখ্যাগরিষ্ঠ শহর সুইডাতে প্রবেশ করে বলে প্রতিবেদন করেছে এএফপি(আর্কাইভ লিংক)।

তবে সরকারি বাহিনী বেদুইনদের সাথে যোগ দিয়ে শহর জুড়ে দ্রুজ যোদ্ধা এবং বেসামরিক নাগরিকদের ওপর এক রক্তক্ষয়ী আক্রমণ চালায় বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা। এতে প্রায় ২৫০ জন নিহত হয়। 

Image
অসত্য পোস্টের ভিডিও(বাম) এবং আল জাজিরার ভিডিওর মধ্যকার মিল এএফপি কর্তৃক হাইলাইট করে তুলনামূলক স্ক্রিনশট

ভিডিওতে দৃশ্যমান তরবারির মত স্মৃতিস্তম্ভটির সাথে দামেস্কের একটি ল্যান্ডমার্ক উমাইয়াদ স্কয়ারের মিল পাওয়া যায়(আর্কাইভ লিংক এখানে এবং এখানে)। 

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ সম্পর্কিত অপতথ্য নিয়ে এএফপির আরও প্রতিবেদন পাওয়া যাবে এখানে। 

এমন কোনো কন্টেন্ট আছে যা আপনি এএফপি’কে দিয়ে ফ্যাক্ট চেক করাতে চান?

আমাদের সাথে যোগাযোগ