তেল আবিবের পুরনো ভিডিওকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সাথে অসত্যভাবে যুক্ত করে প্রচার

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকে ঘিরে অনলাইনে পুরনো ভিডিও ও ছবি বিকৃতভাবে ছড়ানো হচ্ছে। এর মধ্যে ইরানের একটি হামলার পর তেল আবিবে আতঙ্কিত ইসরায়েলিরা পড়িমরি করে পালানোর অসত্য দাবিতে একটি ক্লিপ ছড়ানো হয়েছে। তবে ছড়ানো ভিডিওটি পুরনো। ২০২৫ সালের এপ্রিলে “পুলিশের অভিযানকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে ভুল বোঝাবুঝির” কারণে তৈরি হওয়া হট্টগোল নিয়ে প্রকাশিত এক সংবাদ প্রতিবেদনে ক্লিপটি দেখা যায়। 

ফেসবুকে ২ মার্চ ২০২৬ তারিখে ছড়ানো একটি পোস্টের ক্যাপশনে বলা হয়, “ব্যাংকার গুড়িয়ে দেওয়ার পর, ইয়াহুদিরা গর্ত খুঁজে পাচ্ছে না পালানোর।” 

পোস্টে যুক্ত একটি ভিডিওতে একটি খোলা জায়গায় বিশাল জনসমাবেশকে ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। ভিডিওটি  ৩২২,০০০ বার দেখা হয়েছে। 

Image
এএফপির যোগ করা ক্রস চিহ্নসহ ১৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে নেয়া অসত্য পোস্টের স্ক্রিনশট

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে একই ফুটেজ অনুরূপ দাবিতে ফেসবুকে ছড়ানো হয়(আর্কাইভ লিংক)। 

প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেসব দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় তেহরান(আর্কাইভ লিংক)।

১ মার্চ ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় শহর বেইত সেমেশে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কমপক্ষে নয়জন নিহত এবং কয়েক ডজন আহত হয়েছে। এর আগের দিন তেল আবিবে আরও একজন নিহত হন(আর্কাইভ লিংক)। 

এছাড়া, জেরুজালেমের একটি প্রধান সড়কে তিনজন আহত হয়েছেন।

আঞ্চলিক এই যুদ্ধ লেবাননের ওপরও ক্রমবর্ধমান প্রভাব বিস্তার শুরু করেছে। দীর্ঘদিন ধরে তেহরান সমর্থিত সেখানকার সশস্ত্র মুসলিম আন্দোলন হিজবুল্লাহ খোমেনির হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েলের ওপর ড্রোন ও রকেট হামলা চালায়। 

তবে, ভিডিওটি সাম্প্রতিক সংঘাতের সাথে সম্পর্কিত নয়। 

অসত্যভাবে ছড়ানো ভিডিওটির কিফ্রেম ব্যবহার করে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চে দেখা যায়, ভিডিওটি প্রথম ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম আইএলটিভির একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে ৩০ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত হয় (আর্কাইভ লিংক)। 

তেল আবিবের একটি প্রধান জনসমাগমস্থলের কথা উল্লেখ করে পোস্টের ক্যাপশনে বলা হয়, “হাবিমা স্কয়ারে পুলিশের গ্রেপ্তার অভিযানকে সন্ত্রাসী হামলা ভেবে আতঙ্কিত হয়ে জনতা পালাতে শুরু করে।”

রিপোর্টে আরও বলা হয় যে, মানসিক আঘাত ও শারীরিক হতাহতের জন্য ২১ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। 

“ঘটনাটি অপরাধমূলক ছিল, সন্ত্রাস-সম্পর্কিত ছিল না। ওই ঘটনায় কোনও গুলি চালানো হয়নি।”

Image
অসত্যভাবে ছড়ানো ক্লিপ(বামে) এবং ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত ভিডিওর তুলনামূলক স্ক্রিনশট

গুগলে আরও কিওয়ার্ড সার্চে তেল আবিবের একটি মেমোরিয়াল দিবসের অনুষ্ঠানে হওয়া ঘটনাটি সম্পর্কে সংবাদমাধ্যমের আরেকটি রিপোর্ট পাওয়া যায়(আর্কাইভ লিংক)। 

টাইমস অফ ইসরায়েল সংবাদপত্রের মতে, পুলিশের ওপর আক্রমণের চেষ্টা করার সন্দেহে একজনকে গ্রেপ্তার করার পর বিশৃঙ্খলা শুরু হয়। জনতা পুলিশের অভিযানকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবেভুল বোঝে(আর্কাইভ লিংক)। 

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ সম্পর্কিত অপতথ্য নিয়ে আমাদের আরও প্রতিবেদন পাওয়া যাবে এখানে। 

এমন কোনো কন্টেন্ট আছে যা আপনি এএফপি’কে দিয়ে ফ্যাক্ট চেক করাতে চান?

আমাদের সাথে যোগাযোগ