এআই দিয়ে তৈরি দুবাই বিমানবন্দরে হট্টগোলের ক্লিপ অনলাইনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে

সংযুক্ত আরব আমিরাতকে লক্ষ্য করে ইরানের নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দুবাই বিমানবন্দর ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় নিজেদের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে ইরান এই হামলা চালায়। কিন্তু বিশ্বের বিমান যোগাযোগের প্রধান কেন্দ্রের দৃশ্যের দাবিতে অনলাইনে ছড়ানো কথিত ভিডিওটি বানোয়াট। এতে কিছু দৃশ্যগত ত্রুটি রয়েছে, যা ভিডিওটিকে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরির ইঙ্গিত দেয়। 

ফেসবুকে ৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে ছড়ানো একটি পোস্টের ক্যাপশনে বলা হয়, “দুবাই এয়ারপোর্ট থেকে মানুষ পালাচ্ছে।”

পোস্টের সাথে যুক্ত ১৪ সেকেন্ডের ভিডিওতে একটি বিমানবন্দরের রানওয়েতে আগুন লাগার পর একদল লোককে তাদের লাগেজ নিয়ে তাড়াহুড়ো করে দৌড়াতে দেখা যায়। 

Image
এএফপির যোগ করা এআই প্রতীকসহ ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে নেয়া অসত্য পোস্টের স্ক্রিনশট

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু হয়। নিজেদের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে কাজ করে, সেসব দেশের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান(আর্কাইভ লিংক)। 

এসব হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র এবং আমেরিকার সামরিক স্থাপনা আবাসস্থল সংযুক্ত আরব আমিরাত রয়েছে। বিস্ফোরণে দুবাইয়ের মানব তৈরি পাম জুমেইরাহ দ্বীপে কেঁপে ওঠে। এছাড়া, ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ থেকে অতি বিলাশবহুল বুর্জ আল আরব হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। 

ইরানের মিসাইলের লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে দুবাই বিমানবন্দরও ছিল। বিমানবন্দর পরিচালনা পর্ষদের মতে, একটি কনকোর্সের “সামান্য ক্ষতির” জেরে চারজন কর্মী আহত হয়েছে(আর্কাইভ লিংক)।

তবে বিমানবন্দরটি আংশিকভাবে কার্যক্রম শুরু করার পর, ৭ মার্চ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে একটি “অজ্ঞাত বস্তু আটকানোর কথা জানালে” আবারও বিমান চলাচল সাময়িক ভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়(আর্কাইভ লিংক এখানে এবং এখানে)।

একই দাবিতে ভিডিওটি ফেসবুকেইউটিউবে অন্যত্র এবং আরবি ভাষার পোস্টেও ছড়ানো হয়েছে। পৃথক আরেকটি পোস্টে ভিডিওটি ইসরায়েলের একটি বিমানবন্দরে ধারণ করা হয়েছে বলে অসত্যভাবে দাবি করা হয়েছে।

কিন্তু নিবিড় পর্যবেক্ষণে ভিডিওতে কিছু দৃশ্যমান ত্রুটি পাওয়া যায়, যা ভিডিওটিকে এআই দিয়ে তৈরির ইঙ্গিত দেয়। 

এসব ত্রুটির মধ্যে রয়েছে -বাম দিকের কাচের প্যানেলের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তি হেঁটে যাওয়া, কয়েকটি লাগেজ নিজে নিজেই নড়চড়া করা এবং ক্লিপটির শেষে দিকে একটি অস্বাভাবিক খোলা ওয়েটিং এরিয়া।  

Image
অসত্য ক্লিপের দৃশ্যগত অসঙ্গতিগুলো এএফপি কর্তৃক চিহ্নিত করে ১২ মার্চ ২০২৬ তারিখে নেয়া স্ক্রিনশট

এআই ভিডিও ডিটেক্টর টুল হাইভ মডারেশন ব্যবহার করে এক বিশ্লেষণে ভিডিওটি “এআই-জেনারেটেড বা ডিপফেক কন্টেন্ট থাকার সম্ভাবনা” দেখা যায় (আর্কাইভ লিংক)। 

Image
হাইভ মডারেশন টুলের ফলাফলের স্ক্রিনশট

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ সম্পর্কিত অপতথ্য নিয়ে আমাদের আরও প্রতিবেদন পাওয়া যাবে এখানে। 

এমন কোনো কন্টেন্ট আছে যা আপনি এএফপি’কে দিয়ে ফ্যাক্ট চেক করাতে চান?

আমাদের সাথে যোগাযোগ