শারজায় আবাসিক ভবনে আগুনের পুরনো ভিডিওকে সিআইএ ভবনে ইরানের হামলার দাবিতে অসত্যভাবে প্রচার
- প্রকাশিত 11 মার্চ 2026, 11:56
- 2 এক্স মিনিটে পড়ুন
- লেখক: এএফপি মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা
- অনুবাদ এবং অভিযোজন Rasheek MUJIB, AFP Bangladesh
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার প্রতিশোধ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালিয়েছে দেশটি। কিন্তু অনলাইনে ছড়ানো জ্বলন্ত বহুতল ভবনের ফুটেজটি “দুবাইয়ে সিআইএ-র সদর দপ্তর” নয়। ভিডিওটি ইতোপূর্বে ২০১৫ সালের অক্টোবরে ছড়ানো হয়। এটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধান বন্দরনগরী শারজাহর একটি আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডের।
ফেসবুকে ৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে ছড়ানো একটি পোস্টের ক্যাপশনে বলা হয়, “আজ সকালে দুবাইতে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) সদর দপ্তরে হামলা চালায় ইরান। এ ঘটনা ফুটেজ প্রকাশরীদের আটক করেছে দুবাই।”
ভিডিওতে একটি আকাশচুম্বী ভবন থেকে ঘন ধোঁয়া উড়তে দেখা যাচ্ছে।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় নিজেদের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান পাল্টা হামলা শুরু করে। এ সময় একই ফুটেজ ভারত, পাকিস্তান এবং নাইজেরিয়াতে অনুরূপ দাবিতে ফেসবুকে ছড়ায়(আর্কাইভ লিংক)।
ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেসব দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে প্রতিশোধ নেয় তেহরান(আর্কাইভ লিংক)।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, সংযুক্ত আরব আমিরাতকে লক্ষ্য করে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণে দুবাইয়ে মানব নির্মিত পাম জুমেইরাহ দ্বীপ কেঁপে উঠে এবং ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ থেকে অতি-বিলাসবহুল হোটেল বুর্জ আল আরবে আগুন লেগে যায়(আর্কাইভ লিংক)।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাকিস্তানি, নেপালি এবং বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছে(আর্কাইভ লিংক)।
উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলোতে ইরান হামলা তীব্রতর করলে ৩ মার্চ রাতে এক ড্রোন হামলায় দুবাইতে মার্কিন কনস্যুলেটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তবে শহরে সিআইএ স্থাপনায় ইরানের ড্রোন হামলা করেছে বলে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি (আর্কাইভ লিংক)।
প্রসঙ্গত, সিআইএ-এর সদর দপ্তর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া রাজ্যের ল্যাংলিতে অবস্থিত(আর্কাইভ লিংক)।
অসত্যভাবে ছড়ানো ভিডিওটির কিফ্রেম ব্যবহার করে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চে দেখা যায়, এক দশকেরও বেশি সময় আগে ইউটিউবে প্রকাশিত একটি ফুটেজের সাথে ভিডিওটির মিল রয়েছে(আর্কাইভ লিংক)।
২০১৫ সালের ২০ অক্টোবর পোস্ট করা ইউটিউব ভিডিওটির আরবি ভাষার শিরোনামে বলা হয়, “সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায় একটি বিশাল অগ্নিকাণ্ড।”
আরও কিওয়ার্ড অনুসন্ধানে ২০১৫ সালের অক্টোবরের শুরুতে স্থানীয় এবং বিদেশী মিডিয়ায় প্রকাশিত একাধিক অনুরূপ ভিডিও পাওয়া যায়(আর্কাইভ লিংক এখানে এবং এখানে)।
প্রতিবেদন অনুসারে শারজায় একটি ৩০ তলা আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তবে কোনও হতাহত ছাড়াই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয় (আর্কাইভ লিংক এখানে এবং এখানে)।
২০১৫ সালের মার্চ মাসে গুগল স্ট্রিট ভিউতে তোলা ভবনের ছবির সাথে অনলাইনে ছড়ানো ভিডিওর মিল পাওয়া যায়(আর্কাইভ লিংক)।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ সম্পর্কিত অপতথ্য নিয়ে আমাদের আরও প্রতিবেদন পাওয়া যাবে এখানে।
কপিরাইট © এএফপি ২০১৭-২০২৬। এই কন্টেন্টের যেকোন বানিজ্যিক ব্যবহারের জন্য অনুমতি নেয়া বাধ্যতামূলক। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।
এমন কোনো কন্টেন্ট আছে যা আপনি এএফপি’কে দিয়ে ফ্যাক্ট চেক করাতে চান?
আমাদের সাথে যোগাযোগ