ইরানে আমেরিকান সৈন্য আটকের ছবিগুলো এআই দিয়ে তৈরি
- প্রকাশিত 10 মার্চ 2026, 12:08
- 2 এক্স মিনিটে পড়ুন
- লেখক: Bill MCCARTHY, এএফপি মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা
- অনুবাদ এবং অভিযোজন AFP বাংলাদেশ, Eyamin SAJID
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের পরিধি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ইরানে স্থল সেনা পাঠানোর ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তথাপি ইরানি বিপ্লবী গার্ডের হাতে আমেরিকান সৈন্য বন্দির কথিত ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে। কিন্তু দৃশ্যগত অসঙ্গতি এবং প্রতিটি ফ্রেমে গুগলের এআই টুল জেমিনির জলছাপ প্রমাণ করে কথিত ছবিগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি।
৬ মার্চ ২০২৬ তারিখ একটি ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, “ডেল্টা ফোর্সের অভিযান ব্যর্থ: ইরানের হাতে বন্দি বহু মার্কিন সেনা, তেহরানের বার্তা এটা ভেনেজুয়েলা নয়।”
একই ধরণের পোস্ট ফেসবুক এবং এক্স-এর মতো অন্যান্য প্ল্যাটফর্মেইংরেজি এবং আরবি, স্প্যানিশ, ফরাসি ভাষাসহ এবং অন্যান্য ভাষায়ও ছড়ানো হয়েছে।
কিছু পোস্টে দাবি করা হয়েছে যে, ছবিতে দৃশ্যমান সৈন্যরা একই স্পেশাল ফোর্সের সদস্য, যাদেরকে ট্রাম্প জানুয়ারিতে কারাকাস থেকে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে পাকড়াও করার জন্য পাঠিয়েছিলেন।
স্থলভাগে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইসরায়েরের আক্রমণ হবে “তাদের জন্য একটি বড় বিপর্যয়” ৫ মার্চ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির এমন মন্তব্যের পর ছবিগুলো অনলাইনে দেখা যায়। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যকে একটি “অযথা মন্তব্য” বলে এনবিসি নিউজকে বলেন ট্রাম্প। ৫ মার্চ সম্প্রচার মাধ্যমটিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরানে সেনা মোতায়েন করা মানে “সময়ের অপচয়”।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর যুদ্ধ শুরু হয়। এতে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবকাঠামোতে প্রতিশোধমূলক আক্রমণ শুরু করেছে ইরান।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর কুয়েতে ড্রোন হামলায় ছয় মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। কিন্তু ইরানি বাহিনীর হাতে আরও বেশ কয়েকজন বন্দী হওয়ার কথিত ছবিগুলো অসত্য।
এএফপি যাচাই করে দেখেছে, প্রতিটি ছবির নীচের ডানদিকের কোণায় গুগলের এআই টুল জেমিনির জলছাপ দেখা যায়।
গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চের ফলাফলে বলা হয় দৃশ্যগুলো “গুগল এআই দিয়ে তৈরি” এবং সিন্থআইডি ছবিগুলোতে জেমিনির অদৃশ্য জলছাপ সনাক্ত করেছে। গুগলের মতে, অদৃশ্য জলছাপ এআই টুল ব্যবহার করে তৈরি বা এডিটেড কন্টেন্ট সনাক্ত করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
এএফপি ছবিগুলোতে বিকৃত আঙুল, ঝাপসা মুখ এবং সৈন্যদের ইউনিফর্মের অসঙ্গতিপূর্ণ ধরণ এবং দাগসহ এমন কিছু অনিয়মও শনাক্ত করেছে, যা এআই-দিয়ে তৈরি অসত্য ছবির বৈশিষ্ট্য।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ সম্পর্কিত অপতথ্য নিয়ে আমাদের আরও প্রতিবেদন পাওয়া যাবে এখানে।
কপিরাইট © এএফপি ২০১৭-২০২৬। এই কন্টেন্টের যেকোন বানিজ্যিক ব্যবহারের জন্য অনুমতি নেয়া বাধ্যতামূলক। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।
এমন কোনো কন্টেন্ট আছে যা আপনি এএফপি’কে দিয়ে ফ্যাক্ট চেক করাতে চান?
আমাদের সাথে যোগাযোগ