ইয়েমেনের পুরনো ভিডিওকে সৌদি আরবে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা হিসেবে অসত্যভাবে প্রচার

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের ওপর বিমান হামলা চালায় ইসরায়ের ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বাহিনী। জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলের যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি রযেছে, সেসব দেশে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। তবে উপকূলীয় একটি অঞ্চল থেকে বিশাল আগুন এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়ে যাওয়ার ভিডিওটি সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে ইরানের হামলা পরবর্তী পরিস্থিতির নয়। আদতে ফুটেজটি ২০২৪ সালে ইয়েমেনের একটি বন্দরে ইসরায়েলি বিমান হামলার ঘটনার।  

ফেসবুকে ১ মার্চ ২০২৬ তারিখে ছড়ানো একটি পোস্টের ক্যাপশনে বলা হয়, “সৌদি আরবের রিয়াদের মার্কিন ঘাঁটি পুড়ছে আলহামদুলিল্লাহ। এমন নিউজ দেখলে মনে খুব শান্তি লাগে।সবাই আমরা দুআ করি ইরানকে আল্লাহ বিজয় দান কর।”  

পোস্টতে একটি বাণিজ্যিক এলাকার কাছে বিশাল আগুন এবং ঘন ধোঁয়ার একটি ভিডিও দেখা যায়।

Image
এএফপির যোগ করা ক্রস চিহ্নসহ ২ মার্চ ২০২৬ তারিখে নেয়া অসত্য পোস্টের স্ক্রিনশট

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে প্রতিশোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। বিশেষ করে উপসাগরীয় বিভিন্ন আরব রাষ্ট্রে ইরান হামলা চালিয়েছে, যেখানে কয়েক হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে(আর্কাইভ লিংক)। 

উপসাগরীয় একটি সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, সৌদি আরবের রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং মার্কিন সেনা কর্মকর্তাদের আবাসস্থল প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল, তবে আঘাত হানার আগেই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে(আর্কাইভ লিংক)। 

একই দাবিতে ফুটেজটি ফেসবুকে অন্যত্র ছড়ানো হয়। ভিডিওটি আরবি এবং মালয়-এর মতো একাধিক ভাষায় ছড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে ফিলিপিনো ভাষার একটি পোস্টে ক্লিপটিকে ইরানি হামলায় সৌদি আরবের জিজান অঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত একটি তেল স্থাপনার ভিডিও বলে দাবি করা হয়েছে।  

কিন্তু ভিডিওটি পুরনো এবং এতে ইয়েমেনের বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত বন্দরনগরী হোদেইদায় ইসরায়েলি বিমান হামলার দৃশ্য দেখানো হয়েছে। 

অসত্যভাবে ছড়ানো ভিডিওটির কিফ্রেম ব্যবহার করে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চে দেখা যায়, ভিডিওটি ২০ জুলাই ২০২৪ তারিখে মিশরীয় মিডিয়া আউটলেট রাসড নিউজ নেটওয়ার্ক এবং ইয়েমেনি সংবাদ সংস্থা এআইসি টিভির ইউটিউব চ্যানেলে প্রথম প্রকাশিত হয়(আর্কাইভ লিংক এখানে এবং এখানে)। 

উভয় সংবাদমাধ্যমই জানায়, ভিডিওটি ইয়েমেনের হোদেইদা বন্দরে ইসরায়েলি বিমান হামলার। অন্যান্য সংবাদমাধ্যমও ভিন্ন কোণ থেকে নেওয়া অগ্নিকাণ্ডের ভিডিও প্রকাশ করেছে (আর্কাইভ লিংক এখানে এবং এখানে)। 

Image
অসত্যভাবে ছড়ানো ক্লিপ(বামে) এবং ইউটিউবে প্রকাশিত ভিডিওর তুলনামূলক স্ক্রিনশট

ইয়েমেনের হুতি-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে জ্বালানি ও আন্তর্জাতিক সাহায্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ হোদেইদা বন্দরে দূরপাল্লার ওই হামলাটি চালানো হয়। এটি আরব উপদ্বীপের দরিদ্রতম দেশটির বিরুদ্ধে ইসরায়েলের প্রথম হামলাও ছিল (আর্কাইভ লিংক)।

লোহিত সাগর উপকূলের বেশিরভাগ অংশসহ দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণকারী হুতি বিদ্রোহীরা জানিয়েছে যে ইসরায়েলের হামলায় বন্দরের জ্বালানি মজুদাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ইয়েমেন পেট্রোলিয়াম কোম্পানির ছয় জন বন্দর কর্মচারী নিহত হন। 

এএফপি সেই সময় বন্দরটিতে আগুন লাগার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিল। 

ভিডিওটি এর আগে আরেকটি বিভ্রান্তিকর প্রেক্ষাপটে ছড়ানো হয়েছিল, যা এএফপি খণ্ডন করেছে এখানে।  

এমন কোনো কন্টেন্ট আছে যা আপনি এএফপি’কে দিয়ে ফ্যাক্ট চেক করাতে চান?

আমাদের সাথে যোগাযোগ