ইরানে বিক্ষোভকারীদের চিত্র হিসেবে কানাডায় ধারণ করা ভিডিওকে বিভ্রান্তিকরভাবে প্রচার
- প্রকাশিত 19 জানুয়ারি 2026, 09:14
- 2 এক্স মিনিটে পড়ুন
- লেখক: Devesh MISHRA, Sachin BAGHEL, এএফপি ইন্ডিয়া, এএফপি বাংলাদেশ
- অনুবাদ এবং অভিযোজন Rasheek MUJIB
জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ে ক্ষোভ থেকে নতুন বছরের শুরুতে ইরানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভ দমনে কর্তৃপক্ষ অভিযান শুরু করলে দেশটির ক্ষুব্ধ জনতা রাস্তায় নেমে আসে। এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে সেটিকে ইরানের বিক্ষোভে অংশ নেয়া এক নারীর প্রতিবাদের দৃশ্য হিসেবে অসত্যভাবে দাবি করা হয়। প্রকৃতপক্ষে ক্লিপটি ইরানের আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে কানাডায় নির্বাসিত এক ইরানি নারীর প্রতিবাদের দৃশ্য।
১০ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে ছড়ানো একটি ফেসবুক রিলের ক্যাপশনে বলা হয়, “ইরানে হিজাব বিরোধী তরুণীর প্রতিবাদ! আয়াতুল্লাহ খামেনির ছবি পুড়িয়ে সিগারেট ধরালেন।”
ভিডিওতে একজন নারীকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির একটি ছবিতে আগুন লাগাতে এবং সেই আগুন দিয়ে সিগারেট জ্বালাতে দেখা যায়।
দেশের অর্থনৈতিক স্থবিরতা নিয়ে অসন্তোষের জেরে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীদের ওপর কর্তৃপক্ষের দমন-পীড়নের পরেও যখন বিক্ষোভ জোরদার হতে থাকে, তখন ভিডিওটি বাংলাদেশে ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্টে ছড়ানো হয়(আর্কাইভ লিংক)।
দেশব্যাপী এই বিক্ষোভ দেশটির ধর্মতান্ত্রিক শাসনের জন্য এখন পর্যন্ত অন্যতম বৃহত্তম বাধায় পরিণত হয়েছে। বিক্ষোাভকারীরা ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর থেকে শুরু হওয়া ধর্মীয় শাসন ব্যবস্থার অবসানের দাবি তুলে ধরছেন(আর্কাইভ লিংক)। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ এই অস্থিরতা উস্কে দেওয়ার জন্য বিদেশি হস্তক্ষেপকে দায়ী করেছে এবং দেশজুড়ে নিজস্ব পাল্টা সমাবেশ আয়োজন করেছে।
নরওয়ে-ভিত্তিক ইরান হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী অন্তত ৩,৪২৮ জন বিক্ষোভকারীকে হত্যা করেছে এবং ১০,০০০ জনেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে (আর্কাইভ লিংক)।
তবে অনলাইনে ছড়ানো ভিডিওটি ইরানে ধারণ করা হয়নি।
কানাডার ভিডিও
অসত্যভাবে ছড়ানো ভিডিওটির কিফ্রেম ব্যবহার করে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চে দেখা যায়, একই ভিডিওটি একটি এক্স পোস্টে ৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হয়(আর্কাইভ লিংক)।
কিওয়ার্ড অনুসন্ধানে জানা যায় যে, ১৩ জানুয়ারি দ্য অবজেক্টিভ নামে একটি স্প্যানিশ সংবাদ ওয়েবসাইট এক্স অ্যাকাউন্ট ব্যবহারকারীর একটি সাক্ষাৎকার নেয়(আর্কাইভ লিংক)।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ভিডিওতে দৃশ্যমান নারীটি কানাডায় নির্বাসিত এক ইরানি নারী।
পর্তুগিজ ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা লুসাও দাবিটি খণ্ডন করেছে। অবস্থান সনাক্ত করে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে যে, ভিডিওটি কানাডার টরন্টোর উপকণ্ঠে রিচমন্ড হিলের একটি গাড়ি পার্কিংয়ের সামনে ধারণ করা হয়েছিল(আর্কাইভ লিংক)।
অসত্য ভিডিওটির সাথে টরন্টো শহরের গুগল স্ট্রিট ভিউয়ের ছবির মিল পাওয়া যায় (আর্কাইভ লিংক)।
এএফপি ইরান বিক্ষোভ সম্পর্কিত অন্যান্য অসত্য দাবি খণ্ডন করেছে এখানে।
কপিরাইট © এএফপি ২০১৭-২০২৬। এই কন্টেন্টের যেকোন বানিজ্যিক ব্যবহারের জন্য অনুমতি নেয়া বাধ্যতামূলক। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।
এমন কোনো কন্টেন্ট আছে যা আপনি এএফপি’কে দিয়ে ফ্যাক্ট চেক করাতে চান?
আমাদের সাথে যোগাযোগ