ভারতের কাছে বাংলাদেশী হিন্দু মেয়ের সাহায্য চাওয়ার ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি
- প্রকাশিত 13 জানুয়ারি 2026, 14:04
- 2 এক্স মিনিটে পড়ুন
- লেখক: Rasheek MUJIB, এএফপি বাংলাদেশ
ডিসেম্বর মাসে ময়মনসিংহে দিপু চন্দ্র দাস নামে এক হিন্দু শ্রমিক হত্যার জেরে ভারতের সাথে নাজুক অবস্থায় থাকা বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো একজন নারীর কেঁদেকেটে কথিত সাহাস্য চাওয়ার ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি। ভিডিওটি যে অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করা হয়েছে, সেটি নিয়মিত এআই দিয়ে তৈরি কন্টেন্ট পোস্ট করে থাকে। এছাড়া এতে এমন কিছু দৃশ্যগত অসামঞ্জস্য পাওয়া যায়, যা ভিডিওটিকে কৃত্রিমভাবে তৈরির ইঙ্গিত দেয়।
৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ছড়ানো একটি ফেসবুক পোস্টের ক্যাপশনে বলা হয়, “বাংলাদেশ থেকে আরও একটি সনাতনী বোনের আর্তনাদ একজন ভারতীয় সংখ্যালঘু পরিবারের সন্তান হয়ে হৃদয় কে কাঁদিয়ে দিল। ভারত সরকারের কাছে অনুরোধ বাংলাদেশকে চরম শিক্ষা দেওয়ার প্রয়োজন আছে!”
পোস্টে যুক্ত ১৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে একজন নারীকে কাঁদতে দেখা যায়। ফেসবুকে পোস্ট করার পর থেকে ভিডিওটি ৭৪,০০০ বারেও বেশি হয়েছে।
একই দাবিতে ভিডিওটি ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামে ছড়ানো হয়।
পোস্টটি নিয়ে মন্তব্যকারীদের একজন লিখেন, “বাংলাদেশকে উচিত শিক্ষা দিতে হবে।”
ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহে দিপু চন্দ্র দাস নামে এক কারখানা শ্রমিকে হত্যার পর ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো হয়(আর্কাইভ লিংক)।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওই সদস্যকে হত্যার ঘটনায় হিন্দু-সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে(সংরক্ষিত লিঙ্ক)।
ভারতের দ্য হিন্দু পত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে ভারতে বেশ কয়েকটি শহরে বাংলাদেশি দূতাবাসের সামনে সমাবেশ করেছে বিক্ষোভকারী(আর্কাইভ লিংক)।
এদিকে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম ছাত্রনেতা শরীফ ওসমান হাদি ঢাকায় মুখোশধারীদের গুলিতে জখম হয়ে চিকিৎসারত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর বাংলাদেশেও ধারাবাহিক বিক্ষোভ চলছে।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতের হস্তক্ষেপের একজন সোচ্চার সমালোচক ছিলেন ওসমান হাদি।
তবে অনলাইনে ছড়ানো ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তথা এআই দিয়ে তৈরি।
অসত্যভাবে ছড়ানো ভিডিওটির কিফ্রেম ব্যবহার করে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চে দেখা যায় একই ভিডিওটি ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ফেসবুকে প্রথম প্রকাশ করা হয়েছিল(আর্কাইভ লিংক)।
পেজটিতে একই ধরনের বেশ কয়েকটি ক্লিপ পাওয়া যায়। ভিডিওগুলো এআই দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বলে ৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে এএফপি-কে জানিয়েছেন পেজের এডমিন।
ফুটেজটির আরও বিশ্লেষণে একাধিক দৃশ্যগত অসঙ্গতি পাওয়া যায়, যেগুলো ভিডিওটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরির ইঙ্গিত দেয়। উদাহরণ স্বরূপ, মেয়েটির মুখের নড়াচড়ার সাথে সাথে তার দাঁতগুলো একবার অস্পষ্ট হয়ে আবার স্পষ্ট হয়ে যেতে দেখা যায়।
এএফপি বাফেলো বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি ডিপফেক-ও-মিটার টুলটির মাধ্যমে ভিডিও ক্লিপটি পরীক্ষা করে দেখেছে, এবং যেখানে ভিডিওটি ১০০ শতাংশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে (আর্কাইভ লিংক)।
এএফপি বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা সম্পর্কিত অন্যান্য অসত্য দাবি খণ্ডন করেছে এখানে।
কপিরাইট © এএফপি ২০১৭-২০২৫। এই কন্টেন্টের যেকোন বানিজ্যিক ব্যবহারের জন্য অনুমতি নেয়া বাধ্যতামূলক। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।
এমন কোনো কন্টেন্ট আছে যা আপনি এএফপি’কে দিয়ে ফ্যাক্ট চেক করাতে চান?
আমাদের সাথে যোগাযোগ