জেফরি এপস্টেইনের সাথে নিউ ইয়র্কের মেয়র ও তাঁর মায়ের এআই দিয়ে তৈরি ছবি অনলাইনে প্রচার

জেফরি এপস্টেইনের বিরুদ্ধে চালানো তদন্তের নথিপত্র থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে একটি নতুন চালান প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। এরপর সামাজিক মাধ্যমে কিছু বানোয়াট ছবি ছড়িয়ে সেগুলোকে যৌন অপরােধে দোষী সাব্যস্ত প্রায়ত এপস্টেইনের সাথে নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি এবং তাঁর চলচ্চিত্র নির্মাতা মা মীরা নায়ারের মধ্যকার যোগ সূত্রের প্রমাণ হিসেবে অসত্যভাবে দাবি করা হয়। এএফপির একটি বিশ্লেষণে দেখা যায়, ছবিগুলো এআই দিয়ে তৈরি। যেগুলো মূলত একটি প্যারোডি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত হয়েছিল।

২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ছড়ানো একটি ফেসবুক পোস্ট ক্যাপশনে বলা হয়, “প্রথম ছবিতে পেডোফাইল এপস্টেইনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটি কে জানেন? আপনাদের জোহরান মামদানী। এপস্টেইনের রিপোর্ট প্রকাশের পর অনেকেই বলছে জোহরান মামদানী পেডোফাইল এপস্টেইনের অবৈধ সন্তান হতে পারেন। ”

ছবিতে মায়ের সাথে তরুণ মামদানিকে এপস্টেইন এবং তাঁর বান্ধবী ঘিসলাইন ম্যাক্সওয়েল, প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রপতি বিল ক্লিনটন এবং বিলিয়নেয়ার বিল গেটস এবং জেফ বেজোসের সাথে দেখা যায়।

একই দিন ফেসবুক ছড়ানো অন্য একটি পোস্টের ক্যাপশনে বলা হয়, “ভারতের পাকপন্থী জিহাদী উমর খালিদ আর সার্জিল ইমামকে নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠা জোহরান মামদানি যে শুধুমাত্র তার কামসুত্র সিনেমা বানানো মায়ের কঠোর পরিশ্রমের কারণেই নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র হয়েছেন , সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে? আমেরিকায় জোর গুঞ্জন যে এই মামদানি নাকি এপস্টিন এর জৈবিক সন্তান!”

ছবিতে মামদানিকে কোলে নিয়ে নায়ারকে ক্লিনটন এবং এপস্টেইনের পাশে দাঁড়ানো অবস্থায় দেখা যায়।   

Image
এএফপির যোগ করা লাল ক্রস চিহ্নসহ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে নেয়া অসত্য পোস্টের স্ক্রিনশট

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টেইনের বিরুদ্ধে তদন্তের লক্ষ লক্ষ নথি প্রকাশ করার পর একই দাবিতে ছবিগুলো অনলাইনে ছড়াতে শুরু করে। অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌন পাচারের অভিযোগে বিচারের অপেক্ষায় থাকা এপস্টেইন ২০১৯ সালে নিউ ইয়র্কের একটি কারাগারে মারা যান(আর্কাইভ লিংক)।

ইতোপূর্বে  প্রকাশিত নথিতে এপস্টেইনের সাথে ক্লিনটন এবং মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক নির্বাহী, সেলিব্রিটি, শিক্ষাবিদ এবং রাজনীতিবিদদের সম্পর্কের গোপন চিত্র ফুটে উঠে। 

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত এপস্টেইন ফাইলসের একাধিক নথিতে নায়ারের নাম দেখা যায়। 

তাঁর প্রথম নাম দেখা যায় ২০০৯ সালের ২১ অক্টোবর তারিখের এক ইমেইলে, যেখানে বলা হয়েছে যে নায়ার ক্লিনটন এবং বেজোসের সাথে একটি পার্টিতে উপস্থিত ছিলেন(আর্কাইভ  লিংক)। 

Image
৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে মার্কিন বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে থাকা এপস্টেইন লাইব্রেরি তথ্যসংগ্রহ থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট।

কিন্তু অনলাইনে ছড়ানো কোনও ছবিই বাস্তব নয়।

গুগল রিভার্স ইমেজ সার্চে ছবিগুলো “গুগল এআই দিয়ে তৈরি” বলে জানা যায়।  

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি কন্টেন্ট শনাক্ত করার জন্য গুগলের ডিটেক্টর টুল সিন্থআইডি ডিটেক্টরে আরও একটি বিশ্লেষণে দেখায়া যে, ছবিটি গুগলের টুল ব্যবহার করে তৈরির “সর্বোচ্চ” সম্ভাবনা রয়েছে(আর্কাইভ লিংক)। 

Image
সিন্থআইডি ডিটেক্টরের ফলাফলের স্ক্রিনশট
Image
সিন্থআইডি ডিটেক্টরের দ্বিতীয় ছবির বিশ্লেষণের ফলাফলের স্ক্রিনশট

গুগলে কিওয়ার্ড সার্চে দেখা যায় যে, ছবিগুলো শুরুতে ডিএফএফ নামে একটি প্যারোডি এক্স  অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত হয়। অ্যাকাউন্টটি নিয়মিত তারকাদের এআই দিয়ে তৈরি ছবি পোস্ট করে থাকে।

অ্যাকাউন্টটির বিবরণীতে বলা হয়: “আমরা তাদের সকলকে খুঁজে বের করি এবং উচ্চমানের এআই ভিডিও এবং মিমের মাধ্যমে প্রকাশ করি”(আর্কাইভ এখানে এবং এখানে)।

এছাড়া ছবিতে থাকা একাধিক দৃশ্যগত ক্লু সেগুলোকে এআই দিয়ে তৈরির ইঙ্গিত দেয়।

প্রথমত, শিশুটি ছোট বাচ্চা থেকে তরুণ বয়সে পরিণত হলেও দুটি ছবিতে প্রাপ্তবয়স্ক লোকদের এই ধরনের চেহারায় দেখা যায়। 

Image
এএফপি কর্তৃত দৃশ্যগত অসঙ্গতি চিহ্নিত করে ছবি দুটির স্ক্রিনশট

দ্বিতীয়ত, সবগুলো ছবিতে মামদানিকে শিশু অথবা তরুণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। কিন্তু ২০০৯ সালের যে পার্টিতে ক্লিনটন ও বেজোসের সাথে নায়ারের যোগ দেয়া কথা বলা হচ্ছে, তখন মামদানির বয়স ছিল ১৮ বছর আর্কাইভ লিংক)।

এছাড়া গুগলে কিওয়ার্ড সার্চে ২০০৪ সালে একটি চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ারে মায়ের সাথে মামদানির অংশ নেয়ার ছবি শাটারস্টক এবং গেটি ইমেজে পাওয়া যায়। সেখানে তাদেরকে একই ধরনের পোশাকে দেখা যায়, যেমনটি বানোয়াট ছবিতে দেখা গেছে(লিংকএখানে)। 

এএফপি এর আগেও এপস্টেইন ফাইলসসম্পর্কিত অন্যান্য অপতথ্য খণ্ডন করেছে। 

এমন কোনো কন্টেন্ট আছে যা আপনি এএফপি’কে দিয়ে ফ্যাক্ট চেক করাতে চান?

আমাদের সাথে যোগাযোগ