নিরাপত্তা মহড়ার ভিডিওকে নির্বাচন বিরোধী বিক্ষোভ হিসেবে বিভ্রান্তিকরভাবে প্রচার

১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রচারণার সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু অনলাইনে ছড়ানো নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে কথিত আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের ভিডিওগুলো নির্বাচন বয়কটের দাবিতে কোন বিক্ষোভের নয়। ভিডিওগুলো নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা মহড়ার বলে এএফপিকে জানিয়েছে পুলিশ। এছাড়া স্থানীয় অনেক গণমাধ্যম সেসব মহড়ার ফুটেজও প্রকাশ করেছে। 

ফেসবুকে ৯ ফেব্রেুয়ারি ২০২৬ তারিখে ছড়ানো একটি পোস্টের ক্যাপশনে বলা হয়, “বয়কট বয়কট, অবৈধ নির্বাচন মানি না, মানবো না।  জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু!”

পোস্টে যুক্ত ভিডিওতে দুটি ক্লিপ দেখা যায়। 

প্রথম ক্লিপে সেনা কর্মকর্তাদেরকে বেশ কয়েকজন লোককে আটক করতে দেখা যায়। আর দ্বিতীয় ক্লিপটিতে পুলিশ ও সেনা কর্মকর্তাদের একটি সারির সামনে বিক্ষোভকারীদের “নির্বাচন মানি না, মানবো না” শীর্ষক স্লোগান দিতে দেখা যায়। 

ভিডিওটির কিছু দৃশ্য অনুভূমিকভাবে পরিবর্তণ করে একই দাবিতে ফেসবুকে অন্যত্র ছড়ানো হয়েছে। 

অন্য একটি ফেসবুক পোস্টে ছড়ানো একটি ভিডিওতে নিরাপত্তা বাহিনীর পোশাক পরিহিত কর্মকর্তাদের সাথে এক দল লোককে বিবাদে জড়াতে দেখা যায়। ভিডিওটির ক্যাপশনে বলা হয়, “হাসনাত আব্দুল্লাহর আসনে দেবিদ্বারে বিএনপি সেনাবাহিনীর সংঘর্ষ। নিহত দুই, আহত শতাধিক।”

Image
এএফপির যোগ করা লাল ক্রস চিহ্নসহ ১৬ তারিখে নেয়া অসত্যভাবে ছড়ানো পোস্টের স্ক্রিনশট

ক্লিপগুলো ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের কয়েক দিন আগে ছড়ানো হয়েছে। নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২১২ আসনে জয় লাভ করে। তার প্রতিদ্বন্দ্বী দল বাংলাদেশ জামায়াত-এ-ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট জয় পেয়েছে ৭৭ টি আসনে(আর্কাইভ লিংক)।

২০২৪ সালের আগস্টে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে এক গণঅভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান হয়। তাঁর দল আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখা হয়। ক্ষমতাচ্যুত এই নেতা নির্বাচনকে “অবৈধ ও অসাংবিধানিক” মন্তব্য করে এক বিবৃতিতে নিন্দা জানান। 

তবে তাঁর দলের ছাত্র সংগঠন নির্বাচন বয়কটের দাবিতে ৬ ফেব্রুয়ারি রাজবাড়ী জেলায় একটি ঝটিকা মিছিল করেছে বলে প্রতিবেদন করেছে প্রথম আলো(আর্কাইভ লিংক)।

নির্বাচনের আগে প্রচারণাকালে রাজনৈতিক সহিংসতায় পাঁচ জন খুন এবং ৬০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন(আর্কাইভ লিংক)। এছাড়া নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় অন্তত দুই জন নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি জেলায় ভাঙচুর ও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে(আর্কাইভ লিংক)। 

কিন্তু ভিডিওগুলো সত্যিকারের কোন বিক্ষোভ কিংবা প্রতিবাদের নয়।

প্রথম ভিডিওটি নির্বাচনের আগে পরিচালিত নিরাপত্তা মহড়ার বলে এএফপিকে নিশ্চিত করেছেন চাপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস। 

১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি বলেন, “আমার অফিস আঙ্গিনার পাশাপাশি একই ধরনের একটি মহড়া পাশের স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে।”

অন্যদিকে দ্বিতীয় ভিডিওটিও একটি মহড়ার সময় ধারণ করা হয়েছে বলে এএফপিকে জানিয়েছেন দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান। এছাড়া এমন কোন বিক্ষোভ তাঁর থানা এলাকায় হয়নি বলে জানান তিনি। 

গুগলে কিওয়ার্ড সার্চে ৯ ফেব্রুয়ারি সময় টেলিভিশনের একটি ভিডিও প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ভিডিওটির শুরুতে অসত্যভাবে ছড়ানো ভিডিও দৃশ্যগুলো দেখা যায়। ভিডিওটির ক্যাপশনে বলা হয়, “নির্বাচন উপলক্ষ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জে যৌথ বাহিনীর মহড়া”(আর্কাইভ লিংক)।

সময় টিভির প্রতিবেদনের ৩ মিনিট ১৪ সেকেন্ডের দৃশ্যে একই লোকজনকে দেখা যায়, যাদেরকে অসত্য ভিডিওতে দেখা গেছে। এছাড়া ভিডিওটিতে “পুলিশ সুপারের কার্যালায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ” লিখা সাইনবোর্ড দেখা যায়। 

Image
অসত্যভাবে ছড়ানো ভিডিও (বামে) এবং সময় টিভির ভিডিওর তুলনামূলক স্ক্রিনশট

অন্য একটি কিওয়ার্ড সার্চে মহড়াটি নিয়ে ৯ ফেব্রুয়ারি তারিখে প্রকাশিত এটিএন নিউজের প্রতিবেদন পাওয়া যায়। অসত্যভাবে ছড়ানো ভিডিওর দ্বিতীয় দৃশ্যের সাথে এটিএন নিউজের ভিডিওটির মিল রয়েছে(আর্কাইভ লিংক)।

Image
অসত্য ভিডিও (বামে) এবং এটিএন নিউজের প্রতিবেদনের মধ্যে একই ধরনের বিষয়গুলো এএফপি কর্তৃক চিহ্নিত করে তুলনামূলক স্ক্রিনশট

দ্বিতীয় ভিডিওটির কিফ্রেম ব্যবহার করে রিভার্স ইমেজ সার্চে ৮ ফেব্রুয়ারি তারিখে একই মহড়া নিয়ে দৈনিক যুগান্তরের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়(আর্কাইভ লিংক)। 

ভিডিও প্রতিবেদনের শিরোনামে বলা হয়, “ভোটকেন্দ্র দখল করতে আসলেই যেভাবে ঝাপিয়ে পড়বে সেনাবিজিবি।” 

৯ ফেব্রুয়ারি এক প্রতিবেদনে দৈনিক কালের কন্ঠ একটি ছবি প্রকাশ করে, যেখানে একই সেনা সদস্য এবং কথিত বিক্ষোভকারীদের দেখা যায়(আর্কাইভ লিংক)। 

Image
অসত্যভাবে ছড়ানো দ্বিতীয় ভিডিও (বামে) এবং দৈনিক যুগান্তরের প্রকাশিত ভিডিওর তুলনামূলক স্ক্রিনশট

বাংলাদেশের নির্বাচন সম্পর্কে  ছড়ানো অন্যান্য অসত্য দাবিখণ্ডন করেছে এএফপি। 

এমন কোনো কন্টেন্ট আছে যা আপনি এএফপি’কে দিয়ে ফ্যাক্ট চেক করাতে চান?

আমাদের সাথে যোগাযোগ