ভারতের পুরনো ভিডিও 'বাংলাদেশে স্থানীয়দের সাথে ডাকাত দলের মারামারির' অসত্য দাবিতে প্রচার

ঢাকায় অপরাধের মাত্রা বৃদ্ধি নিয়ে যখন উদ্বেগ বাড়ছে, তখন বাংলাদেশের রাজধানীতে স্থানীয়দের সাথে অপরাধীদের লড়াইয়ের দাবিতে একটি পুরনো ক্লিপকে বিভ্রান্তিকর ভাবে প্রচার করা হয়েছে।  গত বছর ডাকাতির সংখ্যা দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে স্থানীয় পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হলেও, সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো ভিডিওটি প্রকৃতপক্ষে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় বিহার রাজ্যে ধারণ করা হয়েছিল।

৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত একটি ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, "গাজীপুরে আবারো শুরু হয়ে গেছে। সাধারণ জনগণ বনাম ডাকাতদের মধ্যে যু-দ্ধ শুরু। রুখে দাঁড়ায় ও বাংলাদেশ। দোয়া করবেন সবাই।"

 পোস্টটিতে লাঠি দিয়ে দুই দল লোকের মধ্যে মারামারির একটি ভিডিও ছড়ানো হয়েছে, যা ২২ হাজারের বেশি ভিউ হয়েছে।

Image
১১ মার্চ ২০২৫ তারিখে নেয়া অসত্য পোস্টের স্ক্রিনশট

২০২৪ সালের আগস্টে তার নির্মম শাসনের বিরুদ্ধে এক গণঅভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতা থেকে অপসারিত হওয়ার পর থেকে অপরাধ দমনে হিমশিম খাচ্ছে বাংলাদেশ (আর্কাইভ লিংক)।

পুলিশ বাহিনীর অনুপস্থিতির মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাস্তবায়নে সেনাবাহিনীর কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা কয়েক দফায় বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ (আর্কাইভ লিংক)।

একই দাবিতে ক্লিপটি অন্যত্র ফেসবুকে ছড়ানো হয়েছে।

ফুটেজটির একটি কিফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চে দেখা যায় যে, হাসিনার উৎখাতের কয়েক সপ্তাহ আগে ১৮ জুলাই ২০২৪ তারিখে ইউটিউবে আপলোড করা হয়েছিল (আর্কাইভ লিংক)।

৯০ ডিগ্রি কোনে ঘুরিয়ে দেয়া ক্লিপটির ক্যাপশনে বলা হয় যে, এটি বাস্তোয়ারা নামে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় বিহার রাজ্যের একটি গ্রামে মুহররম মাসে ধারণ করা হয়েছে।

Image
অসত্য ভিডিও(বামে) এবং ১৮ জুলাই ২০২৪ তারিখে আপলোড করা ভিডিওটির তুলনামূলক স্ক্রিনশট

ওই ইউটিউব ব্যবহারকারী আগের দিনও একটি ক্লিপ আপলোড করেন, যেখানে ভিন্ন কোন থেকে একই দৃশ্য দেখা যায় (আর্কাইভ লিংক)।  

গুগল স্ট্রিট ভিউ-র ছবিও ভিডিওটির অবস্থান নিশ্চিত করেছে (আর্কাইভ লিংক)। 

Image
অসত্য পোস্টে ছড়ানো ক্লিপ (বামে) এবং জায়গাটির গুগল স্ট্রিট ভিউ ইমেজারির সাথে যেসব মিল রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে তুলনামূলক স্ক্রিনশট

বাংলাদেশের অপরাধের সাথে অসত্যভাবে সম্পৃক্ত করে ছড়ানো অন্য একটি ভিডিও এর আগে খণ্ডণ করেছে এএফপি।

এমন কোনো কন্টেন্ট আছে যা আপনি এএফপি’কে দিয়ে ফ্যাক্ট চেক করাতে চান?

আমাদের সাথে যোগাযোগ