বাংলাদেশে 'বাইক ডাকাতি'র সাজানো ক্লিপকে বাস্তব ঘটনার অসত্য দাবিতে প্রচার

২০২৪ সালের আগস্টে এক গণঅভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্মম শাসনের অবসানের পর অপরাধ দমনে হিমশিম খাচ্ছে বাংলাদেশ। তবে রাজধানী ঢাকার ব্যস্ত সড়কে অস্ত্রধারী কয়েকজন ব্যক্তির একটি বাইক ডাকাতির দাবিতে যে ফুটেজ অনলাইনে ব্যাপকভাবে ছড়ানো হয়েছে, সেটি আসলে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য মঞ্চ অভিনয়ের অংশ বলে জানিয়েছেন ভিডিওটির নির্মাতারা।

২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে ফেসবুকে ছড়ানো ক্লিপটির ক্যাপশনের একটি অংশে বলা হয়, "আল্লাহ এগুলো কি হচ্ছে তুমি রক্ষা কর"।  

১ লাখের বেশি ভিউ হওয়া ভিডিওটিতে মুখোশ পরিহিত কয়েকজন লোককে একটি ব্যস্ত সড়কে অস্ত্রের মুখে একজন মটরবাইক চালককে থামিয়ে তার বাইকটি নিয়ে পালিয়ে যেতে দেখা যায়। 

ঢাকার একটি ব্যস্ত হ্রদ এলাকার প্রতি ঈঙ্গিত করে ভিডিওটির উপর জুড়ে দেয়া লেখায় আরো দাবি করা হয়েছে, "হাতিরঝিল থেকে দিনে দুপুরে বাইক ছিনতাই"। 

Image
১৮ মার্চ ২০২৫ তারিখে নেয়া অসত্য পোস্টের স্ক্রিনশট

হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত করার পর থেকে বাংলাদেশ যখন ক্রমবর্ধমান অপরাধ দমনে লড়াই করছে, তখন একই ধরনের পোস্ট ফেসবুকে ছড়ানো হয় (আর্কাইভ লিংক)। 

তার শাসনামলে বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং জোরপূর্বক গুমের অভিযোগের মুখে পড়ে। 

এদিকে ঢাকায় পুলিশ জানিয়েছে যে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ডাকাতির সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে।

পোস্টটিতে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীদের মন্তব্য দেখে মনে হচ্ছে তারা ক্লিপটিকে দিনে দুপুরে বাস্তব ডাকাতির দৃশ্য বলে বিশ্বাস করেছেন। 

একজন মন্তব্য করে লিখেন, "দেশে এখন কোন আইন কানুন নেই"। অন্য একজন লিখেন, "এখন বুঝুন এই দেশের জন্য শেখ হাসিনা কি ছিলেন"। 

সচেতনতামূলক ভিডিও

ভিডিওটির কিফ্রেম নিয়ে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চে ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে ফেসবুকে প্রকাশ করা একটি দীর্ঘতর সংস্করণের ফুটেজের সাথে ভিডিওটির মিল পাওয়া যায় (আর্কাইভ লিংক)।

ফুটেজটির ক্যাপশনে বলা হয়, "এটি একটি সতর্কতামূলক ভিডিও, যা দেশের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করার উদ্দেশ্যে তৈরি। দয়া করে এটি সত্যি হিসেবে নেবেন না"।

দীর্ঘ সংস্করণের ভিডিওটির প্রথম ৩০ সেকেন্ডের দৃশ্যের সাথে অসত্যভাবে ছড়ানো ক্লিপের মিল রয়েছে। যদিও অসত্য দাবিতে ছড়ানো ক্লিপটিকে অনুভূমিকভাবে উল্টে দেয়া হয়েছে। 

Image
অসত্য দাবিতে ছড়ানো ভিডিও (বামে) এবং ফেসবুকে দীর্ঘ সংস্করণের ভিডিওটির তুলনামূলক স্ক্রিনশট

দীর্ঘ সংস্করণের ভিডিওটির ১.২৮ মিনিটের দৃশ্যে একজন কন্টেন্ট নির্মাতাকে বলতে শোনা যায় যে, "এই ভিডিওটির মাধ্যমে আমাদের উদ্দেশ্য ছিল পাঠাও চালকদেরকে বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক করা"। 

পাঠাও হচ্ছে বাংলাদেশের একটি  রাইড-শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান (আর্কাইভ লিংক)। 

এএফপি সাকিব রাজ নামে একজন ফেসবুক ব্যবহারকারীর সাথে যোগযোগ করেছে, যিনি ওই ক্লিপটির নির্মাতাদের একজন ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি ১৮ মার্চ এএফপিকে বলেন, "এটা ছিল একটি সাজানো ভিডিও। যারা বাইক রাইড শেয়ার করেন তাদেরকে একটি ম্যাসেজ দেয়ার জন্য ভিডিওটি বানানো হয়েছিল"। 

এমন কোনো কন্টেন্ট আছে যা আপনি এএফপি’কে দিয়ে ফ্যাক্ট চেক করাতে চান?

আমাদের সাথে যোগাযোগ