'মসজিদে হাতাহাতি'র সাজানো ক্লিপ ভারতে সাম্প্রদায়িক দাবিতে ছড়ানো হচ্ছে 

ভারতের সংখ্যালঘু মুসলিমরা যখন পবিত্র রমজান পালন করছে, তখন মুসলিম বিরোধী পোস্টে একটি একটি ভিডিও ছড়িয়ে সেটিকে একটি মসজিদের ভেতর একজন হিন্দুকে অপদস্থ করার ভিডিও বলে অসত্য ভাবে দাবি করা হয়েছে। তবে ক্লিপটি একটি মঞ্চ নাটকের দীর্ঘ ফুটেজের খণ্ডিতাংশ। সামাজিক সম্প্রীতিকে উজ্জীবিত করার লক্ষ্য ভিডিওটি বানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে নাটকটির একজন নির্মাতা। 

গত ৭ মার্চ ২০২৫ তারিখে একটি ফেসবুক পোস্টের ক্যাপশনে বলা হয়, "ভ্রাতৃত্বের বার্তা ছড়িয়ে দিতে মুসলিমদের ইফতার পার্টিতে গিয়েছিল এই হিন্দু যুবকটি...মুসলিমরা তাকে আচ্ছা করে ধোলাই দিয়ে সেখান থেকে বের করে দিয়েছে..আমি মনে করি একদম ঠিক করেছে হিন্দু ছেলেটির সাথে"।

পোস্টটিতে যুক্ত একটি ক্লিপে মুসলিমদের টুপি পরিহিত একজন ব্যক্তিকে গেরুয়া রংয়ের পোশাক পরিহিত একজন ব্যক্তিকে আক্রমণ করতে দেখা যায়। গেরুয়া রং সাধারণত হিন্দুত্ববাদের সাথে সম্পৃক্ত। 

Image
১৯ মার্চ ২০২৫ তারিখে নেয়া অসত্য পোস্টের স্ক্রিনশট

একই দাবিতে ভিডিওটি ফেসবুকে বাংলায় এখানে এবং হিন্দি ভাষায় এখানে ছড়ানো হয়েছে। তবে ভিডিওটি মঞ্চ নাকটের দৃশ্য এবং বাস্তব ঘটনার কোন চিত্র নয়।

ক্লিপটির কিফ্রেম নিয়ে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চে ২০২৪ সালের ৬ এপ্রিল ইউটিউবে আপলোড করা একটি দীর্ঘ সংস্করণ পাওয়া যায়। ভিডিওটির শিরোনামে বলা হয়, "একজন হিন্দু সন্যাসী যখন ইফতারের জন্য মুসলিমদের মসজিদে যায়? হিন্দু বনাম মুসলিমদের সামাজিক পরীক্ষ-নিরীক্ষা"(আর্কাইভ লিংক)।

Image
অসত্য পোস্টের ভিডিও (বামে) এবং ইউটিউবের দীর্ঘ ভিডিওটির (ডানে) তুলনামূলক স্ক্রিনশট

অনলাইনে ছড়ানো ক্লিপটির সাথে ইউটিউবের ১.০১ মিনিটের দৃশ্যের মিল পাওয়া যায়, তবে ভিডিওটির যে অংশটিতে মঞ্চ নাটকের কথা উল্লেখ ছিল সেটি বাদ দেয়া হয়েছে।

ভিডিওটিকে একটি সামাজিক নিরীক্ষা বর্ণনা করে ১৫ সেকেন্ডের দৃশ্যে একটি সতর্ক বার্তা দেয়া হয়েছে।

প্র্যাঙ্কবাজ নামে ইউটিউব চ্যানেলটি প্রায়ই একই ধরনের কন্টেন পোস্ট করে আসছে, যেখানে হিন্দু চরিত্রে অভিনয়কারী ব্যক্তিকে অন্যান্য মঞ্চ নাকটে অভিনয় করতে দেখা গেছে। 

অভিনেতাদের একজন এবং চ্যানেলটির সহ প্রতিষ্ঠাতা দেবরাজ দাস এএফপিকে জানান যে ভিডিওটিকে "সাম্প্রদায়িক দাবিতে বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন" করা হয়েছে। 

"আমরা মসজিদ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে ভিডিওটি বানিয়েছি। আমরা সাম্প্রদায়িক ঘৃণার বিপরীতে হিন্দু মুসলিমদের মধ্যেকার বাস্তব মেলবন্ধন দেখানোর চেষ্টা করেছি।" 

সাজানো ভিডিওকে সাম্প্রদায়িক বাস্তব ঘটনা হিসেবে বিভ্রান্তিকর ভাবে ছড়ানো পোস্ট খণ্ডন করে এএফপি আগেও এখানেএখানে প্রতিবেদন করেছে। 

এমন কোনো কন্টেন্ট আছে যা আপনি এএফপি’কে দিয়ে ফ্যাক্ট চেক করাতে চান?

আমাদের সাথে যোগাযোগ