কুয়েতের পুরনো ভিডিওকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাতের সাথে অসত্যভাবে জড়িয়ে প্রচার

জুলাই মাসে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে পড়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পুনরায় লড়াই শুরু করেছে। এ সময় অনলাইন পোস্টে একটি ফুটেজ ছড়িয়ে সেটিকে উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি বেনামি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিশাল অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে অসত্যভাবে দাবি করা হয়েছে। আদতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের গ্যাস ক্যানিস্টার-সংক্রান্ত একটি গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে ২০২০ সালের জুলাই মাসে কুয়েতের ফায়ার সার্ভিস ভিডিওটি প্রথম প্রকাশ করেছিল । 

১৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে ছড়ানো একটি ফেসবুক ভিডিও ক্যাপশনে বলা হয়, “ব্রেকিং: আমেরিকার পতন আসন্ন। ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের বৃহত্তম সামরিক ঘাঁটিতে বোমাবর্ষণ করছে।”

পোস্টের সাথে যুক্ত ৩৬-সেকেন্ডের ক্লিপে রাতের বেলায় একটি ভয়াবহ আগুনের দৃশ্য এবং একটি ভবন থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। 

Image
এএফপির যোগ করা লাল ক্রস চিহ্নসহ ২৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে নেয়া অসত্য ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট

ভিডিওটি একই দাবিতে অন্যত্র ফেসবুকে ছড়ানো হয়েছে। এছাড়া ভিডিওটি আরবি ভাষার কিছু পোস্টও দেখা যায়।

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাত ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান অভিযান এবং ইরানের পাল্টা পদক্ষেপের জেরে সংঘাতটি সমুদ্রপথ, উপসাগরীয় অঞ্চলের কিছু মিত্র দেশ এবং পুরো অঞ্চলজুড়ে থাকা সামরিক ঘাঁটিগুলো পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে(আর্কাইভ লিংক)।

চলমান সংঘাত একটি নতুন ফ্রন্টেও ছড়িয়ে পড়েছে।

ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা জানিয়েছে, তারা ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের আকাশ থেকে সৌদি আরবের একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এর আগে তারা সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে।

সৌদি আরব হুতিদের লক্ষ্যবস্তুতে বোমা হামলার পর তারা জিজান ও ইয়ানবুতে অবস্থিত সৌদি আরামকোর স্থাপনাগুলোতে আঘাত করেছে বলে জানিয়েছে হুতি কর্মকর্তারা। 

তবে অনলাইনে ছড়ানো ভিডিওটির সাথে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের কোনো সম্পর্ক নেই। 

২০২০ সালে কুয়েতের অগ্নিকাণ্ড 

অসত্যভাবে ছড়ানো ভিডিওটির কিফ্রেম নিয়ে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চে দেখা যায়, ভিডিওটি কুয়েত ফায়ার ফোর্সের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ২৯ জুলাই ২০২০ তারিখে প্রথম প্রকাশিত হয়(আর্কাইভ লিংক)। 

ক্যাপশনে বলা হয়, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার গ্যাসের ক্যানিস্টার থেকেই গুদামে আগুন লেগেছিল।

ফায়ার সার্ভিসের প্রকাশিত ভিডিওছবিতে দমকলের গাড়িগুলোকে গুদামের আগুন নেভানোর চেষ্টা করতে দেখা যায় (আর্কাইভ লিংক এখানে এবং এখানে)।

Image
অসত্যভাবে ছড়ানো ফেসবুক পোস্ট(বামে) এবং ২০২০ সালের ২০ জুলাই ইনস্টাগ্রামে কুয়েত ফায়ার ফোর্সের প্রকাশিত ভিডিওর তুলনামূলক স্ক্রিনশট

আরও কিওয়ার্ড সার্চে কুয়েতি সংবাদপত্র দাসমান নিউজের একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ২৯ জুলাই ২০২০ তারিখে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সম্প্রতি বিভ্রান্তিকরভাবে ছড়ানো ভিডিওটি অন্তর্ভুক্ত ছিল (আর্কাইভ লিংক)।

আরবি ভাষার পোস্টটিতে বলা হয়, কুয়েতের কৃষিপ্রধান সুলাইবিয়া এলাকার একটি গুদামে এয়ার কন্ডিশনিং ইউনিটে গ্যাস ক্যানিস্টারের কারণে বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে।

কুয়েতের অগ্নিনির্বাপক ও নিরাপত্তা বিভাগের বরাত দিয়ে একই দিনে কুয়েত টাইমস-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, অগ্নিকাণ্ডে বেশ কয়েকটি রেফ্রিজারেশন গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়। গুদামগুলো তাদের কৃষি-বিষয়ক লাইসেন্সের শর্ত লঙ্ঘন করে কার্যক্রম চালাচ্ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়(আর্কাইভ লিংক)। 

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে কেন্দ্র করে ছড়ানো অন্যান্য অপতথ্য খণ্ডন করে প্রকাশিত এএফপির প্রতিবেদন এখানে পাওয়া যাবে। 

এমন কোনো কন্টেন্ট আছে যা আপনি এএফপি’কে দিয়ে ফ্যাক্ট চেক করাতে চান?

আমাদের সাথে যোগাযোগ