১২ জুলাই ২০২৬ তারিখে চট্টগ্রামে ভারী বর্ষার পর বন্যার পানিতে হেঁটে যাচ্ছেন বাসিন্দারা (AFP / Rabin Chowdhury)

পানিতে লাশ ভেসে যাওয়ার পুরনো ভিডিওকে জুলাই মাসের বন্যার সাথে অসত্যভাবে সম্পৃক্ত করে প্রচার

ভারী বৃষ্টিপাতে চট্টগ্রাম অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে কয়েক ডজন মানুষ নিহত এবং আরও কয়েক হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। তবে বন্যার পানিতে মৃত দেহ ভেসে যাওয়া নিয়ে অনলাইনে ছড়ানো ভিডিওটি চট্টগ্রামের নয়। ভিডিওটি ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে অনলাইনে দেখা যায়। ভিডিওটি যিনি ধারণ করেছেন, তিনি এএফপিকে জানিয়েছেন যে, এটি চট্টগ্রাম থেকে ৮১ কিলোমিটার দূরে ফেনীতে ধারণ করা হয়েছে।

১১ জুলাই ২০২৬ তারিখে শেয়ার করা একটি ফেসবুক ভিডিও ক্যাপশনে বলা হয়, “চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ। লাশ দাফন করতে না পেরে কলা গাছের বেলায় করে লাশ ছেড়ে দিছেন অজানা উদ্দেশ্যে।”

ভিডিওতে কলা গাছের ভেলায় সাদা কাপড়ে মোড়ানো একটি মানবদেহ বন্যার পানিতে ভাসতে এবং একটি নৌকার উপর লাইফ ভেস্ট পরা কিছু লোককে দৃশ্যটি অবলোকন করতে দেখা যায়।   

দৃশ্যমান করুন গোপন করুন

কন্টেন্ট সতর্কতা

Image
এএফপির যোগ করা লাল ক্রস চিহ্নসহ ২১ জুলাই ২০২৬ তারিখে নেয়া অসত্যভাবে ছড়ানো ভিডিওটির স্ক্রিনশট

মৌসুমি বৃষ্টিতে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পর ভিডিওটি অনুরূপ ফেসবুক পোস্টে ছড়ানো হয়(আর্কাইভ লিংক)। ১২ জুলাই সরকারি কর্মকর্তারা বলেন, বন্যায় অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছে।

বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রামে ঘরবাড়ি, কৃষি জমি, রাস্তাঘাট এবং বাজার প্লাবিত হয়। হাজার হাজার লোক ঘরবাড়ি ছেড়ে সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেন। 

তবে অনলাইনে ছড়ানো ভিডিওটি ২০২৪ সালে অন্য একটি শহরে ধারণ করা হয়েছিল। 

পুরনো ভিডিও

অসত্যভাবে ছড়ানো ভিডিওটির কিফ্রেম নিয়ে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চে ভিডিওটির একটি দীর্ঘ সংস্করণ পাওয়া যায়। জনপ্রিয় কন্টেন্ট নির্মাতা চ্যানেল বিতিক বাজ ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট তাদের চ্যানেলে ভিডিওটি আপলোড করে(আর্কাইভ লিংক)।

ভিডিওটির ক্যাপশনে বলা হয়, “ভয়াবহ বন্যায় খেয়াল রাখুন।”

দৃশ্যমান করুন গোপন করুন

কন্টেন্ট সতর্কতা

Image
অসত্যভাবে ছড়ানো ভিডিও(বামে) এবং ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে প্রকাশিত ভিডিওর স্ক্রিনশট

ভিডিওতে একজনকে ফেনীর পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিতে দেখা যায়। বাকি অংশে স্বেচ্চাসেবক দলকে নৌকায় করে বন্যা দুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করতে দেখা যায়। 

২০২৪ সালের বন্যায় ফেনীতে অন্তত ১৮ জন মারা যান এবং আরও প্রায় ৩ লাখ লোক বাস্তুচ্যুত হন(আর্কাইভ লিংক)। 

ভিডিওর ওই ব্যক্তিকে কন্টেন্ট নির্মাতা মো. তৌহিদুল রিফাত নামে শনাক্ত করা গেছে। চট্টগ্রামে নয়, ভিডিওটি ২০২৪ সালে ফেনীতে ধারণ করা হয়েছে বলে এএফপি জানিয়েছেন তিনি। 

১৩ জুলাই  ২০২৬ তারিখে তিনি এএফপিকে বলেন, “আমরা ভিডিওটি ২০২৪ সালে ফেনীর লস্করহাট এলাকায় ধারণ করেছিলাম। আমরা যখন বন্যায় পানিবন্দী লোকজনকে উদ্ধার করছিলাম এবং ত্রাণ বিতরণ করছিলাম, তখন টিম বিতিক বাজ মৃতদেহটি দেখে এবং ভিডিওটি ধারণ করে।”

অসত্যভাবে ছড়ানো ক্লিপের শেষের দিকে যেসব লোকজন দৃশ্যমান, বিতিক বাজের ভিডিওতেও তাদেরকে দেখা যায়। 

Image
লোকজনের ওই দলটিকে চিহ্নিত করে অসত্যভাবে ছড়ানো পোস্টে (বামে) এবং ২০২৪ সালের ভিডিওর তুলনামূলক স্ক্রিনশট

সেই সময়ে প্রচারিত আরেকটি ভিডিওতে একই মৃতদেহটি দেখা যায়(আর্কাইভ লিংক)।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বন্যা নিয়ে ছড়ানো অন্যান্য অসত্য দাবি খণ্ডন করেছে এএফপি। 

এমন কোনো কন্টেন্ট আছে যা আপনি এএফপি’কে দিয়ে ফ্যাক্ট চেক করাতে চান?

আমাদের সাথে যোগাযোগ