পশ্চিমবঙ্গে মহাত্মা গান্ধীর ক্ষতিগ্রস্ত ভাস্কার্যকে বাংলাদেশে হিন্দু-বিরোধী সহিংসতার সাথে অসত্যভাবে যুক্ত করে প্রচার
- প্রকাশিত 3 ফেব্রুয়ারি 2026, 09:01
- 2 এক্স মিনিটে পড়ুন
- লেখক: Akshita KUMARI, এএফপি ইন্ডিয়া, এএফপি বাংলাদেশ
- অনুবাদ এবং অভিযোজন Eyamin SAJID
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে একজন জনপ্রিয় ছাত্রনেতার মৃত্যুর পর বাংলাদেশে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ভারতের স্বাধীনতার নায়ক মহাত্মা গান্ধীর একটি ভাঙা ভাস্কর্যের ছবি অনলাইনে ছড়িয়ে সেটিকে সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অসত্যভাবে দাবি করা হয়। আদতে ছবিটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বিক্ষোভের সময় একটি সরকারি ভবন ভাঙচুর নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন থেকে নেয়া হয়েছে। চলতি বছরের শেষের দিকে অনুষ্ঠিতব্য রাজ্যসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে জাতীয় নির্বাচন সংস্থার এক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ওই বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
২৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে এক ফেসবুক পোস্ট ক্যাপশনে বলা হয়, “বাংলাদেশীরা STSJ (সর তন সে জুদা) করে গান্ধীর প্রতি তাদের শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছে। অভিনন্দন বাপু। মাথা ছাড়া গান্ধীগিরি দীর্ঘজীবী হোক!”
ভারতীয় গণমাধ্যমের মতে, “সর তন সে জুদা” হচ্ছে ইসলামের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে অভিযুক্তদের শিরশ্ছেদের স্লোগান(আর্কাইভ লিংক)।
পোস্টে যুক্ত ছবিতে মাথা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় গান্ধীর একটি ভাস্কর্য দেখা যায়।
জনপ্রিয় ছাত্রনেতা শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর নয়াদিল্লি ও ঢাকার মধ্যকার তিক্ত সম্পর্ক আরও প্রকট হয়ে ওঠে। তাঁর মৃত্যুর সূত্র ধরে বাংলাদেশে ব্যাপক সহিংসতার সৃষ্টি হয়(আর্কাইভ লিংক)।
২০২৪ সালের যে অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতন হয়, সেখানে হাদির সরব অংশগ্রহণ ছিল। তিনি ভারতের একজন সোচ্চার সমালোচক ছিলেন। বাংলাদেশের পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর অভিযুক্ত খুনীরা ভারতে পালিয়ে গেছে।
সহিংসতায় প্রথম সারির সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টারসহ ঢাকার বেশ কয়েকটি ভবনে আগুন দেয়া হয়(আর্কাইভ লিংক)। সমালোচকরা ওই প্রকাশনাগুলোর বিরুদ্ধে শেখ হাসিনাকে আশ্রয়দাতা প্রতিবেশী দেশ ভারতের প্রতি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন।
একই দাবিতে ছবিটি অন্যত্র ফেসবুকে এবং ইনস্টাগ্রামে ছড়ানো হয়েছে। কিন্তু ভাঙা ভাস্কর্যের ছবিটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের, বাংলাদেশের নয়।
পশ্চিমবঙ্গের সহিংসতা
গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চে দেখা যায়, ছবিটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ডিসিবি নিউজ ২৪ এর ১৬ জানুয়ারির একটি প্রতিবেদন থেকে নেয়া হয়েছে। প্রতিবেদনটি ছিল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের চাকুলিয়ায় একটি সরকারি ভবনে বিক্ষোভকারীদের ভাঙচুর সম্পর্কিত(আর্কাইভ লিংক).
ভিডিওটির ক্যাপশনে বলা হয়, “আন্দোলনের নামে এই বাংলায় ভাঙা হল গান্ধী মূর্তি।”
নিউজ ওয়েবসাইট ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন মতে, ১৫ জানুয়ারি ভাস্কর্যটি ভাঙা হয়। চলতি বছরের শেষের দিকে অনুষ্ঠিতব্য রাজ্যসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিক্ষোভের সময় সরকারি ভবনে ভাঙচুরের সময় ভাস্কর্যটি ভাঙে আন্দোলনকারীরা(আর্কাইভ লিংক)।
বৈধ নথিপথ থাকার পরেও ভোটারদেরকে তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বিক্ষোভকারীরা(আর্কাইভ লিংক)।
এছাড়া অন্য একটি কিওয়ার্ড সার্চে দেখা যায়, টেলিগ্রাম সহ অন্যান্য ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ওই ভাস্কর্য ভাঙচুরের চিত্র প্রকাশ করেছে। ওই ঘটনায় ১৫জনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানায় টেলিগ্রাম(আর্কাইভ এখানে ও এখানে)।
২০২৩ সালে গুগল ম্যাপে ধারণ করা চাকুলিয়া অফিসে ভাস্কর্যটির একটি ছবি খুঁজে পেয়েছে এএফপি। অসত্য পোস্টের চারপাশের সাথে ছবিটির মিল রয়েছে(আর্কাইভ লিংক)।
বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার অফিস ২১ জানুয়ারি একটি এক্স পোস্টে দাবিটি খণ্ডন করেছেন(আর্কাইভ লিংক).
এর আগেও বাংলাদেশের অস্থিরতা ঘিরে ছড়ানো অন্যান্য অপতথ্য খণ্ডন করেছে এএফপি।
কপিরাইট © এএফপি ২০১৭-২০২৬। এই কন্টেন্টের যেকোন বানিজ্যিক ব্যবহারের জন্য অনুমতি নেয়া বাধ্যতামূলক। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।
এমন কোনো কন্টেন্ট আছে যা আপনি এএফপি’কে দিয়ে ফ্যাক্ট চেক করাতে চান?
আমাদের সাথে যোগাযোগ