A child receives a dose of measles-rubella vaccine following a recent outbreak in Dhaka on April 12, 2026. (AFP / Munir UZ ZAMAN)

প্রাণঘাতী হামের সংকট চলাকালীন বাংলাদেশ সরকারকে লক্ষ্য করে প্রচারিত হচ্ছে বিভ্রান্তিকর তথ্য

স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হামের প্রাদুর্ভাবে এই পর্যন্ত অন্তত ১৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একটি গুজবে অসত্য দাবি করা হয় যে সরকার হাসপাতালগুলোকে নির্দিষ্ট কিছু মৃত্যুর খবর প্রকাশ না করার নির্দেশ দিয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা এবং দেশের বৃহত্তম শিশু স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের প্রধান—উভয়েই আলাদাভাবে দাবিটি অস্বীকার করেছেন।

দাবিটি অনলাইনে ব্যাপকভাবে প্রচারে ভূমিকা রাখে আওয়ামী লীগের ফেসবুক পেজ। “হামের কারণে শিশুমৃত্যুর খবর বাইরে না দিতে প্রত্যেক জেলা, উপজেলা আর শহরের হাসপাতাল ক্লিনিকে নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। প্রকৃত মৃত শিশুর সংখ্যা কতো?”,  ৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ছড়ানো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ফেসবুক পোস্টের ক্যাপশনে বলা হয়।

Image
এএফপির যোগ করা ক্রস চিহ্নসহ ১৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে নেয়া অসত্য পোস্টের স্ক্রিনশট

অনুরুপ দাবিতে পোস্টটি ফেসবুকে অন্যত্র ছড়ানো হয় এমন সময়ে যখন হামের বিস্তার রোধে টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে (আর্কাইভ লিংক)।

যদিও টিকাদান কর্মসূচিতে বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশের অগ্রগতি উল্লেখযোগ্য, তবুও ২০২৪ সালে নির্ধারিত হাম টিকাদান কর্মসূচি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কারণে বিলম্বিত হয় (আর্কাইভ লিংক)। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-এর মতে, এই রোগটি খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে  এমন সংক্রামক রোগগুলাের একটি, যা কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে সংক্রামিত হয়।

তবে, বাংলাদেশ সরকার শিশুদের হামজনিত কোনো মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করছে না—এমন দাবিটি ভিত্তিহীন।

হাম সংকট 

২০২৬ সালের মার্চের শেষের দিকে, একজন ঊর্ধ্বতন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সারাদেশে ৬০০-এরও বেশি হামের ঘটনা শনাক্ত হওয়ার কথা জানানোর পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি জরুরি তদন্তের নির্দেশ দেন (আর্কাইভ লিংক)।

দ্য ডেইলি স্টারদ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর মতো স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো সরকারি পরিসংখ্যান জানিয়েই নিয়মিতভাবে এই প্রাদুর্ভাব নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

৩ এপ্রিল থেকে শুরু করে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অন্তর্ভুক্ত অধিদপ্তর তাদের ওয়েবসাইটে নিয়মিতভাবে হাম বিষয়ক তথ্য প্রকাশ করে আসছে (আর্কাইভ লিংক এখানে এবং এখানে)।

শনাক্ত হওয়া হামের ঘটনাগুলো বাংলাদেশের বিভাগ ও অঞ্চল অনুযায়ী তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ওয়েবসাইটের তালিকায় হামের সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত—উভয় ধরনের সংক্রমণেরই ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এ প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞরা জানান, অনেক ক্ষেত্রেই হয় কোনো পরীক্ষা করা হয় না, অথবা পরীক্ষা করার আগেই রোগীর মৃত্যু ঘটে।

ডিজিএইচএস জানায়, ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত এই প্রাদুর্ভাবে ১৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৯,০০০-এরও বেশি সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে—যা গত ২০ বছরের মধ্যে দেশের সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে (আর্কাইভ লিংক)।

"আমরা প্রতিদিন যে তথ্য প্রকাশ করি, তার মধ্যে হামে নিশ্চিত মৃত্যু এবং সন্দেহভাজন মৃত্যুর বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকে," ১৩ এপ্রিল এএফপি-কে জানান ডিজিএইচএস-এর মুখপাত্র ডা. মো. জাহিদ রায়হান।

“আমরা যদি মোট মৃত্যুর সংখ্যা গোপন করতে চাইতাম, তবে আমরা সন্দেহভাজন মৃত্যুগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করতাম না। সুতরাং, এই দাবিটির কোনো ভিত্তি নেই।”

হাম যেকোনো বয়সের মানুষকে আক্রান্ত করতে পারে; তবে এটি শিশুদের মধ্যেই সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এর ফলে মস্তিষ্কের প্রদাহ ও শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, হামে মৃত্যুর বেশিরভাগই পাঁচ বছরের কম বয়সী, টিকা না নেওয়া বা আংশিকভাবে টিকা নেওয়া শিশুদের মধ্যে ঘটে থাকে (আর্কাইভ লিংক)।

এএফপি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঢাকা প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল, কিন্তু কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। 

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. মো. মাহবুবুল হক—মৃত্যুসংখ্যার সঠিক তথ্য প্রকাশ না করার বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে কোনো নোটিশ পাওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন।

"ডিজিএইচএস-এর দৈনিক প্রতিবেদনে আমাদের হাসপাতালের তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকে। আমরা প্রামাণ্য দলিল হিসেবে এর একটি অনুলিপিও সংরক্ষণ করি। তবে আমরা তা আমাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশ করি না," ১৫ এপ্রিল তিনি এএফপি-কে জানান।

স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত অন্যান্য ভুল তথ্য খণ্ডন করে এএফপির আরও প্রতিবেদন পাওয়া যাবে এখানে। 

এমন কোনো কন্টেন্ট আছে যা আপনি এএফপি’কে দিয়ে ফ্যাক্ট চেক করাতে চান?

আমাদের সাথে যোগাযোগ