মিয়ানমারে কোভিডে মৃতদের ছবিকে খুলনা মেডিকেলের ছবি বলে ফেসবুকে প্রচার

কপিরাইট এএফপি ২০১৭-২০২২। সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত।

হাসপাতালের মেঝেতে পলিথিনে মোড়ানো কয়েকটি মৃতদেহের একটি ছবি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপকভাবে শেয়ার হয়েছে যেখানে দাবি করা হচ্ছে যে, এই ছবিটি বাংলাদেশের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এবং লাশগুলো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতদের। দাবিটি অসত্য; মূলত মিয়ানমারের একটি হাসপাতালে করোনায় মৃতদের খবরের সাথে এই ছবিটি পাওয়া যায়।

ফেসবুকে গত ১৭ জুলাই এখানে ছবিটি পোস্ট করা হয়। পোস্টটি ৩০০ এর অধিক শেয়ার হয়েছে।

পোস্টটির বাংলা ক্যাপশনে লেখা হয়েছে: ''শুভ সকাল"এটা খুলনা মেডিকেল এর চিত্র .. চলেন সবাই মিলে মনের সুখে আর ও শপিং করতে যাই, রেস্টুরেন্টে খাইতে যাই। লকডাউন নাই, এখনই তো সময়। দুই দিন পর হয়ত আপনার বা আমার ও এই জায়গায় আসতে হতে পারে। সময় থাকতে থাকতে সচেতন হন। ঘরে থাকুন। সাবধানে থাকুন।''

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের বিভাগীয় শহর খুলনার সরকারি হাসপাতাল।

করোনা সংক্রমণের উর্ধ্বগতির মুখে সংক্রমণ ঠেকাতে বাংলাদেশে বর্তমানে কঠোরতম বিধিনিষেধ চলছে যা ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। এর আগে ১ জুলাই থেকে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করলেও ঈদুল আযহার কারণে ১৫ জুলাই থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত এক সপ্তাহের জন্য বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়।

ফেসবুকে এখানে, এখানেএখানে একই দাবি সহকারে ছবিটি পোস্ট করা হয়েছে।

কিন্তু দাবিটি অসত্য।

গুগল রিভার্স ইমেজ সার্চে দেখা যায়, এই ছবিটি গত ১৫ জুলাই মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম 'খিত থিত মিডিয়ার' (Khit Thit Media) সামাজিক মাধ্যমে পেইজে এখানে প্রকাশিত হয়েছে।

বার্মিজ ভাষায় লেখা পোস্টটির ক্যাপশনের অর্থ এরকম: ''আজ কোভিড-১৯ এ ২২ জন এখানে মারা যান। মিয়াওয়াদ্দি হাসপাতালের মর্গে থাকা আজকের মরদেহের ছবি এটি।''

মিয়াওয়াদ্দি মিয়ানমারের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলীয় একটি শহর।

নীচে ফেসবুকে ছড়ানো ছবি (বামে) ও খিত থিত মিডিয়ায় প্রকাশিত ছবির (ডানে) একটি তুলনামূলক স্ক্রিনশট দেওয়া হলো:

আরো কীওয়ার্ড সার্চে দেখা যায় ছবিটি গত ১৫ জুলাই মিয়ানমার রেসকিউ অর্গ্যানাইজেশনের চেয়ারম্যান উ হ্লা তুন (U Hla Tun) এখানে পোস্ট করেন।

উ হ্লা তুন এএফপি'কে জানান ছবিটি তার নিজেরই তোলা।

তিনি বলেন: ''ছবিটি মিয়াওয়াদ্দির। আমার ফোনেই ছবিটি তোলা হয়।''

একই ছবি শ্রীলঙ্কায় বিভ্রান্তিকর দাবিসহ ছড়ানোর পর এএফপি ইংরেজিতে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন করে। দেখুন এখানে

কোভিড-১৯