বাংলাদেশের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ভিডিওকে পশ্চিমবঙ্গের অস্থিতিশীলতা হিসেবে অসত্যভাবে প্রচার

পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো বিজয় পেয়েছে হিন্দু-জাতীয়তাবাদী ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। নির্বাচনে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে রাজ্যের শাসনে থাকা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের(টিএমসি) পরাজয় ঘটে। নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় সংখ্যালঘু মুসলমান ও তাদের স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। তবে অনলাইনে ছড়ানো ফুটেজটি একটি মসজিদে গান বাজিয়ে হিন্দুদের বিজয় উদযাপনের নয়। ফুটেজটি ২০২৫ সালের জুন মাস থেকে বাংলাদেশের একটি মাজারের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের দৃশ্য হিসেবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়াতে দেখা যায়। এছাড়া মাজারটির তত্ত্বাবধায়ক এএফপিকে জানিয়েছেন, সুফি সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রার্থনার সময় বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার একটি প্রচলিত বিষয়।

ফেসবুকে ৫ মে ২০২৬ তারিখে ছড়ানো একটি পোস্টের ক্যাপশনে বলা হয়, “কলকাতায় একটি মসজিদে নামাজের সময় বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর লেলিয়ে দেওয়া উগ্রবাদী সন্ত্রাসী হিন্দুদের কার্যকলাপ দেখেন।”

ভিডিওতে একটি উপাসনালয়ে প্রার্থনারত এক ব্যক্তির পেছনে বেশ কয়েকজন লোককে ট্রাম্পেট ও ড্রাম বাজাতে দেখা যায়। 

Image
এএফপির যোগ করা লাল ক্রস চিহ্নসহ অসত্য ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট

ভিডিওটি অনুরূপ দাবিতে ফেসবুকে অন্যত্র ছড়ানো হয়েছে। এছাড়া একই ধরনের দাবিতে ভিডিওটি ভারত এবং পাকিস্তানেও ছড়িয়েছে।

সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে ৪ মে ২০২৬ তারিখে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ার পর ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো হয়(আর্কাইভ লিংক)। 

নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর কর্মী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হন(আর্কাইভ লিংক)।

নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় সংখ্যালঘু মুসলিম ও তাদের সম্পত্তির ওপর হামলা চালানো হয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়। তবে সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত ফুটেজটির সাথে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই (আর্কাইভ লিংক এখানে এবং এখানে)। 

অসত্যভাবে ছড়ানো ভিডিওটির কিফ্রেম নিয়ে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চে ২০ জুন ২০২৫ তারিখে ইউটিউবে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে ফুটেজটির একটি দীর্ঘ সংস্করণ পাওয়া যায়(আর্কাইভ লিংক)। 

ভিডিওটির বিবরণে বলা হয়, “অসাধারণ বাজনা অসাধারণ বাশীর সুর।”

চ্যানেলটির নাম, “গশ্চি শাহী দরবার শরীফ”, যা চট্টগ্রামের রাউজানে অবস্থিত একটি সুফি মাজারকে নির্দেশ করে।(আর্কাইভ লিংক)। 

Image
অসত্যভাবে ছড়ানো ক্লিপ(বামে) এবং ইউটিউবে প্রকাশিত ভিডিওর তুলনামূলক স্ক্রিনশট

গশ্চি শাহী দরবার শরীফের তত্ত্বাবধায়ক শাহজাদা সৈয়দ মোহাম্মদ ইউসুফ আল-মাতিয়া ১৫ মে এএফপিকে বলেন, “ভিডিওটি আমাদের এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানের। ফেব্রুয়ারি এবং নভেম্বরে মিলিয়ে আমরা বছরে দু’বার এই ধরনের উৎসব পালন করি।”

তিনি আরও বলেন, সব মাইজভান্ডারী সম্প্রদায়ের ধর্মীয় প্রার্থনার সময় ট্রাম্পেট ও বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার হয়ে থাকে(আর্কাইভ লিংক)। 

এর আগেও পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনকে ঘিরে ছড়ানো অপতথ্য খণ্ডন করেছে এএফপি।    

এমন কোনো কন্টেন্ট আছে যা আপনি এএফপি’কে দিয়ে ফ্যাক্ট চেক করাতে চান?

আমাদের সাথে যোগাযোগ