হোলি উৎসব ঘিরে সংঘটিত বিবাদের ফুটেজকে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা হিসেবে অসত্যভাবে প্রচার

মে মাসের প্রথম সপ্তাহে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে দেশটির ক্ষমতাসীন হিন্দু জাতীয়তাবাদী ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জয়ের পর সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। দেশটির একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপরেও এসব সহিংসতা চালানো হয়। তবে মোটরসাইকেল এবং ঘরবাড়িতে কয়েকজন লোকের হামলার ভিডিওটি মুসলমানদের ওপর বিজেপি কর্মীদের আক্রমণের নয়। ভিডিওটি গত মার্চ মাসে ভারতের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজস্থান রাজ্যে হোলি উদযাপন ঘিরে একটি মারামারির ঘটনার। 

৫ মে ২০২৬ তারিখে ছড়ানো একটি ফেসবুক পোস্টের ক্যাপশনে বলা হয়, “পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের পর আজ সকাল থেকেই মুসলমানদের উপর  তান্ডব শুরু করেছে বিজেপির সমর্থিত নেতাকর্মীরা।”    

পোস্টের সাথে যুক্ত একটি ক্লিপে একটি সরু গলিতে একদল যুবককে লাঠি দিয়ে বাড়িঘর ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করতে দেখা যায়। 

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বড় জয় লাভের পর ভিডিওটি অনলাইনে ছড়ানো হয়(আর্কাইভ লিংক)।  

৪ মে ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির প্রধান শুভেন্দু অধিকারীর একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগীও রয়েছেন(আর্কাইভ লিংক)। 

ভারতের সংবাদমাধ্যম মাকতুব মিডিয়া ও মিল্লাত টাইমস জানিয়েছে, সহিংসতায় মুসলিম এবং তাঁদের সম্পত্তিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে(আর্কাইভ এখানেএখানে)।  

Image
এএফপির যোগ করা রেড ক্রসসহ অসত্যভাবে ছড়ানো পোস্টের স্ক্রিনশট

মুসলমানদের প্রতি নব-নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীর বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাবের কারণ মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত সতর্কতার সাথে নিকট প্রতিবেশী ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ক্ষমতার পালাবদল পর্যবেক্ষণ করছেন(আর্কাইভ এখানেএখানে)। 

মোদির কট্টর সমালোচক ও প্রতিপক্ষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১১ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় ছিলেন। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য নারী, মুসলিম এবং শহুরে হিন্দু বাসিন্দাদের একটি শক্তিশালী সমর্থক গোষ্ঠীর ওপর নির্ভরশীল ছিলেন মমতা(আর্কাইভ লিংক)।

নির্বাচনের আগে পরিচালিত ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার নামে “ব্যাপক ভোটাধিকার হরণের মহড়া” চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মমতা। ওই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংখ্যালঘু--- বিশেষ করে মুসলিম ও অভিবাসী শ্রমিকদের ভোটকে প্রভাবিত করা হয়েছে (আর্কাইভ লিংক)।

একই দাবিতে ভিডিওটি অন্যত্র ফেসবুকইউটিউবে ছড়ানো হয়েছে।

কিন্তু ফুটেজটি পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক সহিংসতার অনেক আগের। এটি ভারতের রাজস্থান রাজ্যের যোধপুরে হোলি উদযাপনের সময় সংঘটিত এক সংঘর্ষের।

অসত্যভাবে ছড়ানো ফুটেজটির কিফ্রেম ব্যবহার করে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সিটিলাইভের এক ফেসবুক পোস্টে একই ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওটি ৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হয়েছিল(আর্কাইভ লিংক)। 

যোধপুর সহ বেশ কয়েকটি হ্যাশট্যাগ সম্বলিত পোস্টটির হিন্দি ভাষার ক্যাপশনে বলা হয়, “বেলুন ছোড়া নিয়ে যোধপুরে একটি তুচ্ছ বিবাদ সহিংসতায় রূপ নেয়। ৫ থেকে ৭ জন দুর্বৃত্তের একটি দল প্রতাপনগর সদর বাজারে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং অসংখ্য যানবাহন ভাঙচুর করে।”

Image
অসত্যভাবে ছড়ানো পোস্ট (বামে) এবং ফেসবুকে ছড়ানো পুরনো ভিডিওর তুলনামূলক স্ক্রিনশট

একই দাবি ভিডিওর ওপর জুড়ে দেওয়া লেখাতেও দেখা যায়। 

পরবর্তীতে কিওয়ার্ড সার্চে ৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে দৈনিক ভাস্করএবিপি লাইভ সহ বেশ কয়েকটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন একই ভিডিও পাওয়া যায়(আর্কাইভ  এখানেএখানে)। 

এএফপি ফ্যাক্ট চেক ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশকারী এবিপি নিউজের প্রতিবেদক করণ পুরীর সাথে যোগাযোগ করেছে। ভিডিওটি যোধপুরের বাল্মীকি বস্তির নিকটবর্তী সদর বাজারের প্রতাপনগর এলাকার বলে জানান তিনি। তিনি একই ভিডিওটি এএফপিকেও পাঠান।  

৭ মে ২০২৬ তারিখে তিনি এএফপিকে বলেন, “মার্চ মাসে হোলি উদযাপনের সময় রঙের বেলুন নিয়ে ঘটনাটি ঘটেছিল “

এএফপি এর আগেও পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনকে ঘিরে ছড়ানো অপতথ্য খণ্ডন করেছে।    

এমন কোনো কন্টেন্ট আছে যা আপনি এএফপি’কে দিয়ে ফ্যাক্ট চেক করাতে চান?

আমাদের সাথে যোগাযোগ