এপস্টেইন ফাইলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতার কথিত ছবিটি জাল

যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত জেফরি এপস্টেইনের বিরুদ্ধে চালানো তদন্তের নথিপত্রের সর্বশেষ ফাইল প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানকে দুই নারীর চুম্বন করার একটি দৃশ্য অনলাইন পোস্টে ছড়িয়ে সেটিকে এপস্টেইন ফাইলে পাওয়া ছবি বলে অসত্যভাবে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু ছবিটি জাল; আসল ছবিটি এপস্টেইন ফাইল প্রকাশের আগের এবং ছবিটি মরক্কোর একজন সাবেক ফুটবল খেলোয়াড়ের। 

৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ছড়ানো একটি ফেসবুক পোস্ট ক্যাপশনে বলা হয়, “এপস্টেইনের ফাঁস হওয়া ফাইলে প্রথমবারের মতো প্রকাশ পাওয়া গেছে যে আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বর্তমান রাষ্ট্রপতি শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান জেফ্রি এপস্টাইনের সাথে তার ব্যক্তিগত দ্বীপে যেখানে বাচ্চা ছেলে মেয়েদের পাচার করে নিলামে তোলা হত সেখানে দেখা করেছেন।”

পোস্টটিতে দুটি ছবি রয়েছে। একটি ছবিতে দুইজন নারীকে একজন পুরুষের গালে চুমু খেতে দেখা যায় এবং অন্যটিতে আমিরাতের রাষ্ট্রপতির ছবি দেখা যায়(আর্কাইভ লিংক)।

Image
এএফপির যোগ করা লাল ক্রস চিহ্নসহ ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে নেয়া অসত্য পোস্টের স্ক্রিনশট

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টেইনের বিরুদ্ধে তদন্তের লক্ষ লক্ষ নথি প্রকাশ করার পর একই দাবিতে ছবিটি অনলাইনে ছড়াতে শুরু করে। অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌন পাচারের অভিযোগে বিচারের অপেক্ষায় থাকা এপস্টেইন ২০১৯ সালে নিউ ইয়র্কের একটি কারাগারে মারা যান(আর্কাইভ লিংক)। 

ইতোপূর্বে  প্রকাশিত নথিতে এপস্টেইনের সাথে ক্লিনটন এবং মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক নির্বাহী, সেলিব্রিটি, শিক্ষাবিদ এবং রাজনীতিবিদদের সম্পর্কের গোপন চিত্র ফুটে উঠে। 

এপস্টেইনের ফাইলগুলোতে কেবল কারও নাম উল্লেখ করা হলেই, সেই ব্যক্তি কোনও অন্যায়ের সাথে জড়িত এমনটা বোঝায় না। 

কিন্তু প্রকাশিত নথিগুলোতে এপস্টেইন বা তাঁর চক্রের সাথে এমন কিছু পরিচিত ব্যক্তির যোগাযোগের কথা উঠে এসেছে, যারা প্রায়শই এই ধরনের সম্পর্কের অস্তিত্বকে অস্বীকার করেছেন। 

মার্কিন ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জে ব্যক্তি মালিকানাধীন লিটল সেন্ট জেমস-দ্বীপে ভ্রমণের কারণে উচ্চ-পর্যায়ের কিছু ব্যক্তিকে তদন্তের মুখোমুখি হতে হয়েছে। এপস্টেইন যৌন কাজের জন্য ওই দ্বীপে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের পাচার করতেন বলে অভিযোগ করেন প্রসিকিউটর (আর্কাইভ লিংক)। 

তাবে অনলাইনে ছড়ানো ছবিটি জাল এবং বানোয়াট।

গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চে ২৫ জানুয়ারি ২০১২ তারিখে ফেসবুকে আপলোড করা একই ধরণের একটি ছবি পাওয়া যায়(আর্কাইভ লিংক)।

আরবি ভাষার ক্যাপশনে ছবির ব্যক্তিকে মরক্কোর সাবেক ফুটবলার মারুয়ান চামাখ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। চামাখা ২০১৯ সালে অবসরে  যান(আর্কাইভ লিংক এখানে এবং এখানে)। 

Image
অসত্যভাবে ছড়ানো জাল ছবি (বামে) ও ২০১২ সালের জানুয়ারি মাসের ছবির তুলনামূলক স্ক্রিনশট

মরক্কোর একটি ক্রিড়া সংবাদপত্রে চামাখসহ দেশটির খেলোয়াড়দের ফাঁস হওয়া নাইটক্লাবের ছবি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দৃশ্যটি পাওয়া যায়(আর্কাইভ লিংক)। 

যদিও ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত এপস্টেইন ফাইলে আল নাহিয়ানের নাম রয়েছে, তবে সেখানে এফবিআইয়ের ব্রিফিং নোটের প্রসঙ্গ, একটি সংবাদ প্রতিবেদনের অনুলিপি এবং একটি  হেলথ ক্লাব থেকে এপস্টেইনকে লেখা একটি ইমেল ছিল(আর্কাইভ লিংক)। 

ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা বুম এবং দ্য কুইন্টও সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রপতিকে জড়িয়ে ছড়ানো অসত্য এই দাবিটি খণ্ডন করেছে (আর্কাইভ লিংক এখানে এবং এখানে)। 

এএফপি এর আগেও এপস্টেইন ফাইল সম্পর্কিত অন্যান্য অপতথ্য খণ্ডন করেছে। 

এমন কোনো কন্টেন্ট আছে যা আপনি এএফপি’কে দিয়ে ফ্যাক্ট চেক করাতে চান?

আমাদের সাথে যোগাযোগ