ভারতে ধর্মীয় উত্তেজনা সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশের সাজানো ভিডিও ব্যবহার

বাংলাদেশে বেলুন বিক্রেতা এক বালাকের উপর এক লোক হামলে পড়ে সব বেলুন ফাটিয়ে ফেলার ভিডিওটি সাজানো ঘটনা। কিন্তু সামাজিক মাধ্যমে সম্পূর্ণ  ভিন্ন ভাবে ভিডিওটিকে ভারতে মুসলিম সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী যে সহিংসতার মুখোমুখি হচ্ছে, তার উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ক্লিপটি একটি ‘অভিনয়’ ছিল বলে এএফপিকে জানিয়েছেন ভিডিওটি যিনি ধারণ করেছেন, সেই ব্যক্তি। এছাড়া ভিডিওতে থাকা শিশুটিও আগে থেকেই জানত যে, কী ঘটতে চলেছে।  

২৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ফেসবুকে ছড়ানো একটি পোস্টের ক্যাপশনে বলা হয়, “ভারতে উগ্রবাদী হিন্দু তার সব বেলুন ফাটিয়ে দিয়েছে, কারণ শিশুটি মুসলিম। কলকাতার ঘটনা। এদের ঘৃণার লেভেল আসমান ছাড়িয়ে গেছে।”

ভিডিওতে থাকা শিশুটিকে মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের মত টুপি পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। 

Image
এএফপির যোগ করা ক্রস চিহ্নসহ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে নেয়া অসত্য পোস্টের স্ক্রিনশট

একই দাবিতে ভিডিওটি ফেসবুকে অন্যত্র ছড়ানো হয়েছে। 

এসব পোস্টে একজন মন্তব্য করেন, “ভারতে লাখ লাখ মুসলমান হিন্দুদের হাতে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, কেউ কিছু বলছে না। বিশ্ব মিডিয়া নিরব।”

আরেকজনকে মন্তব্য করে লিখেন, “আল্লাহ তুমি মুসলমানদের রক্ষা করো।”

কিন্তু ভিডিওটি ভারতের নয় এবং ভিডিওটি সাজানো। 

অসত্যভাবে ছড়ানো ভিডিওটির কিফ্রেম ব্যবহার করে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চে ভিডিওটির দীর্ঘ সংস্করণ ফেসবুকে পাওয়া যায়, যা ১২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রচার করা হয়(আর্কাইভ লিংক)। 

ভিডিওটির ক্যাপশনে বলা হয়, “এক দিনের জন্য ব্যবসা বন্ধ, কিন্তু কেনো?”

ভিডিওটিতে বেলুন ফাটানোর পর ওই ব্যক্তিকে শিশুটিকে ১,০০০ টাকা দিতে দেখা যায়। একই সাথে ওই ব্যক্তি শিশুটিকে রাস্তায় বেলুন বিক্রি না করে বাড়িতে খেলতে এবং পড়াশোনা করতে যাওয়ার পরামর্শ  দিতে দেখা যায়। 

Image
অসত্যভাবে ছড়ানো ক্লিপ(বামে) এবং ফেসবুকে প্রকাশিত ভিডিওর তুলনামূলক স্ক্রিনশট

ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি এএফপিকে জানিয়েছে যে এটি একটি সাজানো ভিডিও এবং ঢাকার একটি এলাকায় ধারণ করা হয়েছিল।

মোহাম্মদ রাজু মিয়া নামের ওই ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তি ২৯ জানুয়ারি বলেন,  “ভিডিওটি আগারগাঁওয়ে তোলা হয়েছে এবং এটি একটি অভিনয়। ভিডিওতে থাকা শিশুটি আগে থেকেই সবকিছু জানত এবং পরে আমি আমার পেজে এই শিশুটিকে নিয়ে একাধিক ভিডিও পোস্ট করেছি।”

ভিডিওটির অবস্থান ঢাকার আগারগাঁও এলাকার একটি সড়কের গুগল ম্যাপের রাস্তার ছবির সাথে মিল পাওয়া যায়(আর্কাইভ লিংক)। 

Image
অসত্য পোস্টে ছড়ানো ভিডিও(বামে) এবং গুগল স্ট্রিট ভিউয়ের ছবির মধ্যকার মিলগুলো এএফপির যোগ করা হাইলাইটসহ তুলনামূলক স্ক্রিনশট

শিশুটির মামা আতিকুল ইসলাম ৯ ফেব্রুয়ারি পৃথকভাবে এএফপিকে জানান, তারা দুজনেই আগারগাঁওয়ে বেলুন বিক্রি করেন।

তিনি বলেন, “কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের সাথে শিশুর ভিডিওটি তাঁর সম্মতিতেই তৈরি করা হয়েছিল।”

একই শিশুকে কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের ফেসবুক পেজের অন্যান্য ভিডিওতেও দেখা যায়(আর্কাইভ লিংক এখানে এবং এখানে)।

১৩ জানুয়ারির একটি ভিডিওতে রাজু মিয়াকে শিশুটির সাথে কথা বলতে দেখা যায় (আর্কাইভ লিংক)। ক্যামেরায় তিনি বলেন, প্রচারিত ভিডিওতে কী ঘটবে তা আগে থেকেই শিশুটিকে বলা হয়েছিল। 

এএফপি এর আগেও অসত্যভাবে ছড়ানো কিছু সাজানো ভিডিও খণ্ডন করেছে এখানে এবং এখানে। 

এমন কোনো কন্টেন্ট আছে যা আপনি এএফপি’কে দিয়ে ফ্যাক্ট চেক করাতে চান?

আমাদের সাথে যোগাযোগ