ভিডিওটি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনবিরোধী সমাবেশের, ভারতে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভের নয়
- প্রকাশিত 18 জুন 2026, 09:26
- 2 এক্স মিনিটে পড়ুন
- লেখক: Vishesh SINGH, এএফপি ইন্ডিয়া
- অনুবাদ এবং অভিযোজন Eyamin SAJID, এএফপি বাংলাদেশ
প্রধান প্রধান পাবলিক পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে ২০২৬ সালের জুন মাসে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ব্যঙ্গাত্মক ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র ব্যানারে শত শত শিক্ষার্থী সমাবেশ করেছে। তবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো কথিত বিক্ষোভের ভিডিওটি আসলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সমাবেশের। ফুটেজটি যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভের সময় ছড়ানো হয়, যা দিল্লিতে ককরোচ পার্টির সমাবেশের কয়েক মাস আগে হয়েছিল।
৬ জুন ২০২৬ তারিখে ছড়ানো একটি ফেসবুক ভিডিওর ক্যাপশনের বলা হয়, “কেউ যেনো বলেছিলেন আমরা ককরোচ, তা ককরোচ এর ক্ষমতা দেখতে পাচ্ছেন তো?” ভিডিওটি আপলোডের পর থেকে ১ হাজার ২০০ বার শেয়ার হয়েছে।
ভিডিওতে একটি শহরের রাস্তায় গাদাগাদি করে জড়ো হওয়া মানুষের টপ-ডাউন ভিউ দেখা যায়। আর ভিডিওর উপর জুড়ে দেয়া লেখায় বলা হয়, “সিজেপি বিক্ষোভ”।
একই ভিডিও অনুরূপ দাবিতে ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব ও এক্স পোস্টে ছড়ানো হয়।
পোস্টের মন্তব্যে একজন লিখেন, “এটাই যুব সমাজের শক্তি — সচেতন, নির্ভীক এবং যাদের কণ্ঠস্বর থামানো যায় না। দিল্লির গদি একটু হলেও হিলেছে মনে হয়।”
অন্য একজন লিখেন, “ককরোজ জনতা পার্টি জিন্দাবাদ।”
প্রধান প্রধান পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অপসারণের দাবিতে শত শত বিক্ষোভকারী নয়াদিল্লিতে সমবেত হয়। সে সময় অসত্য দাবিতে ফুটেজটি অনলাইনে ছড়ানো হয় (আর্কাইভ লিংক)।
তদন্তকারী দল প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি উন্মোচন করার পর দেশের অন্যতম প্রতিযোগিতাপূর্ণ মেডিকেল কলেজ ভর্তির একটি পরীক্ষা বাতিল করেছে ভারত সরকার। এর আগে প্রায় ২০ লাখ হাই স্কুল শিক্ষার্থীর নেওয়া পরীক্ষার অনলাইন মূল্যায়ন পদ্ধতিতে কেলেঙ্কারি ধরা পড়ে।
ককরোচ জনতা পার্টি(সিজেপি) নয়াদিল্লির বিক্ষোভের আয়োজন করে। আদালতে এক শুনানির সময় ভারতের প্রধান বিপারপতি সরকারের সমালোচনাকারী দেশটির বেকার তরুণদেরকে “তেলাপোকা” ও “পরজীবী”-র সাথে তুলনা করেন। তাঁর এই মন্তব্যের প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দু জাতীয়তাবাদী ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নামকে ব্যঙ্গ করে ককরোচ জনতা পার্টির যাত্রা শুরু হয়(আর্কাইভ লিংক)।
তবে সামাজিক মাধ্যমের পোস্টে ছড়ানো ফুটেজটি নয়াদিল্লির বিক্ষোভের নয়।
মিনেসোটা বিক্ষোভ
অসত্যভাবে ছড়ানো ভিডিওটির কিফ্রেম নিয়ে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চে একটি ইনস্টাগ্রামের ২৪ জানুয়ারির পোস্টে একই ফুজেট পাওয়া যায়(আর্কাইভ পোস্ট)।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ডেমোক্র্যাট-শাসিত শহরে মোতায়েন করা ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) হাজার হাজার এজেন্টকে ইঙ্গিত করে ইনস্টাগ্রাম পোস্টের একটি অংশে বলা হয়, “মিনেসোটায় চলমান আইস অভিযানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে আজকের হাড়কাঁপানো শীত উপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমেছেন।”
“বিক্ষোভটি ইউএস ব্যাংক স্টেডিয়ামের কাছে দ্য কমন্স পার্ক থেকে শুরু হয়ে টার্গেট সেন্টারে একটি ইনডোর সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।”
পাঁচ বছর বসয়ী এক অভিবাসী বালককে আটকের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ওই সময় কয়েক হাজার মানুষ শহরটিতে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়। (আর্কাইভ লিংক)।
শিশুটিকে আটকের ঘটনায় রাষ্ট্রের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে জনরোষকে পুনরায় উসকে দেয়। আর সে সময় একজন মার্কিন নাগরিককে গুলি করে হত্যা করে একজন এজেন্ট।
একই ধররেন পোস্টে ফুটেজটি টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে প্রচার করা হয়, যেখানে বলা হয় যে বিক্ষোভটি মিনিয়াপোলিসে (আর্কাইভ এখানে ও এখানে)।
বিক্ষোভের একই রকমের একটি ছবি স্থানীয় সংবাদমাধ্যম মিনেসোটা রিফর্মারের ২৩ জানুয়ারির একটি নিবন্ধের উপর ব্যবহার করা হয়(আর্কাইভ লিংক)।
মিনিয়াপোলিসের গুসল স্ট্রিট ভিউ ইমেজারির সাথে অসত্যভাবে ছড়ানো ফুটেজের মিল পাওয়া যায়(আর্কাইভ লিংক)।
ভারতের বিক্ষোভের সাথে সম্পর্কহীন অসত্য দাবি এর আগেও খণ্ডন করেছে এএফপি।
কপিরাইট © এএফপি ২০১৭-২০২৬। এই কন্টেন্টের যেকোন বানিজ্যিক ব্যবহারের জন্য অনুমতি নেয়া বাধ্যতামূলক। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।
এমন কোনো কন্টেন্ট আছে যা আপনি এএফপি’কে দিয়ে ফ্যাক্ট চেক করাতে চান?
আমাদের সাথে যোগাযোগ