ভারতের পুরনো ভিডিওকে বাংলাদেশে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড হিসেবে অসত্যভাবে প্রচার

২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতায় অন্তত ৩৬ জন নিহত হয়েছেন। তবে অনলাইনে প্রচার হওয়া ধারালো অস্ত্র দিয়ে এক ব্যক্তি অপর একজনকে আঘাত করার ভিডিওটি ক্ষমতাসীন বিএনপির কোনো সদস্য কর্তৃক নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকে হত্যার নয়। ভারতের একজন পুলিশ কর্মকর্তা এবং ভিডিওটি প্রকাশকারী একটি গণমাধ্যম এএফপিকে জানিয়েছে যে, ভিডিওটি আসলে মুম্বাই শহরে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ধারণ করা হয়েছে।  

গ্রাফিক ভিজ্যুয়ালস

২৮ মে ২০২৬ তারিখে ফেসবুকে ছড়ানো একটি পোস্টের ক্যাপশনে বলা হয়, “রাজধানীতে ঈদের নামাজ শেষে, গরু জবাই করা ছুড়ি দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকে প্রকাশ্য জবাই এবং কুপিয়ে হত্যা করলো বিএনপির সন্ত্রাসীরা।”

পোস্টের ক্যাপশনে আরও বলা হয়,  “তিনি মিথ্যা মামলা স্বীকার হয়ে, জামিনে বেরিয়ে ঈদের দিন বাড়িতে এসেছিলেন। কিন্তু বিএনপির সন্ত্রাসীরা তার নিজ বাড়িতেই হত্যা করলো।”

এক হাজার ৬০০ বারেরও বেশি শেয়ার হওয়া পোস্টটির সাথে যুক্ত ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে অস্ত্র দিয়ে অন্য একজনকে নৃশংসভাবে আক্রমণ করতে দেখা যায়।  

দৃশ্যমান করুন গোপন করুন

কন্টেন্ট সতর্কতা

Image
এএফপির যোগ করা লাল ক্রস চিহ্নসহ ৭ জুন ২০২৬ তারিখে নেয়া অসত্য পোস্টের স্ক্রিনশট

‘হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে রাজনৈতিক সহিংসতার ৬১০টি ঘটনায় ৩৬ জন নিহত হয়েছেন; নিহতদের মধ্যে ২৮ জন বিএনপি এবং একজন আওয়ামী লীগের সদস্য(আর্কাইভ লিংক)।

ঢাকার আরেকটি মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ এর সূত্রমতে, স্বৈরাচারী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনের অবসানের পর ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সংশ্লিষ্টতায় সৃষ্ট সহিংসতায় অন্তত ২৮১ জন নিহত হয়েছে (আর্কাইভ লিংক)। 

অসত্য দাবিতে ফুটেজটি অন্যত্র ফেসবুকে ছড়ানো হয়েছে। 

তবে ফুটেজটি বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের দৃশ্য নয়। এটি ভারতের মুম্বাই শহরের। 

ভারতের ভিডিও

অসত্যভাবে ছড়ানো ভিডিওটির কিফ্রেম নিয়ে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চে দেখা যায়, ভিডিওটি মুম্বাইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম 'গ্যালিনিউজ ইন্ডিয়া'-র ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ২ জুলাই ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত হয়(আর্কাইভ লিংক)।

পোস্টটির ক্যাপশনে বলা হয়, “অ্যান্টপ হিলে হত্যাকাণ্ড, কালওয়ার এক বাসিন্দা খুন।” 

অ্যান্টপ হিল ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর মুম্বাইয়ের একটি আবাসিক এলাকা।

দৃশ্যমান করুন গোপন করুন

কন্টেন্ট সতর্কতা

Image
অসত্যভাবে ছড়ানো ভিডিও(বামে) এবং ইনস্টাগ্রাম ভিডিওর তুলনামূলক স্ক্রিনশট

গ্যালিনিউজ এএফপি-কে নিশ্চিত করেছে যে ভিডিওটি মুম্বাইয়ের।

৯ জুন গ্যালিনিউজ ইন্ডিয়া এএফপি-কে জানায়, “এক প্রত্যক্ষদর্শী আমাদের প্রতিবেদকের কাছে ভিডিওটি শেয়ার করেন, যখন তিনি সেখানে পৌঁছান।”

আরও কি-ওয়ার্ড অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভিডিওটি ৩ জুলাই ২০২৫ তারিখে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘মুম্বাই টিভি’-র প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে শেয়ার করা হয় (আর্কাইভ লিংক)। 

আহত ব্যক্তিকে একজন অটোরিকশা চালক হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে, যিনি ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে তাঁর বন্ধুর হামলার শিকার হয়েছিলেন। 

সংবাদমাধ্যম 'টাইমস অফ ইন্ডিয়া' জানায়, ওয়াডালা ট্রাক টার্মিনাল পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে (আর্কাইভ লিংক)।

এএফপি ওয়াডালা ট্রাক টার্মিনাল পুলিশ স্টেশনের এক কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি নিশ্চিত করেন যে, ঘটনাটি ২০২৫ সালের জুলাই মাসে মুম্বাইতে ঘটেছিল।

 ৯ জুন সাব-ইন্সপেক্টর অর্জুন হাজারে এএফপি-কে বলেন, “ঘটনাটি ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ওয়াডালা ইস্ট এলাকায় ঘটেছিল, যখন এক ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র দিয়ে অন্য একজনকে আক্রমণ করেন। পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে এবং হত্যার চেষ্টার পাশাপাশি অন্যান্য প্রাসঙ্গিক অভিযোগে মামলা দায়ের করে।”

এএফপি এর আগেও বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে ছড়ানো অসত্য তথ্য খণ্ডন করেছে। 

এমন কোনো কন্টেন্ট আছে যা আপনি এএফপি’কে দিয়ে ফ্যাক্ট চেক করাতে চান?

আমাদের সাথে যোগাযোগ