বাংলাদেশে ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার দায়ে পিটুনির শিকার এক ব্যক্তির ভিডিওকে ভারতে মুসলিম-বিরোধী ঘটনা হিসেবে প্রচার

কয়েকজন নারী চটি দিয়ে এক ব্যক্তিকে পেটাচ্ছেন এমন একটি ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে সেটিকে ভারতে হিন্দু নারীদের ইসলাম ধর্মের প্রতি প্রলুব্ধ করার চেষ্টায় একজন মুসলিম ব্যক্তিকে মারধর করার অসত্য দাবি করা হয়েছে। আদতে ফুটেজটি বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ধারণ করা। এক নারী শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্ত করার দায়ে ওই ব্যক্তিকে ছাত্রীরা মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। 

২৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ফেসবুকে ছড়ানো একটি পোস্টের ক্যাপশনে বলা হয়, “একজন বাংলাদেশী জিহাদি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে হিন্দু ছাত্রীদেরকে লাভ জিহাদের ফাঁদে ফেলার জন্য মিথ্যা পরামর্শ দিচ্ছিল। তখন ছাত্রীরা সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে জিহাদিটিকে হাতে-নাতে ধরে ফেলে এবং জুতো ও চপ্পল দিয়ে তাকে মারধর করে “

পোস্টের সাথে যুক্ত একটি ভিডিওতে কিছু মানুষকে একটি গাড়ি ঘিরে রাখতে দেখা যায় এবং কয়েকজন নারী ভেতরে থাকা এক ব্যক্তিকে স্যান্ডেল দিয়ে মারতে দেখা যায়। 

ভালবাসার নামে নারীদের প্রলুব্ধ করে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করার লক্ষ্যে মুসলিম পুরুষদের কথিত অভিযানকে বোঝাতে ভারতের উগ্র-ডানপন্থী হিন্দুরা “লাভ জিহাদ” পরিভাষাটি ব্যবহার করে থাকে(আর্কাইভ লিংক)। 

তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দু জাতীয়তাবাদী প্রশাসনের অধীনে দেশটির সংখ্যালঘু মুসলিমরা বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হচ্ছেন বলে মনে করেন সমালোচকরা(আর্কাইভ লিংক)।

Image
এএফপির যোগ করা লাল ক্রস চিহ্নসহ ২ জুন ২০২৬ তারিখে নেয়া অসত্য পোস্টের স্ক্রিনশট

অসত্য দাবিতে ফুটেজটি অন্যত্র ফেসবুকে এখানে এবং প্রতিবেশী ভারতে হিন্দি ভাষায় ফেসবুকে ও ইনস্টাগ্রামে ছড়ানো হয়েছে।

কিন্তু ভিডিওটির কিফ্রেম ব্যবহার করে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চে দেখা যায়, এটি ভারতে ধারণ করা হয়নি। 

ঘটনাটি নিয়ে একই ধরনের একটি ভিডিও ২৬ এপ্রিল নিজেদের ইউটিউব চ্যানেলে পোস্ট করে বাংলানিউজ২৪। ভিডিওটির শিরোনামে বলা হয়, “ঢাবি ছাত্রীকে উত্যক্তের অভিযোগে অভিযুক্তকে জু’তাপে’টা করলেন শিক্ষার্থীরা”(আর্কাইভ লিংক)। 

Image
অসত্যভাবে ছড়ানো ভিডিও(বামে) এবং ইউটিউব ভিডিওর তুলনামূলক স্ক্রিনশট

ঘটনাটি নিয়ে একই দিন অন্যান্য সংবাদমাধ্যমও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এসব প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির অভিযোগে লোকটিকে পুলিশে দেয়া হয়(আর্কাইভ এখানেএখানে)। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মোহাম্মদ মাহবুব কায়সার ১৪ মে এএফপিকে বলেন, “ভিডিওটি ২৬ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ে বাণিজ্য অনুষদে নারী শিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্তকারীর।”

“পরে শিক্ষার্থীরা তাকে আটক করে এবং শাহবাগ থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।” 

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান ১৮ মে এএফপিকে বলেন, “আমরা থাকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে শাস্তির আওতায় এনে তাকে জেল হাজতে পাঠিয়েছি।”

অনলাইনে ছড়ানো ভিডিওটির দৃশ্যের সাথে গুগল ম্যাপে প্রকাশিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের একটি ছবির মিল পাওয়া যায়(আর্কাইভ লিংক)।  

Image
অসত্য পোস্টের ভিডিও(বামে) এবং গুগল ম্যাপের স্ট্রিট ভিউর ছবির মধ্যকার মিল এএফপি কর্তৃক চিহ্নিত করে তুলনামূলক স্ক্রিনশট

এএফপি “লাভ জিহাদ” নিয়ে ষড়যন্ত্রমূলক আরও একটি দাবি খণ্ডন করেছে। 

এমন কোনো কন্টেন্ট আছে যা আপনি এএফপি’কে দিয়ে ফ্যাক্ট চেক করাতে চান?

আমাদের সাথে যোগাযোগ