ভুল তথ্য ছড়ায় ফেসুবকে ( AFP / CHRIS DELMAS)

ভিন্ন ছবিকে মরক্কোর কুয়ায় আটকে পড়া শিশু বলে ফেসবুকে প্রচার

কপিরাইট এএফপি ২০১৭-২০২২। সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত।

ফেসবুকে বিভিন্ন ভাষার পোস্টে একটি ছবি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে গত সপ্তাহে মরক্কোর একটি কুয়ায় আটকে পড়ে মর্মান্তিকভাবে মারা যাওয়া ৫ বছর বয়সী শিশু রায়ান ওরামেরর ছবি এটি। দাবিটি অসত্য; ছবিটি এবছর জানুয়ারী মাস থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিশুর আহত হওয়ার প্রতিবেদনের সাথে প্রকাশিত হয়েছে।  

গত ৬ ফেব্রুয়ারী তারিখের একটি ফেসবুক পোস্টের অংশবিশেষে লেখা রয়েছে, “৫ দিনের শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের পর মরক্কো শিশু রায়হান উদ্ধার করার কয়েক মিনিট পর ইন্তেকাল করে।”

ছবিটিতে হাসপাতালের বেডে মুখ ও মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত এক শিশুকে দেখা যাচ্ছে।  

বিভ্রান্তিকর ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশটটি ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২২ তারিখে নেয়া

গত ১ ফেব্রুয়ারী মরক্কোর রায়ান ওরাম নামক পাঁচ বছর বয়সী এক শিশু কুুয়ায় আটকে থাকার প্রেক্ষাপটে ছবিটি অনলাইনে ছড়ায়। পাঁচদিনের শ্বাসরুদ্ধকর উদ্ধার অভিযানের পর রায়ানকে মৃত উদ্ধার করার ঘটনাটি বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে।   

এএফপির প্রতিবেদন পড়ুন এখানে।   

ছবিটি আরবীফ্রেঞ্চ ভাষায়ও একই রকম দাবিসহকারে শেয়ার করা হয়।  

কিন্তু ছবিটি ভুলভাবে ছড়ানো হয়েছে।

রিভার্স ইমেজ সার্চে দেখা যায় ছবিটি রায়ানের ঘটনার এক সপ্তাহেরও বেশি আগে গত ২১ জানুয়ারী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনা রাজ্যে এক সড়ক দুর্ঘটনার খবরের সাথে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউএফএমওয়াই নিউজ ২  এর প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়।  

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, “আই-৪০ সড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ছয় বছর বয়সী শিশু হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছে,  ডব্লিউএফএমওয়াই নিউজ ২'-কে তার মা এমনটা জানিয়েছেন।” 

নীচে বিভ্রান্তিকর ফেসবুক পোস্টের ছবি (বামে) ও ডব্লিউএফএমওয়াই নিউজ ২ এ প্রকাশিত ছবির (ডানে) একটি তুলনামূলক স্ক্রিনশট দেওয়া হলো:

বিভ্রান্তিকর ফেসবুক পোস্ট ব্যবহৃত ছবি (বামে) ও মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে ব্যবহৃত ছবির (ডানে) তুলনামূলক স্ক্রিনশট

ডব্লিউএফএমওয়াই নিউজ ২ গত ২১ জানুয়ারী ফেসবুকেও ছবিটি পোস্ট করে।  

এছাড়াও সংবাদমাধ্যমটি ফেসবুকে ছড়ানো দাবিকে গত ৬ ফেব্রুয়ারী এক প্রতিবেদনের মাধ্যমেও অসত্য বলে খণ্ডন করে।   

এতে বলা হয়, “ট্রায়াডে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এক শিশুর ছবিকে মরক্কোর কুয়ায় আটকে পড়া শিশুর ছবি বলে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।”

( Mohammad MAZED)