এটি ২০১১ সালে সুনামির ভিডিও, ২০২৪ সালের ভূমিকম্প পরবর্তী সমুদ্রের ঢেউয়ের নয়

  • নিবন্ধটি দুই বছরেরও বেশি পুরনো।
  • প্রকাশিত 7 জানুয়ারি 2024, 15:15
  • আপডেট করা হয়েছে 18 জানুয়ারি 2026, 10:21
  • 2 এক্স মিনিটে পড়ুন
  • লেখক: এএফপি বাংলাদেশ
  • অনুবাদ এবং অভিযোজন Eyamin SAJID

সুনামির ঢেউয়ে গাড়ি ও ছোট জাহাজ ভেসে যাওয়ার নাটকীয় ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে ভিডিওটি গত ১ লা জানুয়ারি জাপানে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পের পরিস্থিতির বলে অসত্যভাবে দাবি করা হচ্ছে। ইংরেজি নতুন বছরের প্রথম দিনে আঘাত হানা ভূমিকম্প সুনামিতে রূপ নিয়ে এক মিটারের বেশি উঁচু ঢেউসহ জাপানের ইশিকাওয়া অঞ্চলের উপকূলে উপচে পড়ে। তবে সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা ভিডিওটি প্রকৃতপক্ষে ২০১১ সালে জাপানে ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামির সময়ের।

২ জানুয়ারি ফেসবুকে এখানে ভিডিওটি শেয়ার করে শিরোনামে বলা হয়: "জাপানে সুনামিতে লন্ডভন্ড একদিনে ১৫৫টি ভূমিকম্প!"

দুই দিনের ব্যবধানে ভিডিওটি ৩০লাখের বেশি ভিউ হয়েছে এবং ৮৮,০০০ হাজারের বেশি রিঅ্যাক্ট পেয়েছে।

Image
এএফপির যোগ করা লাল ক্রস চিহ্নসহ ৫ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে অসত্য ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট

পোস্টে শেয়ার করা ভিডিওটিতে বিশালাকার ঢেউ একটি উপকূলীয় রাস্তায় সমুদ্রগামী জাহাজকে ভাসিয়ে নিতে ও গাড়ির ওপর উপছে পড়তে দেখা যায়।

হোনশু দ্বীপের ইশিকাওয়া অঞ্চল ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানার দিন থেকে পুরনো এই ভিডিওটি অনলাইনে ছড়াতে শুরু করে। ভূমিকম্পে ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত ৬২ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা।

ভূমিকম্পের তীব্রতা সুনামিতে রূপ নেয়, যা এক মিটারেরও বেশি উচ্চতার ঢেউ সৃষ্টি করে। ভূমিকম্পের ফলে অঞ্চলটির ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ে, বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এবং রাস্তাঘাট ভেঙে চুরমার হয়ে যায়।

ইংরেজি নতুন বছরের প্রথম দিনের ভূমিকম্পের অসত্য দাবিতে ভিডিওটি ফেসবুকে এখানে এবং এখানে শেয়ার করা হয়।

বাংলা ভাষার পাশাপাশি ভিডিওটি বিভিন্ন ভাষায়-- যেমন গ্রিস, ভারত, জাপান, মিয়ানমার, পাকিস্তান, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীরা ফেসবুক, এক্স এবং ইউটিউবে শেয়ার করেছেন।

তবে কীফ্রেম ব্যবহার করে গুগল রিভার্স ইমেজ সার্চ করে দেখা যায় যে, ভিডিওটি আসলে ২০১১ সালের মার্চ মাসে জাপানে ৯.০ মাত্রার বিধ্বংসী ভূমিকম্প পরবর্তী সুনামির পরে ধারণ করা হয়। সে সময় ভূমিকম্পে প্রায় ১৮,৫০০ জন নিহত বা নিখোঁজ হয়েছিল।

বিভ্রান্তিকর ফুটেজ

অসত্য দাবিতে শেয়ার করা ভিডিওটি জাপানের সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান এএনএন-র ইউটিউব চ্যানেল শেয়ার করা এই ভিডিওর ৩ মিনিট ৫০ সেকেন্ড থেকে শেষ পর্যন্ত ক্রপ করে হরিজনটালি উল্টে দিয়ে শেয়ার করা হয়েছে (আর্কাইভ লিংক)।

এএনএন-র ভিডিওটির শিরোনামে বলা হয়: "সুনামি, গ্রেট ইস্ট জাপান আর্থকোয়ক।" এর ক্যাপশনে বলা হয় যে, ভিডিওটি ২০১১ সালের ১১ মার্চ জাপানের মূল দ্বীপের পূর্ব উপকূলের মিয়াকো শহরে ধারণ করা হয়।

নিচে অসত্য দাবিতে শেয়ার করা পোস্টের ভিডিওটির (বামে) বিভিন্ন ফুটেজের সাথে এএনএন-র ইউটিউব চ্যানেল প্রকাশিত ভিডিও (ডানে) তুলনামূলক স্ক্রিনশট দেয়া হলো:

Image
অসত্য দাবিতে শেয়ার করা পোস্টের ভিডিওটির (বামে) বিভিন্ন ফুটেজের সাথে এএনএন-র ইউটিউব চ্যানেল প্রকাশিত ভিডিও (ডানে) তুলনামূলক স্ক্রিনশট

পাশাপাশি এএফপির প্রকাশিত ২০১১ সালের ভূমিকম্পের একই এঙ্গেল থেকে তোলা একটি ছবিতে একইরকম দৃশ্য ধরা পড়েছে।

ছবিটির ক্যাশনে বলা হয়: "২০১১ সালের ১১ মার্চ মিয়াকো শহরের কর্মকর্তারা ছবিটি ধারণ করেন এবং ২০১১ সালের ১৮ মার্চ ছবিটি প্রকাশ করেন। এতে দেখা যায় যে, জাপানের উত্তরাঞ্চলে ৯.০ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানার পর সুনামি উপকূলীয় বাধের দিকে ধেয়ে আসছে এবং মিয়াকো শহরের দিকে প্রবাহিত হচ্ছে।"

ফুটেজের লোকেশনের সাথে মিয়াকো শহরের গুগল স্ট্রিট ভিউ-র ইমেজের সাথে অভিকল মিল পাওয়া যায় (আর্কাইভ লিংক)।

নীচে অসত্য দাবিতে ছড়ানো পোস্টের ভিডিও (বামে) এবং গুগল ম্যাপের ছবিতে (ডানে) এএফপি কর্তৃক একই অবকাঠামোর হাইলাইট করা তুলনামূলক স্ক্রিনশট দেয়া হল:

Image
অসত্য দাবিতে ছড়ানো পোস্টের ভিডিও (বামে) এবং গুগল ম্যাপের ছবিতে (ডানে) একই অবকাঠামো এএফপি কর্তৃক হাইলাইট করে তুলনামূলক স্ক্রিনশট
Republishing this story to correct metadata.
১৮ জানুয়ারী, ২০২৬ Republishing this story to correct metadata.

এমন কোনো কন্টেন্ট আছে যা আপনি এএফপি’কে দিয়ে ফ্যাক্ট চেক করাতে চান?

আমাদের সাথে যোগাযোগ