
ফুটবল ম্যাচে ফিলিস্তিনের পতাকা প্রদর্শনের ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি
- নিবন্ধটি এক বছর পুরনো
- প্রকাশিত 31 অক্টোবর 2023, 10:28
- আপডেট করা হয়েছে 1 নভেম্বর 2023, 06:48
- 4 এক্স মিনিটে পড়ুন
- লেখক: এএফপি বাংলাদেশ
কপিরাইট © এএফপি ২০১৭-২০২৫। এই কন্টেন্টের যেকোন বানিজ্যিক ব্যবহারের জন্য অনুমতি নেয়া বাধ্যতামূলক। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।
গত ২০ অক্টোবর ফেসবুকে এখানে আপলোড করা একটি পোস্টের ক্যাপশনে বলা হয়, "ধন্যবাদ অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ভক্ত, তোমাদের প্রতি ভালোবাসা বেড়ে গেল। আই লাভ ফিলিস্তিন তোমাদের জন্য অনেক শুভ কামনা।"
৪,৩০০ বেশি লাইক পড়া ওই ছবিটিতে একটি স্টেডিয়ামে জড়ো হওয়া দর্শকদেরকে ফিলিস্তিনের বিশাল একটি পতাকা মেলে ধরে উল্লাস করতে দেখা যাচ্ছে।

ফেসবুক এবং এক্স-এ, যা পূর্বে টুইটার নামে পরিচিত ছিলো, একাধিক ভাষায় ব্যাপকভাবে ছবিটি শেয়ার করে দাবি করা হয়েছে যে, স্প্যানিশ ফুটবল ক্লাব অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের ভক্তরা ফিলিস্তিনিদের পক্ষে নিজেদের সমর্থন প্রকাশ করছেন।
গত তিন সপ্তাহ ধরে গাজায় বোমা হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল, কারণ এর আগে হামাসের আকস্মিক হামলায় ইসরাইলের কমপক্ষে ১, ৪০০ নিহত হয়, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক বলে দাবি ইসরায়েলের কর্মকর্তাদের।
দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে মারাত্মক হামলার পর ইসরায়েল গাজায় পানি, খাদ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসের স্বাভাবিক সরবরাহের করিডোর বন্ধ করে দেয়। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৭০টির কম ত্রাণবাহী ট্রাক খাদ্য সংকট কবলিত ওই অঞ্চলে প্রবেশ করেছে।
গত ২৬ অক্টোবর হামাস পরিচালিত গাজা উপত্যাকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলের অতর্কিত বোমাবর্ষণে ৭,০০০ এরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক এবং তাদের মধ্যে অনেকই শিশু।
ইসরায়েল ও গাজার পক্ষে সমর্থন জানিয়ে বিশ্বব্যাপী বিক্ষোভ নেমেছে উভয় দেশের সমর্থকরা।
একই দাবিতে ছবিটি ফেসবুকে এখানে ও এখানে শেয়ার করা হয়েছে।
তবে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের স্টেডিয়ামে দর্শকদের হাতে বিশাল ফিলিস্তিনি পতাকা দেখানো ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি বলে এএফপির বিশ্লেষণে পাওয়া গেছে।
এআই দিয়ে বানানো ছবি
রিভার্স ইমেজ সার্চে দেখা গেছে, গত ১৮ অক্টোবর "অ্যাথলেটিকো ইউনিভার্স" নামে একটি এক্স একাউন্টে ছবিটি পোস্ট করা হয় (আর্কাইভ লিংক)।
একাউন্টের প্রোফাইলে লেখা আছে এটি থেকে স্প্যানিশ দলটিকে উৎসর্গ করে বিভিন্ন বিষয় প্রকাশ করা হয়ে থাকে। তবে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের সাথে একাউন্টটি আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে মনে হয় না, কারণ ক্লাবটির নিজস্ব এক্স-একাউন্ট পেইজ রয়েছে।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য এএফপি "অ্যাটলেটিকো ইউনিভার্স" অ্যাকাউন্টের সাথে যোগাযোগ করে কিন্তু কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
তবে পর্যবেক্ষণে এআই দিয়ে তৈরি ছবির সাধারণ বৈশিষ্ট্য এতে খুঁজে পাওয়া যায়, যেসব বিষয়ে এএফপি এর আগে প্রতিবেদন করেছে। উদাহরণস্বরূপ, স্ট্যান্ডের লোকেদের বিকৃত হাত এবং লম্বা বাহু দেখা যায়।

আরো কিছু লক্ষণ যেগুলো ঈঙ্গিত করে যে ছবিটি বাস্তব নয়:
পিচে পেনাল্টি এলাকা নির্দেশ করে এমন লাইনগুলোও মিলছে না।
ফিলিস্তিনি পতাকার উপরে দৃশ্যমান স্ক্রিনটিতে ২০২৩ সালে আপডেট করা অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বর্তমান ইনসিগনিয়াটি দেখাচ্ছে না। এটির উপরের অংশে তারাগুলি অনুপস্থিত এবং ক্রেস্টের মধ্যে চিহ্নগুলি বিকৃত এবং অস্পষ্ট বলে মনে হচ্ছে।

অনেক পোস্টের ক্যাপশনে দাবি করা হয়েছে যে, এটি অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের ভক্তদের জমায়েত যা মূলত ক্লাবটির নিজেদের স্টেডিয়াম সিভিটাস মেট্রোপলিটানোকেই বুঝাচ্ছে। কিন্তু ছবিটিতে একটি আয়তক্ষেত্র আকৃতির ছাদ দেখা যায়, যদিও মাদ্রিদের স্টেডিয়ামটি মাঠের উপরের অংশ খোলা উপবৃত্তাকার, যেখানে কোন সুচালো কোণ নেই।

মাদ্রিদের কোনো ম্যাচ হয়নি
গত ৮ থেকে ২১ অক্টোবরের মধ্যে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ কোন ম্যাচ খেলেনি, যখন এই কল্পিত বিক্ষোভটি ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছিল (আর্কাইভ লিংক)। দলটি ৮ অক্টোবর স্প্যানিশ লা লিগা চ্যাম্পিয়নশিপ সিরিজের ম্যাচে রিয়াল সোসিয়েদাদের বিরুদ্ধে তার হোম স্টেডিয়ামে খেলে।
এরপর ২১ অক্টোবর স্পেনের ভিগোর এস্তাদিও ডি বালাইডোসে সেল্টা ভিগোর বিপক্ষে আবার মাঠে নেমেছিলো দলটি।
গত ২৫ অক্টোবর, গ্ল্যাসগোতে ইউরোপীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (UEFA) চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইউনিয়নে সেল্টিক ফুটবল ক্লাবের সাথে খেলেছিল অ্যাটলেটিকো। ওই ম্যাচে খেলোয়াড়রা "যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত সকলের প্রতি শ্রদ্ধা ও সমর্থন জানিয়ে" কালো আর্মব্যান্ড পড়েছিল বলে জানিয়েছে স্কটিশ ক্লাবটি।
সংঘাতের সাথে সম্পৃক্ত কোনো ব্যানার সেল্টিক পার্কে প্রদর্শন না করার অনুরোধ থাকা সত্ত্বেও সমর্থকরা ম্যাচ চলাকালীন হাজার হাজার ফিলিস্তিনি পতাকা উড়িয়েছে। দর্শণার্থীরা ওই নির্দেশনা ভঙ্গ করায় ক্লাবটিকে দুই বার জরিমানা করে উয়েফা (আর্কাইভ লিংক)।
ওই ম্যাচ নিয়ে এএফপির প্রকাশিত ছবিতে দেখায়, গ্লাসগোতে কিছু ভক্ত ফিলিস্তিনি পতাকা তুলে ধরেছেন, কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়াতে বিভ্রান্তিকর দাবিতে ছড়ানো ছবির মতো অতোটা বিশাল আকারে ছিলো না সেটি।

ইসরায়েল-ফিলিস্তিনি সংঘাত সম্পর্কিত বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্যের নিয়ে এএফপির আরও কিছু প্রতিবেদন দেখুন এখানে।
এমন কোনো কন্টেন্ট আছে যা আপনি এএফপি’কে দিয়ে ফ্যাক্ট চেক করাতে চান?
আমাদের সাথে যোগাযোগ