
এটি নবী মুহাম্মদের কন্যার বাড়ির ছবি নয়
- নিবন্ধটি এক বছর পুরনো
- প্রকাশিত 27 এপ্রিল 2023, 16:26
- 2 এক্স মিনিটে পড়ুন
- লেখক: এএফপি বাংলাদেশ
কপিরাইট © এএফপি ২০১৭-২০২৫। এই কন্টেন্টের যেকোন বানিজ্যিক ব্যবহারের জন্য অনুমতি নেয়া বাধ্যতামূলক। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।
গত ১২ এপ্রিল ছবিটি ফেসবুকে এখানে পোস্ট করে ক্যাপশন দেয়া হয়েছে: "হযরত মুহাম্মদ(সাঃ) এর আদরের কন্যা। জান্নাতি নারীদের সর্দারীনি মা ফাতেমার বাড়ি।"
ছবির মধ্যেও বাংলায় লেখা রয়েছে: "মা ফাতেমার বাড়ি, প্রথম বার দেখলে আমিন"।

ঐতিহাসিক তথ্য মতে, নবী মুহাম্মদ ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে পবিত্র মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন যা বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থিত (আর্কাইভ লিংক)। তার কন্যা ফাতিমাকে মুসলিমরা 'জান্নাতের নারীদের নেত্রী" হিসেবে সম্মান করে থাকেন (আর্কাইভ লিংক)।
ছবিটি একইরকম দাবি সহকারে এখানে এবং এখানেও শেয়ার করা হয়েছে।
তবে ছবিটি তুরস্কে তোলা এবং বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন দেশটিতে কখনো নবী বা তার কন্যা বাস করেছেন বা ভ্রমণ করেছেন এমন কোন ঐতিহাসিক প্রমাণ পাওয়া যায় না।
তুর্কি মৌচাকঘর
গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে একই ছবির একটি বড় এবং উল্টানো সংস্করণ যুক্তরাষ্ট্রের জিওনের চার্চ অব ক্রাইস্টের এই ওয়েবসাইটে পাওয়া গেছে (আর্কাইভ লিংক)।
চার্চের একজন ধর্মপ্রচারক (মিনিস্টার) ডেভিড প্যাডফিল্ড এএফপিকে জানিয়েছেন তিনি ২০০৭ সালে তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলের শহর হারানে ছবিটি তুলেছেন।
"এই এলাকাটি ইব্রাহিম নবীর সাথে সম্পর্কিত বলে খ্রিষ্টাদের বাইবেল এবং কোরআনে উল্লেখ রয়েছে", বলেছেন প্যাডফিল্ড।
নীচে বিভ্রান্তিকর ফেসবুক পোস্টে ব্যবহৃত ছবি যা এএফপি উল্টো করে ব্যবহার করেছে (বামে) এবং চার্চের ওয়েবসাইটে পাওয়া ছবির (ডানে) তুলনামূলক স্ক্রিনশট দেয়া হল:

প্যাডফিল্ড একই রকম ঐতিহ্যবাহী মৌচাকঘরের আরও কয়েকটি ছবি-- যার কয়েকটি ভিন্ন এঙ্গেল থেকে তোলা-- তার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছেন (আর্কাইভ লিংক)।
একাধিক ফটোস্টক ওয়েবসাইটে প্রায় একই রকম দেখতে মৌচাকঘরের ছবি পাওয়া যায় যেগুলোর অবস্থান তুরস্কের হারান শহর বলে ক্যাপশনে উল্লেখ রয়েছে।
ইসলামের ইতিহাসের পণ্ডিতরা এএফপিকে জানিয়েছেন নবী মুহাম্মদ বা তার কন্যা কখনো তুরস্ক সফর করেছেন বলে কোন তথ্য তারা ইতিহাসে পাননি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, "মুহাম্মদ (স) বা তার কন্যা ফাতিমা কখনো তুরস্কে স্বশরীরে উপস্থিত ছিলেন বা বাস করেছেন এমন কোন রেকর্ড ইতিহাসে নেই।"
আমেরিকা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিট উপাচার্য এবং ইসলামের ইতিহাসের অধ্যাপক আতাউর রহমান মিয়াজীও এএফপিকে বলেছেন যে, বিশ্বাসযোগ্য কোন সূত্র থেকে নবীর এবং তার কন্যার তুরস্কে অবস্থানের তথ্য পাওয়া যায় না।
"কোন গ্রহণযোগ্য সূত্র থেকে এমন কোন কিছু আমি কখনো পাইনি।"
এমন কোনো কন্টেন্ট আছে যা আপনি এএফপি’কে দিয়ে ফ্যাক্ট চেক করাতে চান?
আমাদের সাথে যোগাযোগ