‘মরিচের গুড়া ১ মিনিটে হৃদরোগ সারিয়ে তোলে' মর্মে ভুয়া টোটকা ফেসবুকে ভাইরাল

  • নিবন্ধটি এক বছর পুরনো
  • প্রকাশিত 26 এপ্রিল 2023, 09:36
  • 1 এক্স মিনিটে পড়ুন
  • লেখক: এএফপি বাংলাদেশ
ফেসবুকে বেশ কিছু পোস্টে অসত্যভাবে দাবি করা হচ্ছে যে, গরম পানি ও মরিচের গুড়ার মিশ্রণ দিয়ে মাত্র এক মিনিটে হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিকে সুস্থ করে তোলা সম্ভব। কিন্তু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এএফপিকে বলেছেন, এই দাবির কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এছাড়া যথাযথ চিকিৎসার বদলে এই পদ্ধতি অবলম্বন করলে রোগীর জন্য তা ক্ষতিকর হতে পারে।

গত ২৪ মার্চের একটি ফেসবুক পোস্টে একটি পোস্টারে লেখা রয়েছে, “৬০ সেকেন্ডেই জীবন বাঁচাবে মরিচের গুড়া।”

“একটি গ্লাসে পানি নিন। এতে কিছু পরিমাণ মরিচের গুড়া নিয়ে নাড়ুন। অবশ্যই মনে রাখতে হবে, মিশ্রনটি এমনভাবে করতে হবে যেন অনেক বেশি ঝাল লাগে। এরপর মিশ্রনের কয়েক ফোটা হৃদরোগ আক্রান্ত ব্যক্তির জিহবার নীচে দিয়ে মুখে দিন। আপনার কাজ শেষ। ৬০ সেকেন্ডের মধ্যে দেখবেন হৃদরোগ আক্রান্ত ব্যক্তি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।”

Image
( Mohammad MAZED)

দাবিটি ফেসবুকে এখানেএখানে পোস্ট করা হয়েছে।

তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এএফপিকে বলছেন যে, দাবিটি অসত্য এবং এই পদ্ধতি সম্ভাব্য ক্ষতিকর।

“বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই”

ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের সিনিয়র কার্ডিয়াক নার্স রুথ গস এএফপিকে বলেন, হৃদরোগে আক্রান্ত কাউকে পানির সাথে মরিচের গুড়া দিলে কোন উপকার হবে না।

তিনি বলেন, “রক্ত জমাট বেঁধে হার্টের মাংসপেশীতে রক্ত সঞ্চালন বাধাগ্রস্ত হলে সেটাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে হার্ট অ্যাটাক বলা হয়।”

“হার্টের মাংসপেশীতে রক্ত সঞ্চালন করতে এই রক্তের জমাট বাধা যত দ্রুত সম্ভব দূর করতে হবে। পানির সাথে মরিচের গুড়া মিশিয়ে পান করলে তা এক্ষেত্রে কোন কাজে আসবে না।”

আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের ন্যাশনাল কমিউনিকেশন্সের সিনিয়র ম্যানেজার ক্যাথি লিউসও বলেন, এই দাবির কোন সত্যতা নেই।

লিউস এএফপিকে বলেন, “হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ আছে এমন কারো দ্রুত মেডিক্যাল সহায়তা নিতে হবে।”

জেনেভা ভিত্তিক ওয়ার্ল্ড হার্ট ফেডারেশনের একজন কর্মকর্তা এএফপকি বলেন, “হার্ট অ্যাটাক হওয়া কারো পানির সাথে মরিচের গুড়া মিশিয়ে পান করে কোন উপকার হওয়ার কোন ভিত্তি নেই।”

“বরং এতে রোগীর চিকিৎসা পাওয়া বিলম্বিত হয়ে তার জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। হার্ট অ্যাটাক হলে যে কারো অতি দ্রুত মেডিক্যাল সহায়তা নিতে হবে।”

এমন কোনো কন্টেন্ট আছে যা আপনি এএফপি’কে দিয়ে ফ্যাক্ট চেক করাতে চান?

আমাদের সাথে যোগাযোগ