
পঞ্চগড়ে সহিংসতার ঘটনায় আহত ব্যক্তি নিজেই খণ্ডালেন তার মৃত্যুর গুজব
- নিবন্ধটি এক বছর পুরনো
- প্রকাশিত 13 মার্চ 2023, 12:53
- 2 এক্স মিনিটে পড়ুন
- লেখক: এএফপি বাংলাদেশ
কপিরাইট © এএফপি ২০১৭-২০২৫। এই কন্টেন্টের যেকোন বানিজ্যিক ব্যবহারের জন্য অনুমতি নেয়া বাধ্যতামূলক। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।
গত ৪ মার্চ ফেসবুকে এখানে একটি ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে: "আরো একভাই শহিদ হলো।"
ছবি চোখবন্ধ অবস্থায় দেয়ালে হেলান দিয়ে বসে থাকা এক তরুণের ছবির পাশে লেখা রয়েছে: ""পঞ্চগড়ে কাদিয়ানী বিরোধী আন্দোলনে আরো একজন শহীদ। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাইহি রাজিউন। রাব্বে কারীম এই ভাইকে জান্নাতে সুউচ্চ মাক্বাম দান করুন। আমীন।"

'কাদিয়ানী' শব্দটি বাংলাদেশে আহমদিয়া সম্প্রদায়ের লোকজনকে বুঝাতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে যাদেরকে মুলধারার মুসলমানরা 'কাফির' বলে মনে করেন।
গত ৩ মার্চ পঞ্চগড়ে আহমদিয়া সম্প্রদায়ের সমাবেশের বিরুদ্ধে স্থানীয় মুসলমানদের বিক্ষোভে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করলে অন্তত একজন মারা যান। এসময় আহমদিয়াদের বেশ কিছু বাড়িঘরে হামলা ও আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে।
আহমদিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের মুখপাত্র আহমদ তাবসির চৌধুরী জানিয়েছিলেন, সংঘর্ষে তাদের সম্প্রদায়ের একজন সদস্যও নিহত হয়েছেন। যদিও পুলিশ তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেনি।
নিহত দুই ব্যক্তির নাম স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এদের মধ্যে একজন আরিফুল হক যিনি স্থানীয় সুন্নী মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের এবং অন্যজন জাহিদ হাসান যিনি আহমদিয়া সম্প্রদায়ের সদস্য।
সহিংসতার পরে মোহাম্মদ রিফাত আঞ্জুমের ছবি কিছু ফেসবুক পোস্টে ছড়িয়ে পড়ে এবং এসব পোস্টে দাবি করা হয় তিনি সহিংসতায় মারা গেছেন।
এই অসত্য তথ্যসহ ছবিটি ফেসবুকে এখানে, এখানে ও এখানে এবং টুইটারে এখানে পোস্ট করা হয়।
এএফপি রিফাত আঞ্জমের ফেসবুক প্রোফাইলের সন্ধান পেয়েছে।
ফেসবুকে কীওয়ার্ড সার্চ করে রিফাতের আহত অবস্থার আরেকটি ছবি খুঁজে পেয়েছে, যার সাথে ভাইরাল পোস্টগুলোতে ছড়ানো ছবির মিল রয়েছে।

রিফাত আঞ্জুমের ফেসবুক প্রোফাইলে সহিংসতার ৩ দিন পর গত ৬ মার্চ একটি পোস্ট দিয়ে নিজের মৃত্যুর গুজব খণ্ডন করেন।
তিনি লিখেছেন: "ভাই আমি সুস্থ আছি, পঞ্চগড়ে আমাকে নিয়ে অনেক গুজব ছড়ানো হচ্ছে ! গতকাল ঢাকায় 5/3/2023 আমার অপারেশন করানো হয় আর এখন আমি আলহামদুলিল্লাহ সুস্থ আছি! দয়াকরে আমার নামে গুজব ছড়াবেন না!"
তার বাবা জামিরুল ইসলাম এএফপিকে বলেছেন, মৃত্যুর গুজব সম্বলিত ফেসবুক পোস্টের সাথে শেয়ার করা ছবিতে দেখা যাওয়া ব্যক্তিটি তার ছেলে। তিনি জানান, রিফাত চিকিৎসাধীন আছেন।
গত ১০ মার্চ রিফাত এএফপিকে বলেন, সংঘর্ষের সময় তার চোখে মারাত্মক আঘাত লেগেছে যা থেকে তিনি এখন সেরে উঠছেন।
"আমার চোখে অপারেশন হয়েছে এবং এখন ভালো বোধ করছি। ডাক্তাররা বলেছেন পুরোপুরি সেরে উঠতে অনেক সময় লাগবে", বলেছেন রিফাত।
এমন কোনো কন্টেন্ট আছে যা আপনি এএফপি’কে দিয়ে ফ্যাক্ট চেক করাতে চান?
আমাদের সাথে যোগাযোগ