পুরনো ভিডিওকে ২০২৩ সালে তুরস্কে সংঘটিত ভুমিকম্পের বলে প্রচার

  • নিবন্ধটি এক বছর পুরনো
  • প্রকাশিত 28 ফেব্রুয়ারি 2023, 14:02
  • 2 এক্স মিনিটে পড়ুন
  • লেখক: এএফপি বাংলাদেশ
সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও বিভ্রান্তিকরভাবে শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে এটি তুরস্ক ও সিরিয়ায় সংঘটিত সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের সময় একটি তুর্কি পরিবারের শেষ মুহুর্তের ভিডিও। মূলত ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে তুরস্কের এলাজিগে সংঘটিত এক ভুমিকম্পের পর ভিডিওটি প্রথম প্রকাশিত হয়। এটি নিহত ও আহতদের সম্মানে স্পেশাল ইফেক্টের মাধ্যমে ভিডিওটি তৈরি করা হয়।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি ফেসবুকে এখানে ভিডিওটি শেয়ার করা হয়।

পোস্টটির বাংলা ক্যাপশনে লেখা রয়েছে, “একটি তুর্কি পরিবারের ভুমিকম্পের সময় শেষ মুহূর্তের ভিডিও।”

Image
( Mohammad MAZED)

গত ৬ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ-পূর্ব তুরস্ক ও উত্তর সিরিয়া অঞ্চলে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ৪৫ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

ভিডিওটি একইরকম দাবি সহকারে ফেসবুকে এখানে এখানে শেয়ার করা হয়।

টিকটক ভিডিও

গুগল রিভার্স ইমেজ সার্চে দেখা যায় এই ভিডিওটি ২০২০ সালের ২৭ জানুয়ারি টিকটকে পোস্ট করা হয়।

পোস্টটির ক্যাপশনে লেখা রয়েছে, “ভূমিকম্পে যারা বেঁচে গেছেন তাদেরকে আল্লাহ ধৈর্য্য দান করুন এবং যারা নিহত হয়েছেন তাদেরকে জান্নাত দান করুন।”

টিকটক ভিডিওটি পোস্ট করার ৩ দিন আগে পূর্ব তুরস্কের এলাজিগে ৬.৮ মাত্রার এক ভূমিকম্পে অন্তত ৪১ জন নিহত হন।

নীচে বিভ্রান্তিকর পোস্টের ভিডিও (বামে) ও টিকটিক ভিডিওটির (ডানে) একটি তুলনামূলক স্ক্রিনশট দেওয়া হলো:

Image

ভিডিওটি সেলিজিন ফ্যামিলি নামক একটি টিকটক অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা হয়।

এএফপি এই অ্যাকাউন্টের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়া টুডের একটি প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে যে, কিভাবে স্পেশাল ইফেক্টস দিয়ে বানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, রুমের সিলিং থেকে ভেঙ্গে গুড়া পড়লেও তা নীচের সোফার উপর পড়েনি। তাছাড়া পরিবারটির সদস্যদের রঙ্গীন কাপড়েও কোন ধ্বংসাবশেষের দাগ দেখা যায়নি।

এর পাশাপাশি ইন্ডিয়া টুডে এই পরিবারটির পোস্ট করা একটি ইউটিউব ভিডিও খুঁজে পেয়েছে যেখানে বোঝা যাচ্ছে ভিডিওটি মূলত বানানো।

ইউটিউব ভিডিওটিতে টিকটক ভিডিওর একইরকম দৃশ্য দেখা যায়, তবে ইউটিউব ভিডিওটির শেষে দেখা যায় মেঝেতে এক ব্যক্তি ও এক ছেলে কুশনের উপর শুয়ে আছেন তবে তাদের গায়ে কোন ধ্বংসস্তুপের চিহ্ন নেই।

Image

এমন কোনো কন্টেন্ট আছে যা আপনি এএফপি’কে দিয়ে ফ্যাক্ট চেক করাতে চান?

আমাদের সাথে যোগাযোগ