নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী ইয়োশিনোরি অসুমি ক্যান্সার নিরাময়ে রোজা রাখার পরামর্শ দেননি

কপিরাইট এএফপি ২০১৭-২০২২। সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত।

ফেসবুকে শত শত পোস্টে একটি দাবি করা হচ্ছে যে, ২০১৬ সালে চিকিৎসায় নোবেল বিজয়ী জাপানের বিজ্ঞানী ইয়োশিনোরি অসুমি ক্যান্সার নিরাময়ের জন্য রোজা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে এএফপি অসুমির এরকম কোন মন্তব্যের প্রমাণ পায়নি। কয়েকজন চিকিৎসা বিজ্ঞানী এএফপিকে জানিয়েছেন, রোজা রাখলে ক্যান্সার নিরাময় হওয়ার কোন প্রমাণ তারা পাননি। বরং উপবাস করাকে ক্যান্সার নিরাময়ের উপায় মনে করাটা রোগীর জন্য ক্ষতিকর কারণ হতে পারে।

গত ৯ এপ্রিল ফেসবুকে এখানে পোস্টটি শেয়ার করা হয়।

পোস্টটিতে অসুমির একটি ছবি সংযুক্ত আছে।

পোস্টটির ক্যাপশনে লেখা রয়েছে: “জাপানি নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী উসেনরি ওসমি। তিনি গবেষণা ও আবিষ্কার করেন যে, ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টা রোজা রাখলে মানুষের দেহে অটোফেজি (Auto phazy) চালু হয়। Auto phazy শব্দটি একটি গ্রিক শব্দ। Auto অর্থ নিজে নিজে এবং phazy অর্থ খাওয়া। অর্থাৎ নিজে নিজেকে খাওয়া। শরীরের কোষগুলো বাইরে থেকে খাবার না পেয়ে যখন নিজের অসুস্থ্য কোষগুলো খেতে শুরু করে তখন মেডিকেল সাইন্স এর ভাষায় তাকে autophazy বলা হয়। শুধু মাত্র এই জিনিসটা আবিষ্কার করে উসেনোরি ওসোমি ২০১৬ সালে নোবেল পুরস্কার পান। তিনি প্রমাণ করেন যে, রোজা রাখার মাধ্যমে মানুষ নিন্মুক্ত উপকারগুলো পান।”

“১) দেহের সেল পরিস্কার হয়।
২) ক্যান্সার সেল ধ্বংস হয়।
৩) পাকস্থলীর প্রদাহ সেরে যায়।
৪) ব্রেইনের কার্যকারিতা বাড়ে।
৫) শরীর নিজে নিজেই সেরে যায় ( Autophazy)।
৬) ডাইয়াবেটিস ভালো হয়।
৭) বাধ্যর্ক রোধ করা যায়।
৮) স্থুলতা দূর হয়।
৯) দীর্ঘ জীবন লাভ করা যায়।
১০) মানুষ ও জীবের প্রতি সহানুভূতি জন্মায়।”

( Mohammad MAZED)

২০১৬ সালে অটোফেজিতে গবেষণার জন্য অসুমি চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পান। অটোফেজিতে মানবদেহের “একটি কোষ অপর কোষকে খেয়ে ফেলে”।

দেহের ক্ষতিগ্রস্ত কোষের পুনর্ব্যবহার এর জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ এবং তা না করতে পারলে বয়োবৃদ্ধি ও কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে।

ভাইরাল হওয়া পোস্টের দাবিটি ফেসবুক এখানে এবং এখানেও শেয়ার করা হয়েছে।

তবে দাবিটি অসত্য।

অসুমির কর্মস্থল টোকিও ইন্সটিটিউটি অব টেকনোলজির জনসংযোগ কর্মকর্তা গত ২৭ অক্টোবর এএফপিকে জানান, রোজায় ক্যান্সার নিরাময় হয়- এমন কোন মন্তব্য করেননি অসুমি।

রোগীদের জন্য ক্ষতিকর

এএফপি কয়েজকন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাথেও কথা বলেছে এবং তারা জানিয়েছেন ক্যান্সার রোগীদের জন্য রোজা রাখার কোন পরামর্শ দেয়া হয় না।

ফ্রেঞ্চ ন্যাশনাল সেন্টার ফর সায়েন্টিফিক রিসার্চের অটোফেজির গবেষক লুসি এসপার্ট গত ৬ অক্টোবর এএফপিকে বলেন, “একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অনাহার শরীর কোন অঙ্গের ক্ষতি করবে না এবং অটোফেজির সৌজন্যে বলা যায় এটি নেতিবাচক কিছু নয়।”

“তবে এটি রোগ নিরাময় করে ফেলবে এটা বলাটা বিপদজনক।”

মন্টেপিলিয়ার ইউনিভার্সিটি হসপিটালের পুষ্টি বিশেষজ্ঞ লরেন্ট শিভেলার গত ৬ অক্টোবর এএফপিকে বলেন, “অনকোলজিতে রোগী দ্রুত অপুষ্টির শিকার হন।”

“যখন আপনি অপুষ্টিতে থাকবেন তখন স্বাস্থ্যের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে।”

ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি অব লুভেইন এর অধ্যাপক পিয়েরে সনভক্স এএফপিকে একই দিনে বলেন, “ক্যান্সার রোগীদের ডায়েট পরিবর্তন না করা উচিত।”

“আপনি যদি ডায়েট পরিবর্তন করতেই চান সেক্ষেত্রে আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলতে হবে।”