
ভিডিওটি ইরান ইস্যুতে প্রতিবাদের, বার্মিংহামে মন্দিরে হামলাকারীর উপর হিন্দুদের আক্রমণের নয়
- নিবন্ধটি এক বছর পুরনো
- প্রকাশিত 17 অক্টোবর 2022, 14:22
- 2 এক্স মিনিটে পড়ুন
- লেখক: এএফপি বাংলাদেশ
কপিরাইট © এএফপি ২০১৭-২০২৫। এই কন্টেন্টের যেকোন বানিজ্যিক ব্যবহারের জন্য অনুমতি নেয়া বাধ্যতামূলক। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।
ভিডিওটি গত ৭ অক্টোবর ফেসবুকে এখানে শেয়ার করা হয়।
পোস্টটির বাংলা ক্যাপশনে লেখা রয়েছে: “কিছুদিন আগে ইংল্যান্ডের বার্মিংহামের মন্দিরে হামলাকারী মহম্মদ রিজওয়ানকে ব্রিটিশ পুলিশ থানা থেকে কোর্টে নিয়ে যাচ্ছিল, আর সেই খবর ওখানকার হিন্দুদের কাছে পৌছে যায়...... ব্যস্.........!”
“কি হলো এর পরে......এবার আপনারাই দেখে নিন নিজ চোখে . . . . . .ভালো করে কুটে দিয়েছে প্রবাসী হিন্দুরা, যা দেখে ব্রিটিশ পুলিশও বিস্মিত হয়ে যায়।”
“জাগছে জাগছে, ভারতীয় হিন্দুদের সাথে সাথে সমগ্র বিশ্বের হিন্দু সনাতনীরা জেগে উঠেছে।”

দুই মিনিট ১৮ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে দেখা যায় এক ব্যক্তির উপর একদল লোক কিছু বস্তু ছুড়ে মারছেন এবং পুলিশ সেই ব্যক্তিকে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাজ্যে সম্প্রতি হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টির পর ভিডিওটি অনলাইনে ছড়ায়।
ব্রিটেনের দ্য গার্ডিয়ানের খবর অনুযায়ী, ইংল্যান্ডের লেস্টারে সৃষ্ট উত্তেজনায় মসজিদ ও মন্দিরের মতো ধর্মীয় স্থাপনায় হামলা হয়েছে।
ভিডিওটি একইরকম দাবি সহকারে ফেসবুকে এখানে ও এখানে শেয়ার করা হয়।
তবে দাবিটি অসত্য।
ইরানী দূতাবাসের পাশে বিক্ষোভ
গুগল কীওয়ার্ড সার্চে ইরানের ২২ বছর বয়সী মাশা আমিনীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে লন্ডনে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদের গত ২৮ সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলিয়ান সংবাদমাধ্যম নিউজ ডট কমে প্রকাশিত একটি খবর পাওয়া যায়।
গত সেপ্টেম্বরে ইরানে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার তিন দিন পর আমিনী মারা গেলে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
নিউজ ডট কমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিডিওটি লন্ডনে ইরান দূতাবাসের উত্তরে কিলবার্নের পাশে একটি বিক্ষোভের।
প্রতিবেদনটিতে ভিডিওটির কয়েকটি স্ক্রিনশট ব্যবহার করা হয়েছে এবং পূ্র্ণ ভিডিও সম্বলিত একটি টুইট এমবেড করা আছে।
নীচে বিভ্রান্তিকর পোস্টের ভিডিও (বামে) ও নিউজ ডট কমে প্রকাশিত ভিডিওর (ডানে) একটি তুলনামূলক স্ক্রিনশট দেওয়া হলো:

ভিডিওটির দৃশ্যের সাথে গুগল স্ট্রিট ভিউয়ে পাওয়া মেইডা ভ্যালের দৃশ্যের মিল পাওয়া যায়।
নীচে বিভ্রান্তিকর পোস্টের ভিডিও (বামে) ও গুগল স্ট্রিট ভিউয়ের (ডানে) একটি তুলনামূলক স্ক্রিনশট দেওয়া হলো:

লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে , মেইডা ভ্যালেতে যাওয়ার সময় ইরান দূতাবাসের পাশে উত্তেজনাটি সৃষ্টি হয়। মেইডা ভ্যালেতে অবস্থিত লন্ডন ইসলামিক সেন্টার এখানে টার্গেট ছিল।
পুলিশ জানায়, তারা ভবনটিকে হামলার হাত থেকে বাঁচাতে সমর্থ হন তবে পুলিশের কর্মকর্তাদেরকে পরে টার্গেট করা হয়।
বিবিসি এবং এলবিসি তে সংঘর্ষটির খবর এসেছে।
গত ১১ সেপ্টেম্বর পুলিশের এক মুখপাত্র এএফপিকে বলেন, “গত ২৫ সেপ্টেম্বর ইরান দূতাবাসের পাশে সৃষ্ট এই সংঘর্ষের ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।”
এমন কোনো কন্টেন্ট আছে যা আপনি এএফপি’কে দিয়ে ফ্যাক্ট চেক করাতে চান?
আমাদের সাথে যোগাযোগ